• Bangla - তন্ত্র

    ত্রিনয়নী

    উৎসব মুখার্জী মেদিনীপুর শহরের প্রান্তে যখন অর্ণবের ট্রেন এসে দাঁড়াল, তখন সকালের কুয়াশা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। সে নেমে চারদিকে তাকাল—পরিচিত অথচ অচেনা লাগছিল জায়গাটিকে। ছোটবেলায় সে এখানে বহুবার এসেছে, মামার বাড়ি ছিল এই শহরে, কিন্তু তারপর থেকে কলকাতার ব্যস্ততা, পড়াশোনা, চাকরি আর শহুরে জীবনের দৌড়ঝাঁপ তাকে এই মাটির গন্ধ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। এখন আবার ফিরে আসার একটাই কারণ—তার বোন অনন্যা। বহু বছর আগে, অদ্ভুতভাবে অনন্যা হারিয়ে যায়। পরিবারে সেই ক্ষত আজও শুকোয়নি। বাবা-মা বোনের নাম শুনলেই কেঁদে ফেলেন, আর আত্মীয়রা চুপ করে যায়। অর্ণব একসময় চেষ্টা করেছিল খোঁজার, কিন্তু অল্প বয়সে তার কিছুই করার ছিল না। এখন যখন সে…

  • Bangla - রহস্য গল্প

    নীল হীরের অভিশাপ

    অর্কদীপ চক্রবর্তী পর্ব ১ — প্রদর্শনীর রাত বালিগঞ্জের ‘মিত্র ভিলা’ যেন আজ আলোর এক জটিল গোলকধাঁধা। প্রাচীন করিন্থীয় স্তম্ভগুলোতে সাদা কাপড়ের পর্দা নেমে এসেছে, বাতাসে শীতাতপের সঙ্গে ফুলের গন্ধ—চামেলি, টিউব রোজ, আর একটু যেন আপাত অচেনা ধূপের ধোঁয়া। চৌহদ্দিতে অক্সফোর্ড স্ট্রিটের দিকে থেকে মৃদু ট্রামের ঘণ্টা ভেসে আসে, কিন্তু বাড়ির ভিতর তা পৌঁছয় না; ভিতরের উল্লাস আর ফিসফাস শব্দ সবকিছুকে আড়াল করে দেয়। আজ প্রদর্শনীর রাত—শুভ্রাংশু মিত্র তাঁর নতুন অধিগ্রহণ, সেই বিরল নীল হীরের ‘প্রাইভেট ভিউয়িং’-এর আয়োজন করেছেন। ‘নীল শাপলা’—এই নামটায় স্থির হয়েছে বাড়ির শিল্পপরামর্শদাতা মৃণালিনী বসু। কাঁচের বক্সের মধ্যে হীরেটা রাখা—জার্মানির বুলেটপ্রুফ গ্লাস, চারদিক জুড়ে ক্ষীণ লাল লেজার-গ্রিড, নিচে…

  • Bangla - রহস্য গল্প

    গুপ্তধনের ছায়ায়

    অর্ণব গুহ পর্ব ১: পুরনো পাতার গন্ধে বৃষ্টির পর বিকেলের আলোটা যেন গড়বেতার আকাশে রূপকথার পর্দা টেনে দিয়েছে। মাটি থেকে ধোঁয়ার মতো জলীয়বাষ্প উঠছে, যেন মাটিও নিঃশ্বাস নিচ্ছে। রিমি জানালার পাশে বসে ছুঁয়ে দেখছিল তার ঠাকুরদার পুরনো নোটবুকটা। হলুদ হয়ে যাওয়া পাতাগুলোর গায়ে ঘামের মতো ছাপ, পুরনো কালি ঝাপসা, কিন্তু কিছু লেখা এখনও পরিষ্কার— “যদি খুঁজে পাও সেই লাল পাথর, তার নিচে শুয়ে আছে কুড়ি কুড়ি স্বর্ণমুদ্রা—বজ্রসেনের রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার। কিন্তু তার আগে পেরোতে হবে বাঘের গুহা, মৃত জলের কুয়া, আর রক্তলাল মহুল গাছ।” রিমি একগাল হেসে উঠে চিৎকার করে ডাকল, “আকাশ! ঈশান! তুহিন! তোরা একবার দেখ তো!” আকাশ, যে…