অনিরুদ্ধ গোস্বামী পর্ব ১: ছাই ও প্রত্যাবর্তনতালপুকুরে ফিরে আসার দিনটা কুয়াশায় ডুবে ছিল। সকালের আলোও যেন পায়ের নিচে পচে যাওয়া পাতা। বাস থেকে নামতেই একরাশ গন্ধ এসে নাকে লাগে—পুরনো ঘামের, সোঁদা মাটির, আর মৃত কিছু একটা। দেবদান মুখার্জি, একসময় নামকরা ডকুমেন্টারি নির্মাতা, এখন এক মানসিক ভাঙনের পর নিজেকে গুটিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তালপুকুরে তার ঠাকুরদার বাড়ি—এমন একটা জায়গা যেখানে কেউ আর থাকেনা, শুধু দেয়ালের ফাটলে সময় জমে আছে। সে একটা সাদা ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে রিকশা ধরে, রিকশাওয়ালা কিছু না বলে মাথা নিচু করে চালায়। যেন সে দেবদানকে দেখেই চিনে ফেলেছে, কিন্তু মুখে কিছু বলবে না। শহরটা কেমন যেন কুঁকড়ে আছে,…
-
-
সিদ্ধাৰ্থ ঘোষাল এক দূর রাজস্থানের মরুপথ পেরিয়ে ড. সায়ন মিত্র সেই পরিত্যক্ত দুর্গে পৌঁছেছিলেন এক গ্রীষ্মসন্ধ্যায়, যখন সূর্যাস্তের আগুনে মিশে যাচ্ছিল বালি ও ইটের স্তম্ভ। চারপাশে ধ্বংসস্তূপের নীরবতা, কেবল মাঝে মাঝে বালুর ঝোড়ো বাতাসের শব্দ, আর পুরনো দরজার কঁকিয়ে ওঠা। এই দুর্গটি, লোকমুখে “রক্তবিন্দু মহল” নামে পরিচিত, মূলত ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পরিত্যক্ত হয়। স্থানীয় কাহিনি অনুসারে, এখানে রাজা বিক্রমসিংহের পুত্রবধূ প্রতিভাদেবী শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন এক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে—তাঁর রক্তে ভেজা একটি নেকলেস আজও কোথাও লুকিয়ে আছে, এমনটাই দাবি করে লোককথা। কিন্তু সায়নের আগ্রহ রূপকথায় নয়—তিনি খুঁজছিলেন প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ, ইতিহাসের দলিল। সঙ্গে ছিল তার পুরোনো খাতাগুলি, ক্যামেরা, এক বোতল জল…
-
Anika Rao Part 1: The Taste of Irani Chai The clock struck six as Meher adjusted the silver jhumkas dangling from her ears, their soft chime blending into the evening azaan that echoed from the nearby Mecca Masjid. She stood by the rusted iron railings of the Charminar terrace, inhaling the scent of kebabs, rose attar, and the sharp, dusty wind that always carried whispers of stories untold. Hyderabad in December was always like this—cool, crowded, humming with history. And Meher, a 26-year-old calligraphy artist, found herself here every Thursday, sketchbook in hand, waiting to draw strangers and perhaps meet…
-
উন্মেশ বসু অধ্যায় ১: ছেলেবেলার কোনো এক দুপুরে তারা চারজন একসাথে গাছের ছায়ায় বসে স্বপ্ন দেখেছিল—একদিন পালিয়ে যাবে কোথাও, যেখানে কোনো নিয়ম নেই, যেখানে কেউ বলবে না “এই করিস না”, “ওটা ঠিক নয়”, “তুই বড় হয়ে যা”। আর সেই স্বপ্নকে বাস্তব করতে আজকের সকালটাই তাদের জন্য নিযুক্ত ছিল। স্কুলের ইউনিফর্ম পরে বেরিয়ে পড়া হলেও, গন্তব্য ছিল না ক্লাসরুম; বরং শিয়ালদহ স্টেশনের দিকে। সৌরভের লাল কালো পালসার বাইক, তিয়াসার বাবার ফেলে যাওয়া ফুজি ক্যামেরা, অভির ছোট্ট নোটবুক আর ঋষভের মাথাভর্তি পাগলামি—এই ছিল তাদের রসদ। স্টেশনের ফুটওভার ব্রিজের পাশের ছোট্ট চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে অভি একবার শেষবারের মতো বলল, “আচ্ছা, আমরা ঠিক তো…
-
Maanvi Shah The conference room was too cold for summer, like most VC firms that mistook temperature control for control in general. Rhea Mehta crossed her legs, stilettos clicking lightly as she adjusted her seat, eyes steady on the projected slide deck. “You’re up,” she said, voice clipped, betraying no emotion. Across the glossy table stood a lanky young man in jeans and a faded hoodie—unapologetically casual in a room full of silk blouses and cufflinks. He stepped forward, opened his laptop, and clicked the remote. “My name is Arjun Iyer,” he began, his voice a blend of caffeine and…
