• Assamese

    মাজুলীৰ হাৰানো মুখোশ

    ৰূপম বৰুৱা মাজুলীৰ ধূলি-ঢকা গাৱঁখনৰ সন্ধিয়া, নদীৰ পাৰৰ সৰু ঘৰেৰে বাগৰি থকা বাতৰি সকলোৰে কাণত পঠিয়াইছিল—জনাজাত শত্ৰীয়া শিল্পী ৰামানন্দ মহন্তৰ অচিন্তনীয় মৃত্যু। মানুহবোৰৰ চকুত বিশ্বাসৰ আৰু আতংকৰ মিশ্ৰণ আছিল। ৰামানন্দ মহন্ত, যাৰ নামেই গাঁওখনৰ সীমাবদ্ধ স্থানৰ পৰা বহুকাল ধৰি সৰ্বত্র প্ৰসিদ্ধ, যিজন শিল্পকলা, পৰম্পৰা আৰু শত্ৰীয়াৰ অনন্য সংযোগৰ বাবে জনাজাত আছিল, হঠাতে যিদৰে পৃথিবীৰ পৰা বিলীন হৈ গ’ল, তাক সঁচা মানিব পৰা কোৱাৰ দৰে নহ’ল। তেওঁৰ মৃত্যুৰ সংবাদেই গাঁওখনৰ ঘৰৰ ভিতৰত আৰু ৰাস্তাৰ চুপচাপ পথত এক অদ্ভুত চাঞ্চল্যৰ সৃষ্টি কৰিলে। মানুহে ক’লে, ‘ৰামানন্দ মহন্তৰ মৃত্যুৰ পিছতেই গাঁওখনত যেন অন্ধকাৰ বতৰা পৰি গ’ল।’ তেখেতৰ শেষ কেতবোৰ দিন, যিসকলে লগত আছিল, সেইবোৰে…

  • Bangla - ভ্রমণ - রহস্য গল্প

    ভিতরকনিকার নীলছায়া

    ১ নদীর ধারে নৌকো এসে ভিড়ল যখন, তখন সূর্য ধীরে ধীরে পশ্চিমে হেলে পড়ছে। গোধূলির আলো মিশে আছে মেঘলা আকাশের গায়ে, আর দূরে জলপাখিদের দল ভেসে যাচ্ছে মেঘের মতো। অর্ণব সেন নৌকার গা থেকে ক্যামেরার ব্যাগ নামালেন, তাঁর চোখে এক ধরনের উজ্জ্বল উত্তেজনা—যে উত্তেজনা কেবল নতুন জঙ্গল, নতুন অভিজ্ঞতার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের মধ্যেই দেখা যায়। ভিতরকনিকা ন্যাশনাল পার্কের নাম তিনি বহুবার শুনেছেন, বহু বইয়ে পড়েছেন, নানা নেচার ডকুমেন্টারিতেও দেখেছেন। কিন্তু এই প্রথমবার, নিজ চোখে, নিজ ক্যামেরা হাতে তিনি প্রবেশ করছেন সেই রহস্যময় ম্যানগ্রোভ জঙ্গলের ভেতরে, যেখানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লবণাক্ত জলের কুমিরেরা থাকে। চারপাশে নদীর খালবিল, কাদাজল, আর শ্বাসমূলের…

  • Bangla - ভূতের গল্প

    কালো লন্ঠন

    ১ ড. অরিন্দম মুখার্জি, কলকাতার একটি নামকরা গবেষক, তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের উদ্দেশ্যে সুন্দরবনের অদূরপ্রান্তে অবস্থিত ছোট্ট গ্রাম ধনডুবি পৌঁছান। তিনি বন এবং নদীর সঙ্গে মিশে থাকা গ্রামীণ জীবনের স্বাভাবিকতায় নিজেকে পুরোপুরি নিমগ্ন করতে চান, তবে তাঁর আসল উদ্দেশ্য আরও রহস্যময়—গ্রামের লোককথা অনুযায়ী প্রতি পূর্ণিমার রাতে নদীর পারে যে কালো লন্ঠন জ্বলে ওঠে, তা নিয়ে তিনি গভীর গবেষণা করতে চাচ্ছেন। গাছ-গাছালির মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে, অরিন্দম অনুভব করেন যে এই গ্রামটি অন্য যে কোনও স্থানের মতো নয়। নদীর জলের নীরবতা, পাতা ছিঁড়ে পড়ার শব্দ, দূরে কোথাও পাখির ডাকে, সব মিলিয়ে যেন এক অদ্ভুত সুরের সৃষ্টিকর্ম। গ্রামের প্রধান রাস্তার ধারে পৌঁছলে,…

