অদ্রীশ সেনগুপ্ত পর্ব ১ : পূর্ণিমার রাত পূর্ববঙ্গ থেকে ভেসে আসা লোককথার মতোই যেন গল্পটা শুরু হয়েছিল। নদীর ধার ঘেঁষে ছোট্ট গ্রাম—দেবীপুর। এই গ্রামে আজও অনেক পুরনো আচার চলে, আর আছে নানারকম অদ্ভুত গল্প, যেগুলো নিয়ে লোকেরা আড্ডা দেয় সন্ধেবেলা পুকুরঘাটে বা মাঠের আলপথে বসে। তবে সবচেয়ে বেশি ফিসফাস হয় যে কাহিনী নিয়ে, তা হলো চতুর্দোলার কনে। এই গ্রামে বছর পঁচিশ আগে একটা বিয়ে ভেস্তে যায়। কনে সীতারা—সাদা মুখশ্রী, টকটকে লাল শাড়ি পরা, চোখে ভয় আর লজ্জার ছায়া। হঠাৎই বিয়ের দিন অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেকের মতে সে বিষ খেয়েছিল। কিছুদিন পর মৃতদেহকে গ্রামের লোকেরা মন্দিরের পাশে এনে চার বাঁশে বাঁধা…
-
-
অধ্যায় ১: অশরীরীর আগমন ধনপুর নামের ছোট্ট গ্রামটি যেন প্রকৃতির এক নিভৃত কোলে বসে আছে। শরৎকালের শুরুতে গ্রামজুড়ে এখন পুজোর প্রস্তুতি তুঙ্গে, মেঘের আড়াল থেকে নীল আকাশ উঁকি দিচ্ছে, কাশফুলে ঢাকা মাঠে বাতাসের খেলায় দুলছে সাদা ফেনার মতো শিরীষের তুলো। গ্রামের প্রাচীন ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রতি বছর দুর্গাপুজোর প্রতিমা গড়ার দায়িত্ব থাকে মৃৎশিল্পী নিবারণ পাল ও তাঁর পরিবারের হাতে। নিবারণের হাতে তৈরি মূর্তির খ্যাতি আশপাশের গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে বহু বছর ধরেই। গাঁয়ের মানুষ বিশ্বাস করে, নিবারণের আঙুলের ছোঁয়ায় যেন দেবীর জীবন্ত ছায়া ফুটে ওঠে। দিনভর কাদা মাটি আর রঙের ঘ্রাণে ভরা কর্মশালায় চারদিক গমগম করে, কিন্তু রাত নামলেই সে ঘর একেবারে…
-
সুশান্ত দাস ১ গ্রামের পুকুরটি সবসময়ই একটি রহস্যময় উপস্থিতি বয়ে আনে। দিনের আলোয় যখন গ্রামের মানুষ সাধারণ কাজকর্মে ব্যস্ত থাকে, তখনও পুকুরটি যেন নীরবভাবে তাদের নজর কাড়ে। পুকুরটির পানি গভীর এবং অন্ধকারের মিশ্রণে যেন অদ্ভুত এক আভা ছড়িয়ে দেয়। পুকুরের চারপাশে হালকা ঘাস আর কিছু ছোট গাছ থাকলেও, রাতে সেই ঘাস আর গাছের ছায়া যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। গ্রামের মানুষ নানা গল্প শোনায়—কিছু গল্প কেবল ভয়ের, আবার কিছু গল্পে বলা হয় বহু বছর আগে এখানে একটি মেয়ের রহস্যময় মৃত্যু ঘটেছিল। সেই মেয়েটিকে ডুবিয়ে মারা হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। লোকেদের কথা অনুযায়ী, মেয়েটির আত্মা এখনও পুকুরের পানির মধ্যে ভেসে বেড়ায়।…
-
