স্নেহা মুখার্জী অধ্যায় ১: আগমন পৃথিবীতে কিছু আগমন নিতান্তই ঘটনাক্রম নয়, বরং পূর্বনির্ধারিত ছক, যা কারও অজান্তে বুনে চলে ভাগ্যের জাল। অরিন্দম মুখার্জির শান্তিনিকেতনে আগমন তেমনই এক আগমন। আপাতদৃষ্টিতে গবেষণার জন্য শান্ত, নির্জন পরিবেশে এসে লোকসাহিত্য নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যে এসেছেন তিনি, কিন্তু বাস্তবে—এই যাত্রা ছিল অতীতের একটি অসমাপ্ত অধ্যায়ের টান। এক মেঘলা শরতের দুপুর। খোলা রিকশায় বসে অরিন্দম শান্তিনিকেতনের দিকে এগোচ্ছে। রাস্তার ধারে লালমাটির পথ, পাশে শাল-পলাশের অরণ্য, মাঝে মাঝে কাঁঠালের গন্ধ ভেসে আসে বাতাসে। আকাশে রোদ-আলোর সঙ্গে মিশে আছে হালকা কুয়াশা, যেন প্রকৃতিই কিছু লুকিয়ে রেখেছে। রিকশাওয়ালা জিজ্ঞাসা করল, — “আপনার বাড়ি কোথায়, বাবু?” — “কলকাতা। তবে এখন…
-
-
Arjun Sharma Part 1: The Letter in the Attic The hills of Ranikhet were wrapped in their usual mist, like a half-remembered dream refusing to fade with morning light. Anaya Mehra sat in the back of the shared taxi, her fingers clenched around the strap of her leather sketchbook bag. The sharp scent of pine mixed with damp earth rushed in through the half-open window, unfamiliar yet oddly calming. It had been ten years since she last came here — as a teenager, arms crossed in rebellion, dragged by her parents to visit her grandmother. Now, she returned alone, thirty…
-
১ বৃষ্টির রাত। এমন এক বৃষ্টি, যা যেন শুধু রাতের নীরবতা চুরমার করে দিতে আসে। সরলা দেবী জানালার পাশে বসে পুরনো কাঠের দোলনায় আস্তে আস্তে দুলছেন। তাঁর সামনে ছোট টেবিলে রাখা একটি মাটির প্রদীপ টিমটিম করে জ্বলছে, এবং তার পাশে রাখা একটি ফ্রেম করা ছবি—অমিতের, তাঁর একমাত্র ছেলে, যিনি গত তিন বছর আগের এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এখনো সেই দিনটার কথা ভাবলে সরলার বুকের মধ্যে একধরনের ঠান্ডা ঢেউ খেলে যায়। ছেলের শেষ জন্মদিনের সময় তোলা ছবি—চোখে হাসি, মুখে আত্মবিশ্বাস, যেন বলছে, “মা, আমি আছি তো!” অথচ সেই হাসির পেছনে কি লুকিয়ে ছিল কোনো গোপন কথা? কিছুদিন ধরে সরলার মনে…
-
ঋতুপর্ণা দাশগুপ্ত এক ট্রেনের জানালা দিয়ে ভোরের আলো ঢুকে পড়েছিল দু’জনের নীরব কামনাভেজা মনোভারতিতে। শহরের ঘুমন্ত রাস্তাগুলো পেছনে ফেলে আদ্রিত ও ঋদ্ধিমা একটানা তাকিয়ে ছিল বাইরে, কুয়াশায় মোড়া মাঠ, তালগাছ, আর দূরের গ্রামের ঘরগুলোর দিকে। আদ্রিত জানালার ধারে বসে, চোখে একটা অদ্ভুত প্রশান্তি নিয়ে, হালকা হাসি খেলিয়ে বলেছিল, “তুই জানিস, শহরের ভিড়ে আমরা যেটা খুঁজি, সেটা আসলে কোথাও বাইরের নয়—ভেতরের।” ঋদ্ধিমা তার পাশে হেলান দিয়ে চোখ বুজে ছিল, তার বুকের সঙ্গে ঠেকেছিল ব্যাগের চেইনে ঝুলে থাকা একটা ছোট্ট রুদ্রাক্ষ। সে কিছু বলেনি, শুধু আদ্রিতের হাত ধরে রেখেছিল নরমভাবে, যেন শব্দহীন বিশ্বাস। তাদের মধ্যে এমনিতেই বেশি কথা হয় না—একটা চাহনি, একটুখানি…
-
Aparajita Tiwari One The train to Prayagraj rolled into the station just before dawn, its rusted wheels screeching softly against the tracks as if whispering secrets to the holy city. Nandita Mukherjee stepped out, clutching her leather satchel and the fading warmth of a voice note from her brother, Neel. It was barely thirty-six seconds long—his voice low, deliberate, and edged with urgency. “They’re watching me… The third dip is a front. Too many missing faces. If anything happens…” Then silence. No location. No follow-up. Just those words, haunting and cryptic. The air smelled of smoke, camphor, and wet earth…
-
ছত্তিসগড়ের গভীর জঙ্গলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় সন্ধ্যা নেমে এসেছে। চারদিকটা যেন অদৃশ্য কোনো চাপা রহস্যে ঘেরা—গা ছমছমে নিরবতা, ঘন কুয়াশা আর মাঝে মাঝে শোনা যায় অজানা পাখির ডানার শব্দ। ডঃ নীলয় সেনগুপ্ত, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান, জিপ থেকে নেমেই চারপাশটা একবার ঠান্ডা চোখে স্ক্যান করলেন। পিছনে তাঁর দলের বাকি সদস্যরা: তরুণ তথ্যচিত্র নির্মাতা অরিন্দম পাল, প্রত্নতাত্ত্বিক চিত্র বিশারদ ডঃ শ্রুতি দত্ত, ইতিহাসের গবেষক তনুশ্রী মুখার্জী এবং স্থানীয় গাইড兼ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট রাহুল কোসলে। তাঁরা আজ যে জায়গায় এসে পৌঁছেছেন, তার হদিশ পেয়েছিলেন কিছু দুর্লভ আদিবাসী নকশা বিশ্লেষণ করে। কথিত আছে, এই নির্জন জঙ্গলের মধ্যেই আছে এক প্রাচীন মন্দির, যার অবস্থান এতদিন…
-
Krishnan Iyer 1 The coastal air of Fort Kochi carried a certain salt-heavy stillness that morning, interrupted only by the frantic footsteps of an old caretaker rushing through the arched corridors of St. Francis Church. Sunlight filtered lazily through stained glass, casting jewel-toned halos on the ancient tiled floor as birds fluttered from the rafters. The caretaker, Murali, breathless and trembling, pointed to the raised altar where a priceless relic once stood — the intricately carved Pietà, gifted by Dutch colonists in the 17th century, now gone without a trace. No broken locks, no forced doors, not even a footprint…
-
সুদীপ্ত ঘোষাল ১ রবিবার সকালে কলকাতার বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের শেষ প্রান্তে ঘোষ ভিলার ছাদে সূর্যের আলোর ঝলকানি তখনও পুরোপুরি পড়েনি। শীতকালীন সকালের ধোঁয়াটে আলোয় ভরে উঠছিল গৃহপ্রাঙ্গণ, বাতাসে ভাসছিল মোরগের ডাক ও কাজের লোকেদের হাঁকডাক। ঘরের মধ্যে তখন সকালের চায়ের ট্রে নামিয়ে রাখছিল রাঁধুনি বিনোদিনী, যার হাতে কাঁপুনি ছিল অজানা এক উত্তেজনায়। রূপমবাবু বলেছিলেন আজ একটু আগেই চা দিতে, কারণ তাঁকে ব্যবসার কাজে বেরোতে হবে। সুমিত্রাদেবী নিজের প্রার্থনার ঘরে বসে ছিলেন চোখ বন্ধ করে, ঠাকুরঘরে ধূপের গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছিল। তীর্থবাবু বারান্দায় বসে খবরের কাগজ পড়ছিলেন, পাশেই কটাহারের চা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল কাজের ছেলে মাধব। তবে বাড়ির বড় কর্তা বিজয়চন্দ্র ঘোষ…
-
ঊর্মি ভট্টাচার্য কলেজের ক্যান্টিনটা ছিল একটা ছোট আকারের গম্বুজ ঘর, দেয়ালগুলোয় বহুদিনের ধুলো জমে মাটি রঙ ধারণ করেছিল, আর মাঝখানে কয়েকটা কাঠের বেঞ্চ টেবিল—যেখানে সারাদিন ধরে শব্দের তরঙ্গ আর চায়ের ধোঁয়া মিশে থাকত এক অপূর্ব গন্ধে। দুপুর তখন থমকে থাকা সময়ের মতো, ক্লাস শেষ হয়ে গিয়েছে, ছেলেমেয়েরা যে যার মতো ব্যস্ত। কিন্তু এক কোণে, জানলার ধারে বসেছিল মেয়েটি—সায়নী। গা ছোঁয়া সাদা-ধূসর সালোয়ার, চোখে পাতলা ফ্রেমের চশমা, আর কোলের উপর একটা নীল রঙের ডায়েরি রাখা। তার সামনে রাখা একটা লাল চায়ের কাপ থেকে ধোঁয়া উঠছে, আর সেই ধোঁয়ার ফাঁক দিয়ে সে বাইরে তাকিয়ে—কলেজের পুরনো গাছগুলোর দিকে, যাদের পাতায় তখনো বৃষ্টির জল…
-
পুরুলিয়ার দিকে রওনা দেওয়ার সময় কলকাতার আকাশ ছিল রৌদ্রঝলমলে, কিন্তু দলের ভিতরে যেন এক চাপা উত্তেজনার ঘূর্ণি চলছিল। রুদ্র, অভিজিৎ, ইরা আর সঞ্জনা – এই চারজনের দলটার নেতৃত্বে ছিল রুদ্র, একজন বাস্তববাদী ডকুমেন্টারি নির্মাতা যিনি সব কিছুকে যুক্তির চোখে দেখতে অভ্যস্ত। তবু এই বিশেষ প্রজেক্টটা ছিল অন্যরকম – কারণ এটি ছিল একটি পরিত্যক্ত আদিবাসী গ্রামের লোককাহিনি নিয়ে, যেখানে কথিত আছে, পূর্ণিমার রাতে মৃতরা উঠে আসে মাটির নিচ থেকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা পুরুলিয়ার এক গভীর শালবনের ভেতর অবস্থিত জামদা নামের একটি গ্রামে যাবে – একটি গ্রাম যা দীর্ঘদিন আগে উধাও হয়ে গেছে, যেখানে আর কেউ থাকে না, অথচ গ্রামের গল্প আজও…