নারীবিষয়ক গল্প

  • সোনালী ডানার চিঠি

    সোনালী ডানার চিঠি

    অর্ণিকা সেন ১ পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রাম সরভুমি, যেখানে শহরের কোলাহল পৌঁছায়নি, যেখানে লাল মাটির রাস্তা সরু হয়ে সাপের মতো পেঁচিয়ে গেছে মাঠের বুক চিরে, আর দূরে দূরে তালগাছ, খেজুরগাছ মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সরভুমির আকাশ বড় খোলা— সেখানে মেঘেরা প্রতিদিন গল্প বলে, পাখিরা ডানা মেলে উড়ে যায় দূর অজানায়, আর সন্ধ্যা হলে…

    read more

  • অপরাজিতা

    অপরাজিতা

    পূরবী মজুমদার এক কলকাতার বুকে গড়ে ওঠা এক চিরাচরিত বহুতল আবাসন। বাইরে ব্যস্ত রাজপথ, চিরচেনা হর্নের শব্দ, বাতাসে ভেসে আসা বেগুনি ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ আর ভেজা মাটির গন্ধ। এই কোলাহল আর নিস্তব্ধতার মিশেলে একটি ঘরে বসবাস কুমুদিনীর—এক গৃহবধূ, এক মা, এক পুত্রবধূ। তার নিজের নামটা যেন আজ আর কারও মুখে উচ্চারিত হয় না। সবাই তাকে…

    read more

  • শঙ্খিনী: এক নামহীনা কণ্ঠের চিরন্তন ধ্বনি

    শঙ্খিনী: এক নামহীনা কণ্ঠের চিরন্তন ধ্বনি

    মৃণালিনী ধর অধ্যায় ১: কলকাতার শহরতলির প্রান্তে ছোট্ট একটি দোতলা বাড়িতে একা থাকে অরণ্যা সেন। বাইরের চোখে সে নিছকই আর পাঁচটা মধ্যবিত্ত তরুণীর মতো—একজন কলেজে ইতিহাস পড়ানো প্রভাষক, যার দিন শুরু হয় এক কাপ চা দিয়ে আর শেষ হয় বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে। কিন্তু অরণ্যার রাতের ঘুম আর দিনের স্বপ্ন এক অদ্ভুত বৃত্তে আটকে আছে—সে…

    read more

  • দাগ

    দাগ

    অপর্ণা দে বিশ্বাস ১ পৌষের হিমেল হাওয়া বইছে। ছোট শহরের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে শিউলিদের সিঁড়িওলা দোতলা বাড়ি। বারান্দার গ্রিলে শুকোতে দেওয়া উলের সোয়েটার, গামছা, চাদর—সবকিছুই মায়ের যত্নে সারি করে লটকানো। ঘরের ভেতর দিয়ে একমুখী রোদ এসে পড়েছে মেঝের গায়ে, সেই রোদের উপর খেলা করছে ধুলোবালি, যেন সোনার কণা। শিউলি সবে সাত বছর পেরিয়েছে, চুলদুটো…

    read more

  • কাশ্মীর, চারটি হৃদয়

    কাশ্মীর, চারটি হৃদয়

    ঋতা মিত্র উত্তরের ডাক কলকাতার এক গরম বিকেল। ছেলের হোমওয়ার্ক শেষ করিয়ে চায়ের কাপ হাতে বসেছিল মেঘনা। জানলার ধারে বসে থাকা সেই একচিলতে সময়টা তার খুব নিজের। সোফার পাশের টেবিলে পেতলের কেটলিতে আধখানা কফি পড়ে আছে, ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু মনের ভেতরটা তখন উত্তপ্ত—আবারও সেই পুরনো ক্লান্তি, কেটে যাওয়া দিনের ভার। হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠল।…

    read more

  • মনের টানাপোড়েন

    মনের টানাপোড়েন

    অর্পণা দাস নিরবতার অন্তরালে মধ্যরাত্রির নিস্তব্ধতায় জানালার ধারে বসে থাকা মেয়েটির নাম রায়া। বাইরের অন্ধকার যেন ঠিক ওর মনটা মতোই গাঢ়, ভারী। ঘরের ভেতরে ঝুলে থাকা ঘড়ির কাঁটা যেন থেমে গেছে – সময়ও হয়তো ওর কষ্টের সামনে থেমে পড়েছে। রায়ার বয়স মাত্র পঁচিশ, কিন্তু চোখে-মুখে যেন ত্রিশ বছরের ক্লান্তি। গত পাঁচ বছর ধরে সে একটি…

    read more

  • চিঠির বাইরেটা

    চিঠির বাইরেটা

    মেঘলা দাশগুপ্ত পর্ব ১ কলকাতার গরমটা জুনে এসে যেভাবে গায়ে লেগে থাকে, মেঘলার কাছে সেটা অস্বস্তিকর নয়, বরং একধরনের আশ্বাসের মতো। সে ভালোবাসে বিকেলের ছায়া যেভাবে জানালার পাল্লা ফুঁড়ে ঘরে ঢোকে, সেই রকম নিঃশব্দ আলো, যেটা কারও চোখে পড়ে না, কিন্তু মনটা একটু একটু করে ধুয়ে দেয়। এই বাড়িটা সে ভাড়া নিয়েছে এক মাসের জন্য—লেখালেখির…

    read more

  • যতটা গোপন, ততটা সত্যি

    যতটা গোপন, ততটা সত্যি

    পৌষালী চক্রবর্তী ১ সন্ধেটা ছিল অদ্ভুতভাবে নির্জন। রবিবারের শহর যেন ক্লান্ত হয়ে একটু জিরিয়ে নিচ্ছে। গোলপার্ক থেকে পায়ে হেঁটে সাউথ সিটির দিকে আসার মাঝপথে রূপা থেমেছিল লেকের ধারে। শরৎশেষের নরম বাতাস বইছে, কানের পাশে চুল উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে মাঝে মাঝেই। সে বসে আছে গোল বেঞ্চে, পাশেই কফির কাপ, কোলের ওপর একটা বই—তবে পাতাগুলো নড়লেও মন…

    read more

  • মুখোশ

    মুখোশ

    ঈশিতা বন্দ্যোপাধ্যায় অধ্যায় ১: ছায়া নামে লেখা রাত তখন প্রায় তিনটে। কলকাতার দক্ষিণ প্রান্তে, গড়িয়া অঞ্চলের একটি ছোট্ট ফ্ল্যাটের বারান্দায় বসে ইরা সেন ধোঁয়ায় ধোঁয়ায় ভাসা চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে মনস্থির করলেন—আজ লিখতেই হবে। এই সপ্তাহের শেষে পাণ্ডুলিপি পাঠানোর সময়সীমা। কিন্তু ইরার ভেতর যেন এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব—লিখবেন, কিন্তু নিজের নামে নয়। নামটা হবে আগের মতোই—রুদ্র…

    read more