• Assamese

    গোপন ডায়েৰী

    সঞ্চিতা ৰাজখোৱা গাঁওখনৰ সেই শীতল পুৱা অলপ ভিন্ন আছিল। সাধাৰণতে মাটিৰ পথাৰে শুৱনি কৰা কুকুৰবোৰৰ ভোকালিৰে দিন আৰম্ভ হ’লেও সি দিনটোত যেন কিবা শূন্যতা ভাসি আছিল আকাশত। লোকবোৰ নিজৰ কাম-কাজত নোহোৱা যেন অশান্তি অনুভৱ কৰিছিল, যেন কিবা এক মহতীয়ান শূন্যতা গাঁওখনৰ বুকুত পৰি আছে। খবৰ আহিল—এজন নামী সাহিত্যিক যি বহু বছৰ ধৰি গাঁওখনৰ শেষ প্রান্তত একেলগীয়া হৈ থাকিছিল, তেওঁ নিশা নিশান্তে মৃত্যুৰ লগত যাত্ৰা কৰিলে। তেওঁ আছিল অতি পুৰণি কিন্তু ভিন্ন ধৰণৰ মানসিকতা থকা মানুহ। জনা-শুনা লোকৰ সঙ্গ এৰি তেওঁৰ জীৱন আছিল কলম, কাগজ আৰু নীৰৱতাৰ সৈতে। মৃত্যুৰ খবৰ অহাৰ লগে লগে গাঁওখনৰ মানুহবোৰ তেওঁৰ ভাঙি যোৱা ঘৰলৈ ওলাই আহিল,…

  • Bangla - নারীবিষয়ক গল্প

    অচেনা পাতা

    প্রাপ্তি দাস ১ জীবন যেন একঘেয়েমি স্রোতে ভেসে চলছিল অন্বেষার। সকালবেলা চোখ মেললেই রান্নাঘরের ধোঁয়া, বয়স্ক মায়ের বকুনি আর সমাজের অলিখিত নিয়মের চাপ তাকে ঘিরে ধরত। বইয়ের তাক ভর্তি অসংখ্য খাতা, ডায়েরি, অর্ধলিখিত গল্প—সবকিছু যেন নিঃশব্দ সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তার দমিয়ে রাখা কণ্ঠের। লেখার হাত তার থেমে গেছে, অথচ ভেতরে জমে থাকা শব্দেরা ক্রমাগত কড়া নাড়ছে। মায়ের একটাই কথা—“এত পড়াশোনা করেছ, কিন্তু লিখে কী হবে? সংসার সামলানোই আসল কাজ।” বাইরে প্রতিবেশীদের কটাক্ষ, আত্মীয়স্বজনদের দৃষ্টি—সবই যেন তাকে বোঝাতে চায়, লেখালিখি কোনো জীবিকা নয়, এটা নিছক খেয়াল। অথচ অন্বেষা জানত, তার কলমের ভেতরে লুকিয়ে আছে তার সত্যিকারের জীবন, এক নতুন পৃথিবী।…

  • Bangla - নারীবিষয়ক গল্প

    নদীর গোপন নাম

    ঋতুপর্ণা দাশগুপ্ত পর্ব ১: নদীর ডাক গাঁটা যেন অদ্ভুত নিস্তব্ধতায় মোড়ানো ছিল। শীতল দমকা হাওয়া ভোরের আকাশে নীলচে ছাপ রেখে দিত আর দূরে শাল-সেগুনের বনের ফাঁক দিয়ে ভেসে আসত নদীর গুঞ্জন। এই নদীর নাম ছিল কুলেশ্বরী। তবে মাধুরী ছোটবেলা থেকেই জানত, নামটা পুরোটা নয়—এই নদীর আরেকটা নাম আছে, একেবারে গোপন নাম, যা শুধু রাতের আঁধারেই ফিসফিস করে শোনা যায়। মাধুরী তখন দশ বছরের মেয়ে। প্রতিদিন বিকেলে সে বাঁশের ডাল দিয়ে বানানো কঞ্চির দোলনা নিয়ে নদীর ধারে যেত। নদীর পাড়ে বসেই তার পড়াশোনা, খেলাধুলো সবকিছু। কিন্তু এক পূর্ণিমার রাতে, হঠাৎ করেই সে শোনে অদ্ভুত একটা আওয়াজ—যেন নদী গুনগুন করছে। প্রথমে ভেবেছিল…