  • Bangla - ভূতের গল্প

    মহালয়ার সুর

    অমিয় মল্লিক ১ ভোরের ঠিক সেই মুহূর্তে, যখন আকাশের গাঢ় নীল ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে রঙ নেয় কমলা-সোনালি আভা, গ্রামের মানুষদের ঘুম যেন এক অদৃশ্য শক্তি ভেঙে দেয়। একে একে কুঁড়েঘরের দরজা খুলে যায়, উঠোনে আলো ফোটার আগেই গৃহস্থরা চমকে ওঠে—দূর থেকে ভেসে আসছে এক অদ্ভুত সুর, এক চণ্ডীপাঠের গম্ভীর ধ্বনি। মাটির ভেতর থেকে যেন শিকড় টেনে আনে সেই শব্দ, আর সকালের শিউলি গাছের ফুলের মতো বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসী জানে, সেই বাড়িটা বহু বছর ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে, তাতে আর কেউ থাকে না। তবু প্রতি মহালয়ার ভোরেই শোনা যায় এই পাঠ। বৃদ্ধারা চোখে আতঙ্ক মাখে, কিশোররা সাহস দেখাতে…

  • Bangla - ভূতের গল্প

    পেত্নীর বিয়ে

    সুদীপ দে শাল, শিমুল আর পলাশের ঘন জঙ্গলে ঘেরা ছোট্ট গ্রামটির নাম রামচক। গ্রামের চারপাশ যেন এক অদৃশ্য পর্দায় ঢাকা—দিনে শান্ত, অথচ রাতে গোপনে কেঁপে ওঠে। এখানে বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসছে এক ভয়াল কাহিনি, যা শোনার পর শিশুদের চোখ ভিজে যায় আর প্রৌঢ়দের মুখে ছায়া নেমে আসে। বলা হয়, প্রতি বছর এক বিশেষ পূর্ণিমার রাতে, যখন আকাশে চাঁদ যেন দগ্ধ প্রদীপের মতো জ্বলতে থাকে আর মাটির ধুলো রূপালি আলোয় ভিজে ওঠে, তখন গ্রামে অদ্ভুত ঢাকঢোল বাজতে শুরু করে। শোনা যায়, শঙ্খধ্বনি, বংশীর আওয়াজ আর মেয়েলি হাসির কোলাহল—যেন কোনো অচেনা উৎসব শুরু হয়েছে। অথচ সেই রাতেই গ্রামবাসীরা ভয়ে নিজেদের ঘরে…

  • Bangla - ভূতের গল্প

    হাতিয়ার টুং টুং শব্দ

    প্রনব কুমার সিনহা এক কলকাতার এক ব্যস্ত সন্ধ্যায়, শহরের কোলাহলের ভেতর থেকে অর্ণব সেনের মনটা যেন ছুটে যাচ্ছিল অন্য এক জগতে। তিনি পেশায় সাংবাদিক, কিন্তু নেহাত সংবাদ সংগ্রহ নয়, অর্ণবের আলাদা দুর্বলতা ছিল ইতিহাস ও লোককথার প্রতি। কলেজের সময় থেকেই তার অভ্যাস—শহরের পুরোনো ঘাট, অজানা গলি বা অচেনা গ্রামে গিয়ে স্থানীয় লোকেদের কাছ থেকে অদ্ভুত গল্প শোনা। সেদিনও একে একে রাত নেমে আসছিল বাগবাজার ঘাটে, হাওয়ায় ভেসে আসছিল ভেজা কাদার গন্ধ আর গঙ্গার জলে তরঙ্গের গুঞ্জন। সেই সময়েই হঠাৎ তার সঙ্গে পরিচয় হলো এক বৃদ্ধ নাবিকের, যার মুখে জড়ানো ছিল বহু বছরের লোনা জলের স্মৃতি। ঝাপসা চোখ, মুখে সাদা দাড়ি,…

  • Assamese

    ডাইনীৰ গহনা

    অভিৰূপ শইকীয়া গাঁওখনৰ সীমান্তত থকা গভীৰ বনটো প্ৰাচীনকালৰ পৰা এক ৰহস্যৰ আধাৰ হিচাপে জনাজাত। গাওঁবাসীৰ দৈনন্দিন জীৱন সেই বনটোকে চাৰিওফালে ঘূৰি ফুৰে—কাষৰ খেতি, গৰু-চৰাই চৰা, কাঠ আৰু জ্বালনি সংগ্ৰহ, ইত্যাদিতো সঁচাকৈ বনটো অনিবাৰ্য। কিন্তু সন্ধিয়া নেমিলে গাঁওবাসীয়ে কোনোবাই সেই দিশে পা বাড়ায় নাছিল। বনৰ ভিতৰত নৰপিশাচৰ দৰে উশাহ-ধৰা শব্দ, অচিনাকি হাঁহি, আৰু কেতিয়াবা উজ্জ্বল পোহৰ জ্বলমলোৱা দেখা গিয়াৰ কথা সৰু-ডাঙৰ সকলোৰ মুখেৰে ঘূৰি ফুৰিছিল। সৰুপণিহালৰ পৰা বয়োজ্যেষ্ঠলৈ সকলোতে এই বনক লৈ ভীত-শ্রদ্ধা মিশ্ৰ অনুভূতি আছিল। কোনোবা সূৰ্যাস্তৰ লগে লগে গৰু-গাহৰি লৈ উভতি নপাহৰি বনক পাৰ হ’লেই কিবা অঘটন ঘটিব বুলি দৃঢ় বিশ্বাস কৰিছিল। তথাপিও সময়ৰ লগে লগে কিছুমান জুৱান আৰু…

