ভূতের গল্প
-
শ্মশানের ডাকঘর
১ অমল ছিল এক সাধারণ গ্রামীণ ডাকপিয়ন, যার জীবন প্রতিদিনের রুটিন আর নির্দিষ্ট পথেই আবদ্ধ ছিল। সকালবেলায় সে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ত, চিঠির ব্যাগ কাঁধে নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি যেত, আর বিকেলের মধ্যেই সব বিলি শেষ করে বাড়ি ফিরত। কিন্তু সেদিনটা অদ্ভুতভাবে ভিন্ন হয়ে দাঁড়াল। অফিসে কিছু অতিরিক্ত কাজের জন্য তাকে দেরি হয়ে গেল, আর…
-
জমিদারের ভোগঘর
শ্রেয়া বসু প্রথম পর্ব গ্রীষ্মের দুপুরে দক্ষিণবঙ্গের এক অখ্যাত গ্রাম—নাম কুড়ুলিয়া। এখানে আসলে যেন সময় থেমে আছে। মাটির পথ, দুই ধারে শাল, সেগুন, আমগাছের সারি, আর একেবারে প্রান্তে গিয়ে হঠাৎ ভেসে ওঠে বিরাট এক ধ্বংসস্তূপের মতো ইমারত—কুড়ুলিয়া জমিদারবাড়ি। একসময় এখানে ছিলো উৎসব, মহাফেজখানা, পূজোর জাঁকজমক, বেহালার সুর। এখন শুধু ভাঙা দেওয়ালের ফাঁক দিয়ে জন্মানো লতাগুল্ম,…
-
চন্দননগরের পরিত্যক্ত ফরাসি ভিলা
অনিৰ্বাণ দাস ১ গঙ্গার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা ভিলাটির জন্ম একেবারে ইতিহাসের গর্ভে লুকিয়ে আছে। আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে, যখন চন্দননগর ছিল ফরাসি উপনিবেশের এক প্রধান কেন্দ্র, তখন ফরাসি কনসাল জ্যঁ-ব্যাপটিস্ট দ্য ল্যাঁক তাঁর পরিবারের জন্য এই ভিলাটি নির্মাণ করেছিলেন। গঙ্গার তীরবর্তী অঞ্চল তখন ছিল বাণিজ্যের জন্য অমূল্য সম্পদ—রেশম, নীল, আফিম, মসলিনের ব্যবসায় মত্ত হয়ে উঠেছিল…
-
আশ্বিনের রাত্রি
গৌতম ভৌমিক ১ শরৎকালীন আকাশে সাদা মেঘের পালক যেন উড়ে বেড়াচ্ছে। দূরে সবুজ ধানের ক্ষেতে হালকা বাতাস বয়ে যায়, তার সঙ্গে মিশে আছে কাশফুলের দোল খাওয়া, গোধূলি রঙে রাঙা হয়ে ওঠা আকাশ, আর তারই ভেতর গ্রামজুড়ে শুরু হয়েছে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। গ্রামের চৌমাথার কাছে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে প্যান্ডেল—এবার থিম ‘নবরূপিণী দুর্গা’। গ্রামের কারিগররা…
-
আতর ঘর
প্ৰদ্যুম্ন মুখার্জী অধ্যায় ১ – আতরের গন্ধে ভরা ঘর অরিত্র ছিল এক তরুণ ইতিহাসবিদ, যিনি অদ্ভুত বিষয় আর অজানা ইতিহাসের খোঁজে ঘুরে বেড়াতেন। কলকাতার শহরতলির বিস্মৃত গলি আর সময়ের ধুলো জমা রাজবাড়িগুলো তার গবেষণার মূল ক্ষেত্র। একদিন তিনি শুনলেন এক প্রাসাদের কথা, যা আজও স্থানীয়দের কাছে রহস্যে মোড়া। এই প্রাসাদটি একসময় জমিদার দীনেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ছিল,…
-
ভুতের ভয় – কিন্তু উল্টো!