  • Bangla - ভ্রমণ - রহস্য গল্প

    হিমালয়ের ছায়ায়

    ঋদ্ধি সেনগুপ্ত পর্ব ১: ভোরট্রেন কলকাতার ভ্যাপসা গরম আর অনন্ত জটের ভিড়ের মধ্যে অর্ণার বুক ভরে উঠছিল এক অদৃশ্য ক্লান্তিতে। প্রতিদিন সকালেই সে অফিসের বাস ধরত, ফাইল আর কম্পিউটার স্ক্রিনে ডুবে থেকে সন্ধ্যার পরে ঘরে ফিরত। চারপাশের সবাই যেন শুধু ছুটছে, অথচ কোথাও পৌঁছোচ্ছে না। গত কয়েক মাসে সে বুঝতে পেরেছিল—তার নিজের ভেতরেও এক রকম শূন্যতা জমেছে, যা ভরাট করার মতো কিছু নেই। এই শহর তাকে আর টানে না। একরাতে ডেস্কে বসেই সে হঠাৎ বুকিং করেছিল দার্জিলিংয়ের ট্রেন টিকিট—আর ভাবেনি। সকাল সাড়ে তিনটেয় অ্যালার্ম বাজার আগেই তার ঘুম ভেঙে যায়। চারদিক তখনও অন্ধকার, কেবল ভেজা বাতাসে ভেসে আসছিল বৃষ্টির গন্ধ।…

  • Assamese

    তোমাৰ নামৰ ৰঙ

    অরন্যা দাস গুৱাহাটীৰ সেই শৰতৰ দিনবোৰত আকাশ সদায় নীলাভ থাকিব নোৱাৰে। কেতিয়াবা মেঘেৰে ভৰি যায়, কেতিয়াবা ফেঁকুৰীয়া সূৰ্যকিৰণে চকুত টোকা মাৰে। বিশ্ববিদ্যালয়ৰ আঙণটো ঠিক তেনেকৈ বহল, কোলাহলময়, কিন্তু হৰ্ষিতৰ ভিতৰৰ নীৰৱতা একোতে ভাঙি নাথাকে। সহপাঠীৰ লগত কথা-বতৰা চলে, ক্লাছত প্ৰশ্নোত্তৰ হয়, কফি হাউচত অকলাহলকৈ চাহৰ কাপবোৰে টক্কৰ খায়—তবুও তেওঁৰ বুকুৰ ভিতৰত খালি খালি যেন। তেওঁ সদায় ভাবে—“এইবোৰ মানুহৰ মাজত মই কেনেকৈ এঠাই পাইছোঁ?” উত্তৰ কেতিয়াও নাপায়। দিনটো বুধবাৰ আছিল। কলেজৰ গেটৰ লগৰেই বৰ্গদোৱাৰ তলত তেওঁ তাক প্ৰথমবাৰ দেখিলে। এজনী ছোৱালী, একেলগে শান্ত আৰু গভীৰ, ক’লা ৰঙৰ খাতাটো বুকুত আঁকোৱাই ধৰা। উজলা পান্নাৰঙী কুৰ্তি পিন্ধিছিল। চুলি সৰু, চকুৰ ওচৰত সূৰ্যৰ ফোঁটাৰ…

  • Assamese

    বতাহে ভৰা চিঠি

    ইশানী বৰা পৰ্ব ১: অচিনাকী সাক্ষাৎ গুৱাহাটী শহৰৰ বেলেগ এক মাত্ৰা আছে। বেলুকা পাৰ হ’লেই নগৰখনৰ ৰাস্তাবোৰ ক’লা-সেউজীয়া বতাহত ঢলি পৰে। কলহৰ মাজতো ক’ত যেন একো সুকৌশল নীৰৱতা থাকে। অনুষ্কাই প্ৰতি দিনৰ দৰে আজি পুনিও নীলাচ এড্ডাত কামৰ পিছত ঘূৰি আহিবলৈ ওলাইছিল। তেওঁ এজনীয়া নাছিল—ক্লাছৰ দুজনী সহপাঠিনীও লগত আছিল, যদিও কিছুমান সময়ত তেওঁলোকৰ হাঁহি-খেলৰ মাজত অনুষ্কা কেতিয়াবা চকু ফালি থকা আকাশটোত কেতিয়াবা হেৰাই যোৱাতো নিজৰ অভ্যাস হৈ পৰিছিল। সেই দিনা, হঠাতে নীলাচৰ মাজত একো অচিনাকী দৃষ্টি তেওঁৰ চকুত পৰিল। এজন যুবক—চকুত অদ্ভুত এক প্ৰগাঢ়তা। চাৰিপাশে মানুহেৰে ভৰি পৰিলেও, তেওঁলোকৰ চকুৰে যেন এক নিৰৱ সংযোগ স্থাপন হ’ল। অনুষ্কাই অচিনাকৈ চকু ঘুৰাই…

