ইরা মুখার্জি পর্ব – ১ উত্তর কলকাতার পুরোনো একতলা-বাড়িগুলোর গায়ে সময়ের দাগ খুব স্পষ্ট। ঝাপসা রঙের দেওয়ালে শ্যাওলার ছোপ, টিনের ছাদের নীচে শালিকদের বাসা, আর লোহার গেটের খোঁচা খাওয়া রঙ ম্লান হয়ে আছে বহুদিন। সেই রকমই এক বাড়ি, রায়বাড়ি—যার বারান্দায় বিকেলবেলা বাতাস অন্যরকম লাগে। এখানে প্রতিদিন বসে পড়েন অমলবাবু, সদ্য অবসর নেওয়া এক স্কুলশিক্ষক। হাতে এক কাপ চা আর সামনে পত্রিকা, যদিও অক্ষরের ভেতর ডুবে থাকার বয়স তার অনেক আগেই ফুরিয়েছে। চায়ের ধোঁয়া আর নিস্তব্ধতার ভেতর তিনি শুনতে পান আশেপাশের বাচ্চাদের চিৎকার, রাস্তায় সব্জিওয়ালার হাঁকডাক, আর মাঝে মাঝে হাওয়ার ঝাপটায় শিউলির গন্ধ। অমলবাবুর বারান্দার একপাশ থেকে হঠাৎ চোখে পড়তে শুরু…
-
-
নবনীতা সেনগুপ্ত নীলাঞ্জনার শৈশব কেটেছিল নদীর ধারের ছোট্ট এক গ্রামে। দিনগুলো ছিল সাদামাটা, কিন্তু সেই সরলতায় এমন এক আবেশ ছিল যা তাকে সারাজীবন তাড়িয়ে বেড়াবে। সকালের শুরু হতো পাখির ডাক দিয়ে, দুপুরের গরমে ধানের গন্ধ ছড়িয়ে যেত বাতাসে, আর সন্ধ্যা নামলেই আকাশটা ভরে উঠত অসংখ্য তারায়। তখনই নীলা অনুভব করত, এই আকাশের ভেতর যেন লুকিয়ে আছে অদ্ভুত এক ডাক, এক রহস্য, যা তাকে ছুঁয়ে যায় প্রতিদিন। এই শৈশবের দিনগুলোতে তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সঙ্গী ছিল ঈশান। বয়সে তিন বছরের বড় হলেও তাদের মধ্যে কোনো ভেদরেখা ছিল না। ঈশান দূর সম্পর্কের দাদা, শহরে পড়াশোনা করে ছুটিতে গ্রামে ফিরত। নীলার কাছে সে ছিল…