• Bangla - ভূতের গল্প

    জোড়াসাঁকোর পুরনো প্রাসাদ

    সৌম্য বক্সী অধ্যায় ১: রহস্যময় প্রাসাদের ডাক শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে, উত্তর কলকাতার এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে জোড়াসাঁকোর পুরনো প্রাসাদ। চারপাশে আধুনিক ভবন, গাড়ির কোলাহল, হর্নের শব্দ—সবই ভেসে আসে, তবু প্রাসাদটিকে ঘিরে যেন এক অদৃশ্য দেওয়াল তৈরি হয়েছে। ভাঙা রেলিং, শ্যাওলা ধরা দেয়াল, আধভাঙা সিঁড়ি আর অন্ধকারমাখা জানালা, সব মিলিয়ে জায়গাটা যেন সময়ের গর্ভে আটকে গেছে। মানুষজন এদিক দিয়ে এলে দূর থেকেই চোখ সরিয়ে নেয়, কারণ দীর্ঘদিন ধরেই এর চারপাশে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। কারও দাবি, রাতে সিঁড়ি বেয়ে নামতে দেখা যায় সাদা শাড়ি পরা এক নারীকে। কেউ বলে, জানালার কাচে প্রতিফলিত হয় অদ্ভুত ছায়া। আবার অনেকেই বিশ্বাস করে, প্রাসাদের…

  • Bangla - ভূতের গল্প

    শ্মশানের ডাকঘর

    ১ অমল ছিল এক সাধারণ গ্রামীণ ডাকপিয়ন, যার জীবন প্রতিদিনের রুটিন আর নির্দিষ্ট পথেই আবদ্ধ ছিল। সকালবেলায় সে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ত, চিঠির ব্যাগ কাঁধে নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি যেত, আর বিকেলের মধ্যেই সব বিলি শেষ করে বাড়ি ফিরত। কিন্তু সেদিনটা অদ্ভুতভাবে ভিন্ন হয়ে দাঁড়াল। অফিসে কিছু অতিরিক্ত কাজের জন্য তাকে দেরি হয়ে গেল, আর সন্ধ্যার আলো যখন ম্লান হতে শুরু করল, তখনও অমল চিঠির ব্যাগ নিয়ে রওনা দেয়নি। সে জানত, গ্রামের মানুষরা চিঠির অপেক্ষায় থাকে, আর দেরি করলে তাদের মুখে বিরক্তি ফুটে ওঠে। তাই অমল নিজের ক্লান্তি উপেক্ষা করে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। পথে হাঁটতে হাঁটতে সে লক্ষ্য করল,…

  • Bangla - ভূতের গল্প

    জমিদারের ভোগঘর

    শ্রেয়া বসু প্রথম পর্ব গ্রীষ্মের দুপুরে দক্ষিণবঙ্গের এক অখ্যাত গ্রাম—নাম কুড়ুলিয়া। এখানে আসলে যেন সময় থেমে আছে। মাটির পথ, দুই ধারে শাল, সেগুন, আমগাছের সারি, আর একেবারে প্রান্তে গিয়ে হঠাৎ ভেসে ওঠে বিরাট এক ধ্বংসস্তূপের মতো ইমারত—কুড়ুলিয়া জমিদারবাড়ি। একসময় এখানে ছিলো উৎসব, মহাফেজখানা, পূজোর জাঁকজমক, বেহালার সুর। এখন শুধু ভাঙা দেওয়ালের ফাঁক দিয়ে জন্মানো লতাগুল্ম, আর মাঝে মাঝে রাতের বেলা শেয়ালের ডাক। লোকজন বলে, জমিদারের ভোগঘরটা বহু বছর ধরে বন্ধ। ভোগঘর মানে দেবদেবীর নৈবেদ্য রাখার জায়গা নয়, এখানে তার আলাদা মানে। বলা হয়, জমিদারের ভোগঘরে রাজপ্রাসাদের গোপন আনন্দ-আয়োজন হত। দাসী, নর্তকী, সঙ্গীত, মদ আর রাতভর ভোগ। কিন্তু সেই ভোগঘরের ভিতরেই…

