রাজীব আচার্য অধ্যায় ১: যাত্রার সূচনা নদীর তীরে ভ্রমণকারীর পায়ের ছন্দ যেন এক অদৃশ্য আয়তনের সঙ্গে মিলিত হয়ে যায়। গঙ্গার বিশাল জলরাশি, তার শান্তি এবং ভেসে আসা তরঙ্গের মৃদু কণ্ঠে সে প্রথমেই মুগ্ধ হয়। শহরের ব্যস্ততা ও ধুলোময় রাস্তাগুলোর কোলাহল থেকে দূরে, নদীর পাড়ে এসে সে যেন অন্য জগতে প্রবেশ করেছে। এখানকার বাতাসে এক অদ্ভুত স্নিগ্ধতা, জলরাশির ছন্দে একটি অবচেতন সংগীত ভেসে আসে। সে লক্ষ্য করে নদীর ধারে ছোট ছোট নৌকায় বসে থাকা মৎস্যজীবীদের মুখে পরিশ্রমের ছাপ, তবে সেই পরিশ্রমের সঙ্গে আছে নির্ভরশীলতার অদম্য অনুভূতি। তাদের হাতের কাজ, জালের জটিলতা, মাছ ধরার কৌশল—সবকিছু যেন একটি জীবন্ত নাট্যরূপে প্রাণ ফিরে পায়…
-
-
সৌরদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় পর্ব ১ – প্রতিদিনের দেখা সকালের মেট্রো যেন শহরের ভেতরে আলাদা এক নদী। সেই নদীতে প্রতিদিন ভেসে যায় অসংখ্য মুখ, হাজারো ব্যস্ততা, কোলাহলের ঢেউ। অরণ্যের দিনও শুরু হয় ঠিক সেভাবেই—আলোর ফোঁটায় ভেসে ওঠা সল্টলেকের এক অচেনা ফ্ল্যাটবাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে, অগণিত মানুষের সঙ্গে গা ঘেঁষে দক্ষিণমুখী মেট্রোরেলের কোচে উঠে বসা। অফিসের টাইমকার্ড, মিটিং, ল্যাপটপ—সবই যেন এক অদৃশ্য নিয়মের বাঁধনে বাঁধা। অথচ এই অচেনা যাত্রার মাঝেই কখন যে একটা মুখ ধীরে ধীরে তার দিনের শুরু আর শেষ হয়ে উঠতে লাগল, সে নিজেও টের পেল না। প্রথম দিনটিতে কিছু বিশেষ ছিল না। এসপ্ল্যানেডের ভিড়ভাট্টার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় অরণ্য হঠাৎ…
-
সমাপ্তি বর্মন সকালটা ছিল মেঘলা, অথচ বৃষ্টির কোনো আভাস নেই। রুক্মিণীর মাথার ওপর দিয়ে পাখির ছায়া উড়ে গেল—একটা নীল কুড়ুলি, সেইরকম রঙিন পালকের পাখি যেটা কেবল কুশলনগরের আকাশেই দেখা যেত তাদের ছোটবেলায়। বিশ বছর পর এই জায়গাটায় ফিরে আসার সাহস সে নিজের কাছেই একটা বিস্ময় মনে হচ্ছিল। পাশে বসে থাকা ভাই অর্ণব হঠাৎ বলে উঠল, “এই রাস্তার বাঁকে একটা নারকেল গাছ ছিল, মনে আছে?” রুক্মিণী হেসে মাথা নাড়ল। “আর মনে নেই? ওই গাছটার নিচে দাঁড়িয়ে আমি তোকে গুমরার জুস খাওয়াই বলেছিলাম, আর তো তোর গায়ে গড়িয়ে পড়েছিল!” দুজনেই হেসে উঠল। সেই হাসির মধ্যে ছিল পুরনো দিনের গন্ধ, ছিল শৈশবের ডাকে…
-
অনিমা সেন পর্ব ১: প্রথম দেখা কলকাতার এক ঐতিহ্যবাহী কফি হাউসে, একটি স্বাভাবিক বিকেল, যেখানে মানুষের ভিড় এবং কফির গন্ধ মিশে এক অদ্ভুত মাধুর্যে পরিণত হয়, সেখানে প্রথমবারের মতো দেখা হয় নিলয় এবং রাধিকার। সেদিন রাধিকা কোনো কারণে তার usual জায়গা ছাড়িয়ে অন্য একটি টেবিলে বসেছিল। কফি হাউসে এসেছে তার বন্ধুদের সাথে কিছু সময় কাটাতে। তবে, তার মনের মধ্যে কিছু ছিল, যেটি সেদিন সঠিক সময়ে, সঠিক জায়গায় পেয়ে গিয়েছিল। সে আসলে কিছুটা বিধ্বস্ত, কিছুটা ক্লান্ত, আর ঠিক তখনই নিলয়ের চোখ পড়েছিল তার ওপর। নিলয় ছিল এক উচ্চাভিলাষী তরুণ। লেখক হতে চেয়েছিল, কিন্তু সে এখন এক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। সে…