নয়ন বিশ্বাস ১ কলকাতার ঘুমন্ত ভোরে, যখন গলির কুকুরগুলোও নিস্তব্ধ হয়ে যায়, ঠিক তখনই অরুণাভর স্বপ্ন শুরু হয়। এক নির্জন নীলচে আলোর ঘেরাটোপে সে দাঁড়িয়ে থাকে, সামনে দূরের এক বটগাছ, যার পাতা ঝরে না—শুধু ধীরে ধীরে হাওয়ায় ভাসে। প্রতিবার স্বপ্নটা শুরু হয় সেই গাছের নিচে, আর সেই মেয়েটি ধীরে ধীরে আবছা হয়ে এগিয়ে আসে কুয়াশার ভেতর থেকে। তার পরনে নীল রঙা ধুতি-সদৃশ এক শাড়ি, মুখে কোনো সাজ নেই, অথচ চোখে একধরনের জ্যোতি, যেন চাঁদের আলো সেখানে ঘনীভূত হয়েছে। “তুমি আবার এসেছো,” মেয়েটি বলে ধীর কণ্ঠে। “আমি জানতাম তুমি ফিরে আসবে। কিন্তু মনে রেখো, আমি বাস্তব না… আমি তোমার হৃদয়ে আছি।”…
-
-
বর্ণালী রাহা ১ শহরের উত্তর দিকের পুরনো অলিগলির মধ্যে এমন একটা গলি আছে, যার নাম কেউ ঠিক ঠাহর করতে পারে না। লোকমুখে বলে “লালগলি”, কেউ আবার “ঠাকুরদালান গলি” বলে ডাকেন— কিন্তু অফিসিয়াল মানচিত্রে তার কোনও অস্তিত্ব নেই। এই গলির একদম শেষে, পুরোনো পাথরের সিঁড়ি ঘেঁষে, এক আধভাঙা দোকান। বাইরে থেকে দেখে বোঝা যায় না কী বিক্রি হয় সেখানে। দোকানের নামফলক নেই, কাচের জানালাও নেই—শুধু লাল কাপড় দিয়ে ঢাকা একটা কাচবিহীন গেট। কিন্তু সন্ধ্যে নামতেই ভেতর থেকে একরকম আলো ঝলসে ওঠে, যেন কেউ ভিতরে রক্তমাখা প্রদীপ জ্বালিয়ে দিয়েছে। দোকানটির নাম কেউ কখনো জিজ্ঞেস করে না—যারা আসে, তারা ঠিক পথ খুঁজে নেয়।…