সুতীৰ্থ সান্যাল ১ কাশীর গঙ্গার ধারে অনন্তকালের মতো জ্বলতে থাকা মহাশ্মশান যেন মৃত্যুর এক অনন্ত নাট্যমঞ্চ। দিনের আলো ঢলে পড়তেই ঘাটের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে গলিত মোমের মতো গরম ধোঁয়া, ছাইয়ের তীব্র গন্ধ, আর কাঠ পুড়বার ফসফস শব্দ। কখনো শোনা যায় শবযাত্রার করুণ সুর, কখনো আবার ভেসে আসে পুরোহিতদের গম্ভীর মন্ত্রোচ্চারণ। নদীর জলকেও মনে হয় যেন এক অন্তহীন ছাইয়ের আয়না, যেখানে মৃতদেহ ভেসে আসে, দাহ হয়, আর আগুনের পর শেষ হয়ে যায় সব। আকাশের কালো ধোঁয়া আর লালচে শিখা যেন মিলেমিশে আড়াল করে দেয় চাঁদ-তারা। এই শ্মশানই কাশীর মানুষের কাছে মুক্তির দ্বার, কিন্তু একইসঙ্গে ভয়েরও। কারণ এখানে জীবন আর মৃত্যু দু’জন…
-
-
দেবব্রত সরকার নিঃসঙ্গ শ্মশানের অন্ধকারে সায়ন ধীরে ধীরে তার আসন গ্রহণ করে। চারপাশে ছড়িয়ে থাকা শ্মশানশিল্পের অবচেতন ছায়া তার মনকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে। দূরে দূরে পঁচা পাতার ঘন স্তূপে কাকেরা কাঁকড়ির মতো ডাকছে, যেন শ্মশান নিজেই তার নিঃশ্বাসে সচেতন। বাতাস শীতল, ঠোঁট কামড়ে যায়, এবং হাওয়ার সঙ্গে মাটির ঘ্রাণ মিশে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ সৃষ্টি করছে। সায়নের চোখ বারবার অন্ধকারে মেলে—প্রায় মনে হচ্ছে, অদৃশ্য কোনো চোখ তার দিকে তাকিয়ে আছে। সে মনে মনে গুরুজীর নির্দেশ অনুসরণ করে, নিজের নিশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু শ্মশানের অন্ধকার যেন তার প্রত্যেকটি পদক্ষেপকে ওজন দিচ্ছে। আগুনের ক্ষীণ আলো তার সামনে নাচতে নাচতে অদৃশ্য রূপে অঙ্কন…