অয়ন ঘোষ অধ্যায় ১ : আগমনের রহস্য সন্ধ্যা নামতেই গ্রামটাকে ঢেকে ফেলত এক ধরনের অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। দূরে বাঁশঝাড়ে ঝিঁঝিঁর ডাক, পুকুরঘাটে ব্যাঙের ডাকে মাঝে মাঝে শিহরণ জাগত, কিন্তু তার বাইরে কোথাও কোনো শব্দ শোনা যেত না। এমন সময়েই গ্রামের দক্ষিণ কোণের পরিত্যক্ত ভাঙ্গাচোরা বাড়িটিতে এসে উঠলেন হেমেনবাবু। কারও সঙ্গে খুব একটা কথা না বলে তিনি…
-
হাসির আওয়াজ
অরিন্দম এবং মাধুরী দীর্ঘদিনের পরিশ্রম আর সঞ্চয়ের ফলস্বরূপ অবশেষে তাদের স্বপ্নের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করল। শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলো থেকে দূরে, একটি আধুনিক কমপ্লেক্সের উচ্চতর তলার এই অ্যাপার্টমেন্ট যেন তাদের নতুন জীবন শুরু করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। বাইরের কোলাহল এবং ধুলো-ময়লা থেকে একেবারেই আলাদা, চারপাশে প্রশান্ত নীরবতা, সবকিছু সুন্দরভাবে সাজানো লবি, এবং প্রতিটি ফ্ল্যাটে আধুনিক সুবিধা—এগুলো…
-
আয়নার মানুষ
অধ্যায় ১ – নতুন হোস্টেল, নতুন জীবন অয়ন তার কলেজ লাইফের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছে, আর সেই শুরুটি নতুন হোস্টেলের ঘর থেকে। কলেজের গেট পার হতেই তার মন এক ধরনের অদ্ভুত উত্তেজনায় ভরে ওঠে। হোস্টেলটি শহরের মূল রাস্তার কাছে অবস্থিত, তবে বাইরে থেকে দেখলে যেন এটি সাদা রঙের এক নিঃসঙ্গ স্থাপনা, যার দেয়ালগুলো পুরনো,…
-
মহালয়ার সুর
পল্লব সেনগুপ্ত ১ প্রতি বছর শরৎকালের সেই বিশেষ সকালটি যেন গ্রামটির বুকের ভেতর এক অদ্ভুত উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। রাতভর কুয়াশা আর শিশিরে ভিজে থাকা বাতাস যখন আস্তে আস্তে আলোয় গা ভিজিয়ে নেয়, তখনই শুরু হয় সেই সুর—চণ্ডীপাঠের গম্ভীর ও সুরেলা ধ্বনি। গ্রামটি খুব সাধারণ, মাটির ঘর, কাঁচা রাস্তা, পুকুর আর ধানখেত দিয়ে ঘেরা, অথচ প্রতি…
-
শালবনের ছায়া
অনির্বাণ মুখোপাধ্যায় পুরুলিয়ার লাল মাটির রাস্তা যেন এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতায় ভিজে ছিল। ঋত্বিক সেনগুপ্তের বাস থেকে নামতেই ধুলো মেখে গেল জুতো। কলকাতা থেকে এখানে পৌঁছতে প্রায় নয় ঘণ্টা লেগেছে—স্টেশন থেকে বাস, বাস থেকে আবার চোট্টোখাটো জিপ। চারপাশে শুধু শাল, পিয়াল, মহুয়ার গন্ধ, দূরে টিলা আর ঝকঝকে নীল আকাশ। তার ক্যামেরার ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে দাঁড়িয়েই একবার…
-
অন্ধকার কূপের ডাক
এক গ্রামের দক্ষিণ প্রান্তে, বাঁশঝাড়ের আড়ালে এক বিস্মৃত কূপ বহুদিন ধরে অচল পড়ে আছে। সময়ের ভারে তার ইটগুলো ভেঙেচুরে এক অদ্ভুত শৈবাল-ঢাকা রূপ নিয়েছে, যেন প্রকৃতি নিজেই কূপটিকে ঢেকে রাখতে চায়। চারপাশে গজিয়ে ওঠা কাঁটাঝোপ, শুকনো ডালপালা আর বনলতা মিলেমিশে এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছে যেখানে দিনের আলোও প্রবেশ করতে চায় না। গ্রামের শিশুরা দূর…
-
দেউলতলার মৃতবধূ
সুনন্দা সোম বীরভূমের দেউলতলা গ্রামটি যেন সময়ের গতির বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। চারদিকে ঢেউখেলানো মাঠ, মাটির ঘর, পাখিদের ডাক আর নিরিবিলি দুপুর—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত শান্তির আবহাওয়া। কিন্তু এই শান্ত গ্রামটির বুকেই দাঁড়িয়ে আছে এক প্রাচীন মন্দির, যেন ইতিহাসের এক নিঃশব্দ সাক্ষী। কেউ কেউ বলে মন্দিরটির বয়স চারশো বছরেরও বেশি, আবার কেউ বলে আরও প্রাচীন। দিনের…