  • Bangla - ভূতের গল্প

    চন্দননগরের পরিত্যক্ত ফরাসি ভিলা

    অনিৰ্বাণ দাস ১ গঙ্গার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা ভিলাটির জন্ম একেবারে ইতিহাসের গর্ভে লুকিয়ে আছে। আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে, যখন চন্দননগর ছিল ফরাসি উপনিবেশের এক প্রধান কেন্দ্র, তখন ফরাসি কনসাল জ্যঁ-ব্যাপটিস্ট দ্য ল্যাঁক তাঁর পরিবারের জন্য এই ভিলাটি নির্মাণ করেছিলেন। গঙ্গার তীরবর্তী অঞ্চল তখন ছিল বাণিজ্যের জন্য অমূল্য সম্পদ—রেশম, নীল, আফিম, মসলিনের ব্যবসায় মত্ত হয়ে উঠেছিল ফরাসি বণিকেরা। ইউরোপীয় জাহাজ এসে ভিড়ত বন্দরঘাটে, আর গঙ্গার জলে প্রতিদিন প্রতিফলিত হতো সাদা পালের ছায়া। ভিলাটি ছিল তাঁদের ঐশ্বর্যের প্রতীক—সাদা চুনে মোড়া দেওয়াল, নীল রঙে রাঙানো কাঠের জানালা, আর রোমান খিলানের মতো খোলা বারান্দা। চারদিকে ছায়াঘেরা বাগান, যেখানে ইউরোপ থেকে আনা গাছপালা যেমন ছিল,…

  • Bangla - ভূতের গল্প

    আশ্বিনের রাত্রি

    গৌতম ভৌমিক ১ শরৎকালীন আকাশে সাদা মেঘের পালক যেন উড়ে বেড়াচ্ছে। দূরে সবুজ ধানের ক্ষেতে হালকা বাতাস বয়ে যায়, তার সঙ্গে মিশে আছে কাশফুলের দোল খাওয়া, গোধূলি রঙে রাঙা হয়ে ওঠা আকাশ, আর তারই ভেতর গ্রামজুড়ে শুরু হয়েছে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। গ্রামের চৌমাথার কাছে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে প্যান্ডেল—এবার থিম ‘নবরূপিণী দুর্গা’। গ্রামের কারিগররা দিনরাত খেটে যাচ্ছেন, বাঁশের গাঁথুনির উপর কাপড়ের ক্যানভাস টাঙিয়ে তুলছেন মণ্ডপ, মাটির মূর্তির গায়ে তুলির টান টেনে আনছেন দেবীর সৌন্দর্য। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা মুগ্ধ চোখে সেই কাজ দেখে বেড়ায়, আর যুবকেরা আলোর তার ঝোলাচ্ছে গলিপথে। বাজারে পুজোর ভিড় জমেছে; সবাই নতুন কাপড়, ধূপ, মিষ্টি, উপহার…

  • Bangla - ভূতের গল্প

    আতর ঘর

    প্ৰদ্যুম্ন মুখার্জী অধ্যায় ১ – আতরের গন্ধে ভরা ঘর অরিত্র ছিল এক তরুণ ইতিহাসবিদ, যিনি অদ্ভুত বিষয় আর অজানা ইতিহাসের খোঁজে ঘুরে বেড়াতেন। কলকাতার শহরতলির বিস্মৃত গলি আর সময়ের ধুলো জমা রাজবাড়িগুলো তার গবেষণার মূল ক্ষেত্র। একদিন তিনি শুনলেন এক প্রাসাদের কথা, যা আজও স্থানীয়দের কাছে রহস্যে মোড়া। এই প্রাসাদটি একসময় জমিদার দীনেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ছিল, যার রাজকীয় ঐশ্বর্য বহু আগেই মাটির তলায় মিশে গেছে, কিন্তু রয়ে গেছে এক অদ্ভুত গুজব—প্রাসাদের ভেতরে একটি ঘর আছে, যেখানে ঢুকলেই ভেসে ওঠে আতরের গন্ধ। অথচ সেই ঘরে আর কেউ থাকে না, বরং বহু বছর আগে সেখানে এক নববধূর মৃত্যু হয়েছিল। গ্রামের মানুষজন এখনো সন্ধ্যার…

  • Bangla - ভূতের গল্প - হাস্যকৌতুক

    ভুতের ভয় – কিন্তু উল্টো!

