অনির্বাণ ঘোষ পর্ব ১ চামেলী মেমসাহেবের বাংলোটা অনেকদিন পর আবার দেখতে এলাম। ঠিক যেমনটা ছোটোবেলায় দাদুর হাত ধরে প্রথম দেখেছিলাম, অনেকটা তেমনই রয়ে গেছে—আধাভাঙা লাল ছাদের দোতলা কাঠের বাড়ি, সামনের দোলা চেয়ারে শিকল পড়ে আছে, বারান্দার রেলিং ধরা ধরেই বুনো লতা উঠে গেছে ছাদের কিনারা ছুঁয়ে। কুয়াশায় মোড়া রাস্তা ধরে গাড়িটা যখন বাঁক ঘুরে বাংলোর সামনে এসে দাঁড়াল, তখন সূর্য পাহাড়ের পেছনে হারিয়ে যেতে বসেছে। জানলা দিয়ে দেখা যাচ্ছে আকাশে একটা ফিকে কমলা রেখা, আর পাখিরা গাছপালা ছেড়ে ফিরে যাচ্ছে কোথাও। আমি অর্ণব, বয়স তিরিশ ছুঁই ছুঁই। কলকাতায় একটা কর্পোরেট কোম্পানিতে চাকরি করি, জীবন বলে কিছু তেমন আর অবশিষ্ট নেই,…
-
-
চন্দ্রবিন্দু সেন পর্ব ১: মালবিকার প্রথম দৃশ্য কলকাতা, ১৮৭৫। গ্রীষ্ম পেরিয়ে বর্ষার কোলে ঢুকে পড়েছে শহর। ঘোড়ার গাড়ির চাকা যখন জমাট জল গলিয়ে এগোচ্ছিল, তখন শ্যামবাজার থেকে জোড়াসাঁকোর দিকে হাঁটছিল এক তরুণ—নীলরুদ্র ঘোষ। সঙ্গীতের জন্য যার হৃদয়ে আগুন, কিন্তু পকেটে পাঁচ পয়সা নেই। তার কাঁধে ছিল এক পুরনো হারমোনিয়াম, হাতে লেপার কাঠির মতো রোল করা একটি পুরনো স্ক্রিপ্ট। আজই প্রথম—সে ডাক পেয়েছে শ্যামল থিয়েটারে—বিখ্যাত নাট্যকার রঘুপতি ঘোষালের নতুন নাটকে গান গাওয়ার সুযোগ। শোনামাত্রই তার মায়ের মুখে ঈশ্বরে বিশ্বাস ফিরেছিল; আর বাবার অভিমানী চোখে একটু গর্বের ঝিলিক উঠেছিল—যেটা হয়ত ছোটবেলায় শেষবার দেখেছিল সে। থিয়েটারটির সদর দরজা কালো কাঠের, নীচে ধুলো জমে…
-
கிருத்திகா சுந்தரம் பருவம் 1: முதல் மழை மழை சின்னச் சின்ன துளிகளாக விழ ஆரம்பித்தபோது, மீரா பஸ் ஸ்டாப் அருகே நின்று கொண்டிருந்தாள். அவளுடைய கருப்பு நீளச்சால்வை புழுங்கி, காற்றில் ஓர் இசை போலே அசைந்தது. கையில் ஒரு பழைய நோட்டு, முகத்தில் ஒரு அலட்சியமான அமைதி. ஆனால் உள்ளுக்குள்ளே மழை இவளுக்கு ஒரு நினைவு போல இருக்கிறது — கடந்த ஐந்து ஆண்டுகளாக அழியாத ஒரு சின்ன அழுத்தம். அதிகாரி அவின் குரல் ரேடியோவில் எதிரொலிக்கையில், அவள் தலையை தூக்கிப் பார்த்தாள். பக்கத்து கடையில் இருந்த ரேடியோவில், அவன் பேசியிருந்தது. “மழை என்றாலே நம்ம ஊரு வாசனை மட்டுமல்ல… சில நினைவுகளும் கூட வருகிறது,” என்ற அவன் குரல் மீராவை சில நொடிய்களுக்கு நிலைத்துவைத்தது. அவின். அந்தப் பெயரை கேட்கும் போதே, அவளது இதயம் ஒரு நிமிடம் துள்ளியது. 2018-ல், கோவை யூனிவர்சிட்டியில் அந்த முதலாம் ஆண்டு தமிழ்…
-