  • Bangla - তন্ত্র

    মায়াবী তাবিজ

    শুভ্রা গুহ রায় ১ রঘু ওঝা সেই রাতটি কখনও ভুলতে পারবে না। মেঘঢাকা আকাশে বজ্রপাতের শব্দ বেজে চলছিল, আর বৃষ্টির মতোই ঝড়ো হাওয়া বনভূমির গহীনতার মধ্যে প্রবেশ করেছিল। প্রতিটি পদক্ষেপে তার পায়ের নীচে ভেজা পাতা ফেটে যেত, আর বাতাসের দমকা তাকে সামান্যই সামলাতে দিচ্ছিল। সে জানত, এমন সময় বনের মধ্যে একা থাকা বিপজ্জনক, কিন্তু মানসিক উদ্যম এবং অনুসন্ধিৎসা তাকে থামতে দিতে পারছিল না। হঠাৎ, একটি অদ্ভুত আলো তার চোখে ধরা দিল—এক ধরণের ঝলমলে চকমক যা ঘিরে ছিল ঘন অন্ধকার। রঘু প্রথমে ভেবেছিল, হয়তো এটি কোনো দ্যুতি বা দূর থেকে পড়া বজ্রপাতের প্রতিফলন, কিন্তু যত কাছে গেল, ততই বুঝতে পারল এটি…

  • Bangla - ভূতের গল্প

    নদীর ধারে ডাকিনী

    মানস পাত্র অজিত মুখার্জি ছিল একেবারেই সাধারণ এক গ্রামীণ স্কুলশিক্ষক। বয়স তার ছত্রিশ, মুখে পাতলা দাড়ি, চোখে এক ধরনের ধীরস্থিরতা। শহরের চাকচিক্যময় জীবনের সঙ্গে তার কোনো যোগ নেই—বরং গ্রামের মাটির গন্ধেই সে শান্তি খুঁজে পেয়েছিল। প্রতিদিন ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে সে স্কুলের পড়া প্রস্তুত করত, তারপর ধুতি-পাঞ্জাবি পড়ে সাইকেলে চেপে স্কুলে যেত। সারাদিন ছোট ছোট বাচ্চাদের পড়ানোই ছিল তার প্রধান কাজ। বাচ্চাদের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অসীম—তাদের হাসি, তাদের ছোট ছোট প্রশ্ন তাকে এক অদ্ভুত আনন্দ দিত। দিনের শেষে যখন পাঠ শেষ হতো, তখন তার ভেতরে একধরনের ক্লান্তি জমত, আর সেই ক্লান্তি দূর করার জন্যই সে প্রতিদিন হাঁটা পথে বাড়ি…

  • Bangla - ভূতের গল্প

    ছিন্নমাথার বরযাত্রী

    ফাল্গুনী মিশ্র এক গভীর অন্ধকারে ডুবে থাকা সেই গ্রাম, নাম মালঞ্চপুর। দিনের বেলায় এ গ্রাম চিরচেনা ছবির মতো শান্ত, ধানখেতের সবুজ গালিচা, কুঁড়েঘর আর দিঘির জলে ছেলেদের হাসি-ঠাট্টা। কিন্তু সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গেই যেন অন্য এক ছায়াময় আবহ নামত এখানে। বিশেষত গ্রামের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল পুরোনো বটগাছটি যেন অজস্র রহস্য গিলে রেখেছে। সেই গাছের নিচে প্রতিদিন সন্ধের পরে ভিড় জমত, গল্পগুজব করতে করতে গ্রামের লোকেরা আসত, কেউ কেউ তামাক টানত, কেউবা পাকা পান চিবোতে চিবোতে নিজের শোনা লোককথা খুলে ধরত। আর এইসব গল্পকথার ভিড়েই ছিলেন গদাধর কাকা—আশি ছুঁইছুঁই এক বুড়ো মানুষ, সাদা দাড়ি বুক অবধি নেমে এসেছে, চোখদুটো যেন…