    অয়ন ঘোষ অধ্যায় ১ : আগমনের রহস্য সন্ধ্যা নামতেই গ্রামটাকে ঢেকে ফেলত এক ধরনের অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। দূরে বাঁশঝাড়ে ঝিঁঝিঁর ডাক, পুকুরঘাটে ব্যাঙের ডাকে মাঝে মাঝে শিহরণ জাগত, কিন্তু তার বাইরে কোথাও কোনো শব্দ শোনা যেত না। এমন সময়েই গ্রামের দক্ষিণ কোণের পরিত্যক্ত ভাঙ্গাচোরা বাড়িটিতে এসে উঠলেন হেমেনবাবু। কারও সঙ্গে খুব একটা কথা না বলে তিনি সোজা সেই ভগ্নদশা বাড়িতে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলেন। প্রথম দিন থেকেই গ্রামের মানুষের চোখে পড়ল, লোকটা যেন একটু অন্য রকম। লম্বা চওড়া গড়ন, পাকা চুলে অদ্ভুত জট, একটানা কোট পরা, আর হাতে এক চামড়ার ব্যাগ। তাকে প্রথমে দেখে গ্রামের ছেলেপুলেরা হেসেছিল—“এ তো শহরের কোনো বাবু…

  • Bangla - ভূতের গল্প

    হাসির আওয়াজ

    অরিন্দম এবং মাধুরী দীর্ঘদিনের পরিশ্রম আর সঞ্চয়ের ফলস্বরূপ অবশেষে তাদের স্বপ্নের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করল। শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলো থেকে দূরে, একটি আধুনিক কমপ্লেক্সের উচ্চতর তলার এই অ্যাপার্টমেন্ট যেন তাদের নতুন জীবন শুরু করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। বাইরের কোলাহল এবং ধুলো-ময়লা থেকে একেবারেই আলাদা, চারপাশে প্রশান্ত নীরবতা, সবকিছু সুন্দরভাবে সাজানো লবি, এবং প্রতিটি ফ্ল্যাটে আধুনিক সুবিধা—এগুলো সবই তাদের নতুন জীবনকে স্বাগত জানাচ্ছিল। অরিন্দম বেশ উদ্দীপনায় নতুন ফ্ল্যাটের প্রতিটি কোণ ঘুরে দেখছিল, তার চোখে আনন্দ আর সাফল্যের প্রতিফলন স্পষ্ট। মাধুরী, যদিও আনন্দিত, কিন্তু তার মনে মাঝে মাঝে এক অদ্ভুত অস্থিরতা কাজ করছিল। ফ্ল্যাটের নিখুঁত নীরবতা মাঝে মাঝে যেন তার কানে অদ্ভুত শব্দের…

  • Bangla - ভূতের গল্প

    আয়নার মানুষ

    অধ্যায় ১ – নতুন হোস্টেল, নতুন জীবন অয়ন তার কলেজ লাইফের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছে, আর সেই শুরুটি নতুন হোস্টেলের ঘর থেকে। কলেজের গেট পার হতেই তার মন এক ধরনের অদ্ভুত উত্তেজনায় ভরে ওঠে। হোস্টেলটি শহরের মূল রাস্তার কাছে অবস্থিত, তবে বাইরে থেকে দেখলে যেন এটি সাদা রঙের এক নিঃসঙ্গ স্থাপনা, যার দেয়ালগুলো পুরনো, আর জানালার কাঁচগুলো ধুলো-আবৃত। প্রথম দিনেই অয়ন তার ব্যাগ উঠিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। ঘরটি ছোট হলেও যথেষ্ট খোলামেলা, এক পাশে ধূসর রঙের লোহার বেডগুলো সজ্জিত, আর জানালার পাশে ছোট্ট ডেস্ক। জানালা দিয়ে আসে বাইরের মৃদু রোদ, যা ঘরের দেয়ালে ছাপ ফেলছে। তবে সবকিছুর মাঝেই যেন…

  • Bangla - ভূতের গল্প

    মহালয়ার সুর

    পল্লব সেনগুপ্ত ১ প্রতি বছর শরৎকালের সেই বিশেষ সকালটি যেন গ্রামটির বুকের ভেতর এক অদ্ভুত উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। রাতভর কুয়াশা আর শিশিরে ভিজে থাকা বাতাস যখন আস্তে আস্তে আলোয় গা ভিজিয়ে নেয়, তখনই শুরু হয় সেই সুর—চণ্ডীপাঠের গম্ভীর ও সুরেলা ধ্বনি। গ্রামটি খুব সাধারণ, মাটির ঘর, কাঁচা রাস্তা, পুকুর আর ধানখেত দিয়ে ঘেরা, অথচ প্রতি মহালয়ার ভোরে এই গ্রাম হয়ে ওঠে রহস্যময়। সূর্যের প্রথম কিরণ ওঠার আগেই দূর থেকে ভেসে আসে ধ্বনি, যেন দেবীর আহ্বান চলছে। যারা গ্রামে থাকে তারা সবাই জানে, এই সুর অন্য কোনো মাইক থেকে নয়, কিংবা মন্দির থেকেও নয়। এটা ভেসে আসে সেই পুরোনো, ভগ্নপ্রায় বাড়ি…