अरुणा सहाय अमावस्या की रात के आने से पहले ही गाँव का वातावरण बदलने लगता था। दिन में साधारण दिखने वाला यह गाँव जैसे ही अंधेरे में डूबने लगता, वैसे ही हर कोने में एक अनजाना डर उतर आता। बच्चे जब खेलते-खेलते नदी की ओर भागते तो बुज़ुर्ग अपनी डाँट और चेतावनी से उन्हें रोकते—“आज घर जल्दी लौट आओ, अमावस्या की रात है, मसान घाट से दूर रहना।” उनके स्वर में सिर्फ सख्ती नहीं होती, बल्कि एक गहरी चिंता और डर झलकता था, मानो वे खुद भी उन छायाओं से डरे हों जो रात ढलते ही गाँव के किनारे बसे…
-
১ পুরনো শহরের খাম্বা-খাম্বা সড়ক পেরিয়ে ছাত্রটি অবশেষে সেই হোটেলের সামনে থামে, যেটি অনেক দিনের পুরনো কাহিনী আর শহরের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। হোটেলটি বাইরে থেকে দেখতে চেহারা হিসাবে সময়ের সাক্ষী—পুরনো দেয়ালগুলোতে ফাটল, ধুলো জমে থাকা জানালা, এবং কখনো ভাঙা কখনো রঙ ছুঁয়ে থাকা দরজা, যেন প্রতিটি কোণই নিজের ভাষায় শহরের অতীত গল্পগুলো বলে। প্রবেশদ্বারে ধাতব ঘণ্টার গর্জন ভাঙতে ভাঙতে বাজে, আর সেই শব্দের প্রতিধ্বনি ভেতরের খালি প্রাঙ্গণে একটা অদ্ভুত নীরবতার সৃষ্টি করে। হোটেলের লবি কোনো সাধারণ হোটেলের মতো উজ্জ্বল বা আতিথ্যপূর্ণ নয়; বরং এতে আছে ধূসর রঙের ছায়া, পুরনো কাঠের মেঝেতে পা ফেলার সাথে সাথে কেবল ধীর ধীর শব্দ,…
-
সায়ন্তন বসু অধ্যায় ১ : জমিদারবাড়ির নিস্তব্ধতা প্রাচীন গ্রাম বাংলার বুক জুড়ে যে অট্টালিকা এখনও দাঁড়িয়ে আছে, তাকে দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়। সময়ের আঁচড়ে তার দেয়াল জীর্ণ হয়ে গেছে, ছাদের টালির ফাঁক দিয়ে ঝরে পড়ে বৃষ্টির জল, দেউড়ির মোটা কাঠের দরজায় ঝুলছে মরচেধরা তালা, অথচ এখনো মনে হয়—এ যেন এক ইতিহাস সাক্ষী হয়ে আছে। এ বাড়িটি এককালে ছিল রাজবাড়ির মতোই জাঁকজমকপূর্ণ জমিদারবাড়ি, যেখানে গরিব কৃষকদের ঘামে গড়া সম্পদ মজুত হতো, আর রাতে চলত রেশমি শাড়ি, নকশি পাঞ্জাবি, সোনার গয়নার রোশনাই। কিন্তু কালের নিয়মে জমিদারি প্রথা ভেঙে যাওয়ার পর বাড়িটি ধীরে ধীরে ভেঙে পড়তে শুরু করে। বংশধরেরা কেউ কলকাতায়, কেউ লন্ডনে…
-
দেবব্ৰত মণ্ডল ১ গ্রামের প্রাচীন মন্দিরটির অবস্থান যেন সময়ের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। জনবসতি থেকে খানিকটা দূরে, গা ছমছমে বটগাছের ছায়ায় ঢাকা পড়া এই মন্দিরের অস্তিত্ব আজও গ্রামের মানুষের কৌতূহল আর ভয়ের কেন্দ্রবিন্দু। শতবর্ষ আগে নির্মিত হয়েছিল এই দেবালয়—পাথরের খোদাই, দেয়ালে পুরনো লিপি আর ভাঙাচোরা অলঙ্করণ এখনো ম্লান হয়ে গেলেও স্পষ্ট করে বলে দেয় তার গৌরবময় অতীতের কথা। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে মন্দিরের মূল দ্বার, যেটি লাল রঙের বিশাল কাঠের কপাট দিয়ে বন্ধ, কখনোই খোলা হয়নি গ্রামবাসীর চোখের সামনে। গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরা বলেন, সেই লাল কপাট শত বছর আগে হঠাৎ একদিন বন্ধ হয়ে যায়, তারপর থেকে কেউ আর সাহস করেনি তা খোলার। বলা হয়,…
