সুশান্ত নস্কর অধ্যায় ১ – নিঃসন্তান দম্পতির আশা রবি ও রুমার সংসারটি গ্রামের সাধারণ জীবনের মধ্যে গভীর শান্তি ও এক ধরনের অদৃশ্য দুঃখ বহন করত। বহু বছর ধরে তারা নানা চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়েও সন্তানের আশায় ব্যর্থ হয়েছেন। প্রতিটি মাসের প্রথম এবং শেষ দিনগুলো যেন তাদের জীবনে অতিরিক্ত চাপ ও হতাশা নিয়ে আসে। রুমা প্রায়শই তার কোল গলে শিশুর কল্পনা করে, স্বপ্নে সেই কল্পিত শিশুকে দেখে হেসে ওঠে, আবার কখনও চোখের কোণে অজান্তেই জল আসে। রবি চেষ্টা করে সংসারের কাজকর্ম ও তার চাকরিতে মন দিতে, কিন্তু রুমার চোখে যে দুঃখের ছায়া, তা তিনি কখনো এড়াতে পারেন না। তারা শুনেছে…
-
-
তমাল রায় ১ অর্ণব যখন প্রথমবার নির্জন শ্মশানঘাটের ধুলোমাখা পথ পেরিয়ে প্রবেশ করল, তখন রাতের আকাশে চাঁদটি অর্ধেক আকারে ঝুলছিল। আশ্রমের চারপাশে বন এবং মৃত গাছের ছায়া মিলেমিশে এক অদ্ভুত নিরবতা তৈরি করেছিল। পায়ে পাথরের শব্দ পড়লেই যেন সারা আশ্রম প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। অর্ণবের বুক ভরা অস্থিরতা ও উত্তেজনা এক সময়ে তার মনকে জ্বলতে বসিয়েছে। গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে সে ধীরে ধীরে তার তন্ত্রসাধনার স্থানটি নির্ধারণ করল—একটি পুরনো শ্মশানঘাটের ধারে, যেখানে আগের কেউ খুব কম প্রবেশ করেছে। আশ্রমের প্রবেশ পথের গাছগুলো যেন তাকে সতর্ক করে বলছিল—“এই জায়গায় প্রতিটি ছায়া চোখ রাখে।” অর্ণব জানত, এখান থেকে তার সাধনা আর কোনো সাধারণ পথে যাবে…