অরিন্দম মুখোপাধ্যায় পর্ব ১: সুরের প্রথম রাত দুর্গাপুরের সেই কারখানাটা শহরের বাইরে, গঙ্গার ধারে, ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে আজ। ইট-সিমেন্ট ভাঙা, জানালার কাচগুলো শূন্য চাহনির মতো তাকিয়ে থাকে। রাতের বেলা লোকজন ওদিক মাড়ায় না—কেউ বলে শিয়াল-কুকুর আছে, কেউ বলে ভুত আছে। সেই রাতে অরূপ, শহরের এক সাংবাদিক, হঠাৎ শুনতে পেল খবর— “দাদা, কারখানার ভেতরে আবার বাঁশির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।” একজন চা-ওয়ালা বলছিল। গলাটা ফিসফিসে, চোখে ভয়। অরূপ সঙ্গে সঙ্গে খুঁটিয়ে জানতে চাইল। চা-ওয়ালা কাঁপা গলায় বলল, “আগের বার শুনেছিল যে, সে নাকি তিন দিনের মধ্যে নিখোঁজ হয়ে গেছে। এ বার আবার বাজছে, কাল রাত থেকেই।” অরূপের ভেতর সাংবাদিকের কৌতূহল জেগে উঠল।…
-
-
ঋত্বিক বসু কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের গলির ভেতরে অচেনা এক দোকান হঠাৎ চোখে পড়ল অরুণবাবুর। কাঠের পুরনো বোর্ডে লেখা—‘কালান্তর এন্টিকস’। চারপাশে আধুনিক দোকানের ঝলমলে সাইনবোর্ডের ভিড়ে এই অক্ষরগুলো যেন একেবারে উনিশ শতকের চিহ্ন। তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। দোকানের ভেতরটা অদ্ভুত অন্ধকার, জানালার কাচে ধুলো জমে আছে, কিন্তু ভেতর থেকে ক্ষীণ হলুদ আলো বেরিয়ে আসছে। এক অদ্ভুত টান অনুভব করলেন, যেন কেউ ডাকছে। অরুণবাবু পেশায় শিক্ষক, ইতিহাসের মানুষ। পুরোনো জিনিসপত্র তাঁর দুর্বলতা। তাই দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলেন। ভেতরে প্রবেশ করতেই কপালে ঠান্ডা বাতাস লাগল, যেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোনো ঘরে ঢুকেছেন, অথচ জানেন এই দোকানে সেরকম কিছু নেই। চারদিকে ভাঙাচোরা কাঠের আলমারি, পুরোনো…
-
শুভ্রনীল দত্ত পর্ব ১: ফিরে আসা বাড়িটার নাম মধুবন কোঠি হলেও সেখানে এখন আর মধু নেই, নেই কোঠির আভিজাত্য। কয়েক দশক আগেও যেখানে চিত্রশিল্পীরা আসতেন রং তুলিতে ধরতে তার সৌন্দর্য, এখন সেখানে কেবল ধুলো, ঝোপঝাড় আর খালি জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়া সময়। ঋদ্ধি মেট্রো থেকে নেমে টোটো ধরে পৌঁছাল গ্রামের মোড় পর্যন্ত। বাকিটা হেঁটেই যেতে হবে। এই বাড়িতে সে শেষ এসেছিল আট বছর বয়সে, দাদুর শ্রাদ্ধে। তারপর বাবা-মা বিদেশে চলে গেলে কলকাতায় মামাবাড়িতেই মানুষ হয়েছে। কিন্তু হৃদয়ের এক কোণে এই বাড়িটা যেন মায়ার মতন আটকে ছিল। “আপনি ওখানে যাচ্ছেন?”—টোটোচালক একটু থেমে বলেছিল, নাম শুনেই মুখ অন্ধকার। “হ্যাঁ, মধুবন কোঠি।…
-
অমিতাভ ধর অধ্যায় ১: কুয়াশার পথ রাত দশটা বাজে। রাহুল গাড়ির জানালার কাচ খুলে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। হিমেল হাওয়া গাল ছুঁয়ে যাচ্ছে। গাড়ি উঠছে পাহাড় বেয়ে—চুনাভাট্টি, দার্জিলিং-এর এক বিস্মৃত পাহাড়ি গ্রাম, যেটা এখনো পর্যটনের খাতে উঠে আসেনি। পাশে বসা অর্ণব, হাত গুটিয়ে মোবাইলে পাহাড়ি মানচিত্র ঘাঁটছে।— “এটা নিশ্চয়ই শেষ মোড়,” বলে নয়না, জানালার কুয়াশা মোছার চেষ্টা করতে করতে।— “নিশ্চয়ই?” হেসে ওঠে ঋদ্ধি, “অবশ্যই না! এখনো এক ঘণ্টা বাকি।”— “এই ট্রিপটা তুই কেন ঠিক করলি ঋদ্ধি?” প্রশ্ন করে রাহুল।ঋদ্ধি কিছুক্ষণ চুপ থেকে উত্তর দেয়, “ঠাকুমার ডায়েরিতে এই গ্রামের কথা ছিল। ছোটবেলায় অনেকবার শুনেছি… কিন্তু এবার দেখতে এলাম।” গাড়ির ড্রাইভার—একজন চুপচাপ…