-
Rajat Bhatia 1 The air in the Satpura forest had always felt like a living thing—dense, watchful, sacred. But this morning, Kabir Solanki sensed something else: silence that felt tampered with. The usual melody of drongos and parakeets had been replaced by the low, uneasy whisper of a forest holding its breath. Riding his forest department-issued motorbike along a narrow dirt path cloaked in early mist, Kabir scanned the sal and teak trees with a practiced eye. He had served in these jungles for nearly five years since leaving the army, but he’d never seen this particular route—just beyond Jamni…
-
সুদীপ্তা পাল ১ কলকাতার জুন মাসের সন্ধ্যাবেলা যেন সব সময় একটু বেশি ক্লান্ত লাগে। সায়ন্তনী দত্ত অফিস থেকে ফিরেই মোজা খুলে বিছানার কোণে ছুঁড়ে ফেলে দিল, আবার চোখ রাখল ফোনে — স্ক্রিনে লেখা, “Missed call from unknown number.” এভাবে হুটহাট কল আসে প্রায়ই, বেশিরভাগই ক্রেডিট কার্ড অফার বা ওয়ারেন্টি বাড়ানোর ফাঁদ। কিন্তু আজ অফিসে বসে একটা ফোন করেছিল সে, তড়িঘড়ি করে, সেলস টার্গেটের তাড়নায়—কাস্টমার কেয়ার ভেবে একটা নাম্বার ডায়াল করেছিল, তারপর যেই না ওপার থেকে একজন ঠান্ডা, গম্ভীর কণ্ঠে “হ্যালো?” বলল, তখনি সে বুঝে গেছিল নাম্বারটা ভুল। সে “সরি, wrong number” বলে ফোন কেটে দিলেও কণ্ঠটা কেমন যেন থেকে গেল…
-
तपन मिश्रा वाराणसी का स्टेशन, सुबह की भीड़, लाउडस्पीकर पर गूंजती announcements, और हवा में फैली एक चिरपरिचित गंध—धूप, धूल, और जलते घी की। अंशुमान का कैमरा उसकी छाती से लटका था, और उसकी आँखों में तलाश थी—एक अलग दुनिया की, उस लकीर के पार की जहाँ जीवन और मृत्यु हाथ थामे चलते हैं। वह पिछले कई महीनों से देश के अलग-अलग शहरों में डॉक्युमेंट्री शूट कर रहा था—अंधविश्वास, परंपरा, मृत्यु और पुनर्जन्म पर। लेकिन वाराणसी… वह जानता था, यहाँ कुछ और मिलेगा। स्टेशन से निकलते ही, उसे घाटों की ओर खींचती एक अदृश्य डोर ने जकड़ लिया था। जब…
-
পর্ব ১: সেই খামখানা চিঠি বৃষ্টিভেজা কলকাতার সন্ধ্যায়, ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের লাইব্রেরির নরম আলোয় বসে ছিল অনির্বাণ। ইতিহাসের ছাত্র, বইপাগল, এবং ভীষণরকম নিঃসঙ্গ। লাইব্রেরির শেষ তাক থেকে পুরোনো ধুলোবালিতে মোড়া একটা খাম পেয়েছিল সে। উপরে কোনো প্রেরকের নাম নেই, শুধু একটা লাল মোমের সীল—তার ওপর আঁকা ছিল একটা গোলচিহ্ন, তার ভেতরে চোখের মতো কিছু একটা, যেন কোনো গুপ্ত প্রতীক। খুলতেই ভিতরে পাওয়া গেল হাতের লেখায় লেখা চার লাইনের একটা ছড়া— “যেখানে সময় থেমে থাকে, আর ছায়া গিলতে চায় আলো, তুমি যদি চাও জানতে সত্য, এসো শূন্যচক্রে, নিঃশব্দ চলো।” অনির্বাণের বুকের ভিতর কেমন যেন কাঁপুনি ধরল। এতদিনের নিঃসার জীবনটা আচমকা যেন কোনো…
-
তনয়া বৰা অধ্যায় ১: মাজুলীৰ পূব প্ৰান্তৰ এখন ক্ষুদ্ৰ গাঁও—দহঘৰীয়া, নামতেই যেন গল্প। পুৰণি জনশ্ৰুতি মতে, ব্ৰহ্মপুত্ৰৰ এখন প্ৰচণ্ড বানৰ পিছত মাথোঁ দহটা ঘৰ বচি থাকিল, আৰু সেয়েই হ’ল দহঘৰীয়া। ইমানেই সৰু, তেনেতে ইমানেই অমূল্য। শতাধিক বছৰৰ পুৰণি বাঁহৰ বন, য’ত গাঁৱত কোৱা হয়—দেৱতাই নিশা নামি আহে। ঘৰবোৰ কেঁচা মাটিৰে গঠিত, চালটো খৰিৰে, আৰু পথবোৰ মাটিৰে গৰিহা হোৱা। গাঁৱৰ উত্তৰত থাকিব পৰা বাঁহৰ বনখন, বেলেগ এক ভৱিষ্যতৰ প্ৰৱেশদ্বাৰ যেন অনুভৱ হয়। এই বনখনেই কাহিনীৰ মূলভূমি। এইখিনি গাঁওতেই জন্ম হৈছিল ৰূপহীৰ—এজনী যুৱতী যাৰ মুখত সদায় ভ্ৰাম্যমাণ বিহুৰ দৰে হাঁহি, চকুত অক্লান্ত আশাৰ দীপ্তি। ৰূপহীৰ মাক এজনী ওজা আছিল, আৰু দেউতা বাঁহক…