• Bangla - ভূতের গল্প

    শ্মশানঘাটের বাঁশি

    অরুণাভ চক্রবর্তী ১ গঙ্গার ধারে বরানগরের শ্মশানঘাট যেন সময়ের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এক এলাকা। এখানে নদীর জল যেন অন্য রকম ছন্দে বয়ে চলে—দিনে আলো আর নৌকার কোলাহলে ভরা হলেও রাত নামলেই চারপাশে এমন এক নীরবতা নেমে আসে, যা মানুষের বুকের ভেতর কেমন একটা শূন্যতা তৈরি করে দেয়। পুরনো, বিশাল এক বটগাছ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ঠিক শ্মশানের পাশে, যার শিকড়গুলো মাটির ভেতর থেকে উঠে এসে কুণ্ডলী পাকিয়ে গিয়েছে, যেন মৃত মানুষের হাড়গোড় নদীর বাতাসে দুলছে। গাছের গায়ে শত বছরের শ্যাওলা, পেছনে নদীর কালো জলে পূর্ণিমা বা অমাবস্যার চাঁদের প্রতিফলন, আর দূরে জ্বলতে থাকা চিতার আগুনের লাল আভা—সব মিলিয়ে এক…

  • Bangla - রহস্য গল্প

    গোপালগঞ্জের কুয়াশা

    দীপায়ন চক্রবর্তী ১ শহরের ব্যস্ততার মধ্যে থেকেও অয়নের মন সবসময় অদ্ভুত রহস্যের খোঁজে ঘুরে বেড়াত। তার ইউটিউব চ্যানেল মিস্ট্রি অফ বেঙ্গল ইতিমধ্যেই হাজার হাজার সাবস্ক্রাইবার পেয়ে গেছে, কারণ সে এমন সব ঘটনা খুঁজে আনে যা সাধারণ মানুষ কেবল গুজব বলে উড়িয়ে দেয়। এক শীতের সকালে যখন ফোনে এক অপরিচিত নাম্বার থেকে ভিডিও ক্লিপ আসে, প্রথমে ভেবেছিল এটাও হয়তো কারো প্র্যাঙ্ক। কিন্তু প্লে বাটনে চাপ দিতেই চোখ বড় হয়ে যায়—ঘন সাদা কুয়াশায় ঢাকা গোপালগঞ্জের এক সরু রাস্তা, আর সেই কুয়াশার গভীর থেকে ভেসে আসছে নারীর এক বিকৃত, কাঁপা কাঁপা হাসি। হাসিটা যেন দূর থেকে, কিন্তু আবার কানে হালকা ফিসফিস করে বাজছে।…

  • Assamese

    বনভূতৰ হাহাকাৰ

    অভিসাৰ দত্ত দিব্ৰুগড়ৰ উত্তৰে, ব্ৰহ্মপুত্ৰৰ কিনাৰত বিস্তৃত হৈ থকা এখন ঘন বনৰ নাম মানুহৰ মুখে মুখে খুব কমেই উচ্চাৰিত হয়—“বনভূতৰ বন”। মানচিত্রত তাৰ কোনো বিশেষ চিহ্ন নাই, কিন্তু স্থানীয়সকলৰ মনত ই এক ভয়ংকৰ অন্ধকাৰ সঁচা। বহু বছৰৰ পৰা কিম্বদন্তি চলি আহিছে যে এই বনতে প্ৰৱেশ কৰা মানুহবোৰ কেতিয়াও উলিয়াই আহে নে নাই, সেয়া কোৱা কঠিন। কেতিয়াবা গাঁওখনৰ মানুহে দূৰত বনৰ গাভুৰি অংশত পৰা বজ্ৰপাতৰ দৰে আলোৰেৰে নাচনিহে দেখা পায়, কেতিয়াবা আবার বাতাহৰ সৈতে ভেসি আহে এক অদ্ভুত গুঞ্জন—যেন শতাধিক লোক একেলগে হাঁহিছে আৰু কান্দিছে। কিন্তু এই সকলোবোৰ কাহিনী বাহিৰৰ মানুহে কেতিয়াও গম্ভীৰভাৱে নলয়, সেয়া মাথোঁ ভয়-ত্ৰাসৰ গাঁওৰ ধৰণৰ কথা বুলি…