নিলয় সেন পর্ব ১ রুদ্রর চোখে ঘুম নেই। জানলার ফাঁক গলে ঢুকে পড়া মধ্যরাতের নিঃশব্দ হাওয়ায় বুকের ভেতরটা যেন হালকা হালকা ব্যথা করছে। ঘরের অন্ধকারে হঠাৎ চাদরের ভাঁজে শাড়ির পাড় উঁকি দেয়। দেয়ালের ছায়ার মতোই এখনো রয়ে গেছে অনন্যার উপস্থিতি—তার গন্ধ, তার শরীরের ঘাম, চুলের ভেজা ছোঁয়া। এই কক্ষ, এই বিছানা, এমনকি বাতাসও যেন অনন্যায় মাখা। অথচ সে নেই। চলে গেছে কিছুক্ষণের মধ্যেই, যেমনটা সে সবসময় করে। শরীর দেয়, কিন্তু নিজেকে নয়। আর রুদ্র? সে সব জেনে বুঝে তবু বারবার জড়িয়ে ধরে তাকে, যেন আগুনকে ঠোঁটে ছুঁয়ে রাখা যায়। আজ দুপুরে হঠাৎ করেই এসেছিল অনন্যা। দরজায় কোনো শব্দ না করে…
-
সুশ্রী ব্যানার্জী প্রথম পর্ব: চণ্ডীপাঠের রাতে রাত তখন ঠিক পৌনে বারোটা। বীরভূমের কান্দিরবাঁধ গ্রামে সেই রাতে চাঁদের আলো নেই। আকাশে কেবল মেঘ আর মাঝে মাঝে বিদ্যুতের চমক। গ্রামের শেষ মাথার জঙ্গলঘেরা পুরনো ঠাকুরদালানের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ঋজু—কলকাতা থেকে আসা নৃতত্ত্ব বিভাগের গবেষক। তার গবেষণার বিষয়: “বাংলার অন্তর্হিত তান্ত্রিক সম্প্রদায় ও তাদের আধুনিক ছায়া।” গ্রামে ঢোকার পর থেকেই একটা অদ্ভুত গন্ধ টের পাচ্ছে সে। ধূপ আর পোড়া মাটির মিশ্র গন্ধ। বাড়ির বৃদ্ধ জমিদারপুত্র হরিপদবাবু বলেছিলেন, “পৌষ মাসে, চণ্ডীপাঠের রাতে কেউ ওই পুরনো ঠাকুরদালানের পাশে ঘেঁষে না। শুনেছি, এক সময় ওখানে এক তান্ত্রিকের তপস্যা হত। তাকে সবাই ডাকত ‘রক্তনাথ।’ কে জানে, সে…
-
Drishti Mehra Part 1: The Glass Vial The town of Ravenswood had never seen a murder. Not in decades, at least. It was a place where the loudest disturbance was the occasional power outage or Mrs. Langley’s cat climbing the church steeple. So when Dr. Eleanor Reed was found dead in her laboratory one crisp October morning, the town gasped as one. Eleanor wasn’t just any scientist—she was a national treasure, a Nobel hopeful, and the pride of the university. Detective Mason Grant adjusted his coat against the wind as he stood outside the steel-framed research facility nestled at the…
-
পৌলমী দে কলকাতার সেপ্টেম্বরের বিকেলগুলো একটা অদ্ভুত শূন্যতা বয়ে আনে, যেন আকাশও জানে এই শহরে কিছু সম্পর্ক থাকে—অধরা, অনির্ধারিত। স্কুল ছুটি হলে যেমন ছেলেমেয়েরা প্রাণপণে মাঠ ছেড়ে যায় না, তেমনই কিছু বন্ধুত্ব শেষ হতে চায় না, শুধু রূপ বদলায়। আজ মিতুলের স্কুল থেকে ফিরতে দেরি হয়ে গিয়েছিল। তিরিশ পেরোনো মিতুলের জীবনে যেন প্রতিটি দিনই একইরকম—বাচ্চাদের পড়ানো, খাতা দেখা, বাড়ি ফেরা, মা-র সাথে গল্প করা আর নিজের ছোট্ট একাকীত্বের গণ্ডীতে নিজেকে গুটিয়ে রাখা। কিন্তু আজ ফেরার পথে কলেজ স্ট্রিটের কোন এক মোড়ে আচমকাই তার চোখে পড়ল এক চেনা মুখ—অর্পণ। হ্যাঁ, অর্পণ সেন, তার ছেলেবেলার বন্ধু। সেই অর্পণ, যে একসময় নোটবই ধার…