-
অরিন্দম মুখোপাধ্যায় পর্ব ১: সুরের প্রথম রাত দুর্গাপুরের সেই কারখানাটা শহরের বাইরে, গঙ্গার ধারে, ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে আজ। ইট-সিমেন্ট ভাঙা, জানালার কাচগুলো শূন্য চাহনির মতো তাকিয়ে থাকে। রাতের বেলা লোকজন ওদিক মাড়ায় না—কেউ বলে শিয়াল-কুকুর আছে, কেউ বলে ভুত আছে। সেই রাতে অরূপ, শহরের এক সাংবাদিক, হঠাৎ শুনতে পেল খবর— “দাদা, কারখানার ভেতরে আবার বাঁশির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।” একজন চা-ওয়ালা বলছিল। গলাটা ফিসফিসে, চোখে ভয়। অরূপ সঙ্গে সঙ্গে খুঁটিয়ে জানতে চাইল। চা-ওয়ালা কাঁপা গলায় বলল, “আগের বার শুনেছিল যে, সে নাকি তিন দিনের মধ্যে নিখোঁজ হয়ে গেছে। এ বার আবার বাজছে, কাল রাত থেকেই।” অরূপের ভেতর সাংবাদিকের কৌতূহল জেগে উঠল।…
-
সুশান্ত নস্কর অধ্যায় ১ – নিঃসন্তান দম্পতির আশা রবি ও রুমার সংসারটি গ্রামের সাধারণ জীবনের মধ্যে গভীর শান্তি ও এক ধরনের অদৃশ্য দুঃখ বহন করত। বহু বছর ধরে তারা নানা চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়েও সন্তানের আশায় ব্যর্থ হয়েছেন। প্রতিটি মাসের প্রথম এবং শেষ দিনগুলো যেন তাদের জীবনে অতিরিক্ত চাপ ও হতাশা নিয়ে আসে। রুমা প্রায়শই তার কোল গলে শিশুর কল্পনা করে, স্বপ্নে সেই কল্পিত শিশুকে দেখে হেসে ওঠে, আবার কখনও চোখের কোণে অজান্তেই জল আসে। রবি চেষ্টা করে সংসারের কাজকর্ম ও তার চাকরিতে মন দিতে, কিন্তু রুমার চোখে যে দুঃখের ছায়া, তা তিনি কখনো এড়াতে পারেন না। তারা শুনেছে…
-
সুমন্ত বসাক অধ্যায় ১: নতুন চাকরি অনির্বাণের বয়স মাত্র চব্বিশ। স্নাতক পাশ করার পর থেকেই কাজের খোঁজে এখানে-ওখানে ছুটছে, কিন্তু ভাগ্য যেন তাকে বারবার ঠকাচ্ছে। শহরে একসময় অনেক চেষ্টা করেছিল, কল সেন্টারের চাকরি থেকে শুরু করে প্রাইভেট স্কুলে শিক্ষকতার জন্য সাক্ষাৎকার দিয়েছে, কিন্তু কোথাও ঠিকমতো জায়গা হয়নি। গ্রামে ফিরে আসতে হয়েছে খালি হাতে। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়েছে, আর মায়ের অসুখে ওষুধের খরচ মেটানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় গ্রামের মুন্সি হঠাৎ একদিন খবর দিল—পঞ্চায়েতের তরফ থেকে প্রহরীর একটা পদ খালি আছে। তবে জায়গাটা হলো গ্রামসংলগ্ন পুরনো শ্মশান। শুনে অনির্বাণের শরীর শিউরে উঠেছিল। শ্মশান পাহারা দেওয়া…