  • Bangla - রহস্য গল্প

    শূন্যঘরের নিঃশ্বাস

    মায়া মুখোপাধ্যায় পর্ব ১: অদৃশ্য কালি রাত সাড়ে বারোটার পর কলকাতার গলিগুলো এমন এক শ্বাসে ঢুকে পড়ে, যাকে আলাদা করে বোঝানো যায় না— যেন শহরটা এক বিশাল ঘড়ির কেসিং, ভেতরে অদেখা গিয়ারেরা ধীরে ধীরে ঘোরে, আর প্রতিটি ক্লিকের মাঝে কোথাও একটুখানি অন্ধকার জমে ওঠে। সেই অন্ধকারে পায়ের শব্দ মিশিয়ে দ্রুত হাঁটছিল শায়ন্তনী সেন— শহরের ছোট্ট এক সংবাদমাধ্যমের ক্রাইম রিপোর্টার। এক ঘণ্টা আগেই তার কাছে এসে পৌঁছেছে একটি অদ্ভুত খাম— কোন প্রেরকের নাম নেই, শুধু টপাটপ করে বসানো তিনটি কালো ডট, যেন কেউ ইচ্ছা করে বাকিটুকু গিলে ফেলেছে। খামের ভেতরে একটিই কাগজ, তাতে মাত্র এক লাইন: “ঘরের নিশ্বাস শুনতে পেলে বুঝবে…

  • Bangla - নারীবিষয়ক গল্প

    টিফিনবক্স

    চৈতালি মুখার্জী ১ ভোর সাড়ে চারটে। দমদমের একটি পুরোনো একতলা বাড়ির উঁচু-নীচু ইটের মেঝেতে পা রাখতেই ঠান্ডা সরে আসে পায়ের পাতায়। মীরা কাঁধে গামছা ঝুলিয়ে রান্নাঘরের দিকে এগোয়। উনুনে কেরোসিন ঢালার শব্দ, দেশলাইয়ের কাঠি ঘষে আগুন জ্বালায় সে—শব্দ হয় ফিসফিসে, অথচ বুকের ভিতর এই মুহূর্তেই যেন এক ধরণের আগুন জ্বলে ওঠে। চাল ধোয়া জল হাতে করে হাঁড়িতে ফেলে সে, পেঁয়াজ কুচো করে ফেলে সঙ্গে সঙ্গে—তাড়াহুড়োতে আঙুল কেটে গেলে পাত্তা দেয় না। চাপা নিঃশ্বাস ফেলে সে মাঝে মাঝে—আজ তিনটি নতুন অর্ডার এসেছে, তার মানে ১৩টা টিফিন বানাতে হবে, একটাও যেন কম তেল না হয়, বেশ ঝাল না হয়, আরেকটায় যেন কড়ি…

  • Bangla - অনুগল্প

    দরজাটা খোলা ছিল

    সায়ন্তন কর সন্ধ্যার পর যখন ছায়া গাঢ় হতে থাকে, আর শহরের ধূলোমাখা রাস্তায় একের পর এক বাতাসের সোঁদা স্পর্শ হয়, তখন মা বারান্দায় বসে থাকেন। তাঁর চেহারা যেন শূন্য এক আর্তনাদ, চোখে জল নেই, শুধু একটি অভ্যাস গড়ে উঠেছে—অর্ণবের জন্য অপেক্ষা। দশ বছর আগে, অর্ণব ছোট্ট ছেলে, মা’কে বলেছিল,“বড় হবো মা, শহরে গিয়ে চাকরি করব। তোমার কষ্ট আর সহ্য হয় না।”তার মুখে ছিল প্রত্যয়ের ঝিলিক, মায়ের চোখে ছিল আশীর্বাদের মায়া। মা হাসি দিয়ে শুধু বলেছিলেন,“ঠিক আছে, কিন্তু দরজাটা খোলা রাখব রে। তুই ফিরবি একদিন।”এই কথাটা অর্ণব আজও মনে রেখেছে, মনে রেখেছে মা’র সেই দরজার কথা, যা সেদিন থেকেই খোলা রাখা…