  • Bangla - ভূতের গল্প

    বিবর্ণ পটচিত্র

    প্রশান্ত ভৌমিক এক ডঃ অনির্বাণ দত্ত ট্রেন থেকে নামলেন বোলপুর স্টেশনে, অগস্টের একটি অলস দুপুরে। তাঁর কাঁধে ক্যাম্ব্রিক কাপড়ের ব্যাগ, ভেতরে নোটবুক, একটি পুরনো ক্যামেরা, আর কিছু প্রয়োজনীয় গবেষণা-সামগ্রী। শান্তিনিকেতনের এই আশপাশের অঞ্চলে তিনি বারবার এসেছেন, কিন্তু এবারের উদ্দেশ্য কিছুটা ব্যতিক্রম। পূর্ব ভারতের লোকজ শিল্পের উপর একটি দীর্ঘ গবেষণাপত্রের কাজ করছেন তিনি, যার জন্য বিশেষ করে বীরভূম জেলার হারিয়ে যাওয়া পটচিত্রের খোঁজে এসেছেন। তিনি শুনেছিলেন, বোলপুর থেকে প্রায় পনেরো কিলোমিটার দূরে এক গ্রামে এমন একটি পটচিত্র আছে, যা কেবল শিল্পগুণের জন্য নয়, তার অদ্ভুত, অলৌকিক ইতিহাসের জন্যও লোকের মুখে মুখে ফেরে। এই গল্প প্রথম তিনি শুনেছিলেন তাঁর গুরু প্রণবেশ মিত্রর…

  • Bangla - ভূতের গল্প

    শ্বেতপাথরের বালিশ

    এক মাঘ মাসের শেষে মুর্শিদাবাদ শহরের ভেজা শীত এখনও হাড়ে হাড়ে কাঁপায়। গঙ্গার পাড় ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা রাজবাড়ির ছায়ায়, ড. সায়ন্তনী মুখোপাধ্যায় একটি পুরাতন প্রত্নতাত্ত্বিক ফাইল হাতে নিয়ে চুপ করে বসেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি অনুদানের ভিত্তিতে তিনি এসেছেন মুর্শিদাবাদের হারিয়ে যাওয়া ফোক-কালচার আর মুঘল-পরবর্তী ইসলামি নির্মাণকলা নিয়ে গবেষণার জন্য। কিন্তু আসল আগ্রহ তাঁর ছিল এক রহস্যময় বস্তু নিয়ে—যার নাম কেবলমাত্র একটি ডকুমেন্টে পাওয়া গিয়েছিল: “শ্বেতপাথরের বালিশ।” নথিতে লেখা ছিল, এটি এক সময় একটি প্রাচীন মসজিদের গোপন কামরায় রাখা হত এবং বলা হত যেই এই বালিশে একবার মাথা রাখে, সে মৃতদের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে—তাদের যন্ত্রণার স্মৃতি, তাঁদের না-বলা ইতিহাস যেন…

  • Assamese

    অগুৰি নদীৰ বোকা

    ইন্দ্ৰাণী ফুকন আকাশত মেঘ জমা হৈছিল, যেন সেই গাঁওখনৰ ওপৰত ওজনীয় এটি নিৰৱ অভিশাপ বগাই আছিল। দীৰ্ঘ দহ বছৰৰ পাছত পল্লবী ওভতি আহিছিল অগুৰিপাৰ গাঁৱলৈ—এটা সুপ্ত স্মৃতিৰ পাহাৰৰ তলৰ জীয়াই থকা দুখ-সুখৰ পাতনি খুলি লৈ। গুৱাহাটী বিশ্ববিদ্যালয়ত স্নাতকোত্তৰ শেষ কৰাৰ পিছত জোৰদাৰ এটি সংবাদ সংস্থাত কাম পালে যদিও, বহুদিন ধৰি এক বুজাব নোৱাৰা ক্লান্তি, একেটা সপোনৰ ঘূৰ্ণি আৰু ঠাইদেউতাৰ দিন-দিন অসুস্থতাৰ খবৰে যেন অলক্ষ্যে তাক গাঁৱলৈ টানি আনিছিল। ছাঁ ছাঁকৈ গৈ থকা বেলিৰে সৈতে গাঁওখনত প্ৰৱেশ কৰোতেই, তেজপীয়া নদীৰ পাৰত থকা সেই অগুৰি নদী, সৰুতে য’ত সি বানৰ পাৰত খেলিছিল, এতিয়া যেন সুধি উঠিছিল—“কিয় ঘূৰি আহিলি, পল্লবী?” বতাহৰ চক্ৰকূটত উৰুৱা…