-
ঋষভ চট্টোপাধ্যায় পর্ব ১ পথঘাট যেন ধূলোর স্তুপে ঢাকা পড়ে গেছে। মাথার ওপর রোদের আগুন, পায়ের তলায় খসখসে গরম, আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে ঋদ্ধি—একটি কাপড়ে মুখ বাঁধা, চোখে ভোঁতা সানগ্লাস, কাঁধে বাবার পুরনো হ্যান্ডহেল্ড ডেটা রিডার। আজ ‘ডে-৩৫৫’। টানা ৩৫৫ দিন বৃষ্টি হয়নি। সরকার যাকে বলে “জল-ঘাটতির স্বাভাবিক পর্যায়,” মানুষ তাকে বলে মৃত্যু-সপ্তাহ। কলকাতা এখন আর সেই ছায়াঘেরা গাছতলার শহর নয়। রাস্তায় হাইব্রিড বাস চলে না, ট্রামের ট্র্যাক মরচে পড়ে ঝরে যাচ্ছে। মানুষ জল কিনে খায়, বাতাস ফিল্টার ছাড়া শ্বাস নেওয়া অসম্ভব। সন্ধ্যা নামলেই বন্ধ হয়ে যায় শহরের বিদ্যুৎ। লোডশেডিং এখন আর নিউজে আসে না—এটা এখন স্বাভাবিক। ঋদ্ধির বয়স আঠারো, কিন্তু…
-
সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার শহরে শেষ বিকেলের আলো ম্লান হয়ে আসছে। একটা ছেঁড়া ক্যালেন্ডারে আজকের তারিখটা দেখল শুভ্র। ২০শে জুলাই। বিখ্যাত অ্যাপোলো ১১-র মিশনের দিন। এই দিনটাকেই বেছে নেওয়া হয়েছে ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে বিশেষ প্রদর্শনীর জন্য। নাসা থেকে নিয়ে আসা আসল ‘মুন রক’, অর্থাৎ চাঁদের পাথর। শুভ্র হাতের ক্যামেরাটা ভালোভাবে চেপে ধরল। সাংবাদিকতার জীবনে এমন দিন খুব কম আসে। কলকাতায় চাঁদের পাথর দেখতে এত মানুষের ভিড় দেখে নিজের চোখকেও বিশ্বাস হচ্ছে না ওর। সিকিউরিটির বিশাল ব্যবস্থা। পুলিশের উঁচু অফিসার থেকে সাধারণ দর্শনার্থী—সবাই আসছে দেখতে। “দেখে নে শুভ্র, এই পাথরের জন্য ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছিস তুই,” পেছন থেকে শুভ্রর বন্ধু অর্ণব এসে চাপা…
-
চিন্ময় বৰ্মন ১ গুৱাহাটীৰ সেই পুৱা আছিল অন্যদিনৰ দৰে নহয়—বিহানীয়া বতৰ সুন্দৰ, দীঘলীয়া ওলমা মেঘে কটন কলেজৰ ওপৰত পৰিছলীয়া ৰোদেৰে শেহ পিন্ধাইছিল আৰু বকুলৰ গোন্ধত আৱদ্ধ আছিল গুৱাহাটী নগৰৰ ইঞ্জিনক্লাচ ৰাস্তাসমূহ। বাটলৈ ওলোৱা মানুহবিলাক যেতিয়া সংবাদ কাগজৰ হেডলাইনত চকু পেলালে, তেওঁলোকে ধৰি নাপালে যে পৃষ্ঠা একত লিখা এটা লাইনত কেনেকৈ ইমান ডাঙৰ গল্প লুকাই থাকে—“অসম ৰাজ্যিক চিৰিয়াখানাৰ সকলো জন্তু পলাই গৈছে—নগৰত দৃষ্টিগোচৰ!” তাৰ ঠিকে তলত এক প্ৰশস্ত ফটো—পৰিধান নকৰা, কিন্তু যি কিবা এটা নীলপৰীয়া বস্ত্ৰ বুকুত বান্ধি ধৰা এক গজহস্তই গড়েশ্বৰ চাৰিআলি মুকলি হাত কৰি গাড়ীৰ ৰখ দিয়াৰ দৃশ্য। এই ফটোটোত কোনো শংকা নাই—চকুত চকু দিলে স্পষ্টকৈ চিনাক্ত কৰা যায়…