  • Bangla - রহস্য গল্প

    ভগ্ন কুঠিরের প্রতিধ্বনি

    তন্ময় লাহিড়ী নবান্নের আগে বর্ষা থেমে গিয়েছিল, কিন্তু গ্রামের কাঁচা রাস্তা এখনও স্যাঁতসেঁতে। হালকা কুয়াশায় মোড়া মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে সাব্যসাচী রায় তাকিয়ে ছিল ভগ্ন জমিদারবাড়িটার দিকে। ক’টা জানালার কাঁচ নেই, ছাদে আগাছার রাজত্ব, আর দেয়ালগুলোয় গাঢ় সবুজ শ্যাওলা লেপে আছে—তবু, সেই কুঠির যেন সময়ের ভিতর দাঁড়িয়ে আছে এক অমোচনীয় অভিযোগ নিয়ে। শহর কলকাতার জীবন থেকে দূরে, বহু বছর পর সে আবার ফিরে এসেছে বাপ-ঠাকুর্দার ভিটেয়—কিন্তু এভাবে? কুড়িয়ে পাওয়া এক পুরনো চিঠির টানে, যেখানে লেখা ছিল—“কুঠির জেগে উঠেছে, সাব্যসাচী, ফিরে আয়।” পাঠিয়েছিলেন ভবানী দাসী, যিনি তার ছোটবেলায় তাদের বাড়িতে কাজ করতেন, এখন একা থাকেন গ্রামের উপান্তে। সাব্যসাচীর মধ্যে একটা অদ্ভুত টান…

  • Bangla - ভূতের গল্প

    নিসর্গপুরের নীলকণ্ঠ

    নির্মাল্য সেনগুপ্ত এক পাথুরে পাহাড়, দূরের শাল-পলাশের বন আর উষার কুয়াশায় মোড়ানো পথ ধরে যখন অভিজিৎ আর রোহনের জিপটা ঢুকছিল পুরুলিয়ার নিসর্গপুরে, তখন সকাল গড়িয়ে দুপুর প্রায়। ঝিরঝিরে হাওয়ায় পাতা কাঁপছিল, গাছের ছায়া রাস্তার উপর ভেসে বেড়াচ্ছিল নিরবে। অভিজিৎ জানালা দিয়ে মাথা বের করে ভিডিও করছিল, ক্যামেরার সামনে হাসি ঝলমল করে বলছিল, “ওয়েলকাম টু দ্য আনচার্টেড, বন্ধুরা! আজ আমরা এসেছি পশ্চিমবঙ্গের এক রহস্যময় গ্রামে, যার নাম নিসর্গপুর। এখানে প্রতি পূর্ণিমায় পাহাড় থেকে শোনা যায় রুদ্রতাণ্ডবের ধ্বনি, আর বলে হয়, শত বছর আগে এখানে এক নীলকণ্ঠ সন্ন্যাসী ধ্যানমগ্ন হয়েছিলেন… কেউ তাঁর ধ্যানভঙ্গ করলে আর ফিরতে পারে না। সত্যি? না গুজব? চলুন,…

  • Bangla - ভূতের গল্প - রহস্য গল্প

    ভোরবেলার বাঁশির শব্দ

    রক্তিম মজুমদার ১ কান্নার মতো এক বিষণ্ণ বাঁশির সুর যখন প্রথম শোনা গেল, তখন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সদ্য ঘুম থেকে উঠছিলেন। আসলে ঘুম বলে কিছু ছিল না—অচেনা বিছানা, কাঠের জানালার কড়চড় আওয়াজ, আর পাশের ঘর থেকে আসা থালার টুংটাং সব মিলিয়ে তার ঘুম গভীর হতে পারেনি। তিনি চোখ মেলে দেখলেন চারপাশ অন্ধকারে ডুবে, কেবল সামনের দেয়ালে রাখা ঘড়ির কাঁটা থেমে নেই। ৩টা ১০ বাজে। তিনি জানালার কপাট খুলে চেয়ে দেখলেন—বাইরে নিঃস্তব্ধতা; না কুকুরের ঘেউ ঘেউ, না পাখির ডানার শব্দ। কুয়াশায় ঢাকা মাঠের ওপারে কোথা থেকে যেন ভেসে আসছে বাঁশির মায়াবী সুর। না, রবি ঠাকুরের মতো মন ভোলানো নয়; এই সুরে যেন…

  • Bangla - ভূতের গল্প

    নবান্নর আগের রাত

    অর্ঘ্য দত্ত আগমন বিকেলের আলো তখনো জমে আছে গাছের পাতায়, যখন শুভম দাস ট্রেন থেকে নামল। ছোট্ট একটা স্টেশন—নাম ‘মাহেশচর’। আশেপাশে ঝিম ধরা সবুজ মাঠ, দূরে একটা নদীর রেখা দেখা যায়, আর ঝাঁক বেঁধে উড়ছে সাদা বক। শুভম শহরের ছেলে, কলকাতার এক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। পিএইচডির বিষয় “লোকজ কৃষিপদ্ধতি ও তার সামাজিক প্রভাব”, আর সেই সূত্রেই আজ এই প্রত্যন্ত জায়গায় তার পদার্পণ। এতটা ভিতরে ঢুকতে হবে, তা আগে আন্দাজ করেনি। স্থানীয় এক শিক্ষকের মাধ্যমে পরিচিত হয়েছে গ্রামের নাম—গোপীনাথপুর, আর সেই গ্রামের পাশেই একটি রহস্যময় ধানখেত, যেখানে প্রতি বছর নবান্নর আগের রাতে কেউ পা রাখে না। স্টেশন থেকে বেরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেই…