তানিয়া দে সকালবেলার রোদ যখন সবে ধানক্ষেতের মাথায় নরম সোনালি আলো ছড়িয়ে দিতে শুরু করেছে, তখনই গ্রামের মাঠে হাওয়া বইছিল এক অদ্ভুত প্রশান্তি নিয়ে। মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা লাল কাপড়ে মোড়া কাকতাড়ুয়াটা যেন চারদিকের দৃশ্যকে গম্ভীর দৃষ্টিতে দেখছিল—তার জীর্ণ মুখখানা, খড়ভর্তি বুক আর বাঁশের দেহে ঝোলানো লাল জামাটি বাতাসে দুলে উঠছিল। দূর থেকে দেখলে মনে হত কোনো মানুষ হাত পা ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু গ্রাম্য বাচ্চাদের কাছে সে ছিল বন্ধু আর খেলনার মতো। সেদিনও কৃষ্ণ প্রথমবার সেখানে এসেছিল—খালি পায়ে ধুলো মাখা মাঠে দৌড়ে এসে কাকতাড়ুয়ার পায়ের কাছে বসে পড়েছিল। তার হাতে একটা ছোট্ট কাঠের গাড়ি, যেটা তার বাবা তৈরি করে…
-
-
পৌলমী দে কলকাতার সেপ্টেম্বরের বিকেলগুলো একটা অদ্ভুত শূন্যতা বয়ে আনে, যেন আকাশও জানে এই শহরে কিছু সম্পর্ক থাকে—অধরা, অনির্ধারিত। স্কুল ছুটি হলে যেমন ছেলেমেয়েরা প্রাণপণে মাঠ ছেড়ে যায় না, তেমনই কিছু বন্ধুত্ব শেষ হতে চায় না, শুধু রূপ বদলায়। আজ মিতুলের স্কুল থেকে ফিরতে দেরি হয়ে গিয়েছিল। তিরিশ পেরোনো মিতুলের জীবনে যেন প্রতিটি দিনই একইরকম—বাচ্চাদের পড়ানো, খাতা দেখা, বাড়ি ফেরা, মা-র সাথে গল্প করা আর নিজের ছোট্ট একাকীত্বের গণ্ডীতে নিজেকে গুটিয়ে রাখা। কিন্তু আজ ফেরার পথে কলেজ স্ট্রিটের কোন এক মোড়ে আচমকাই তার চোখে পড়ল এক চেনা মুখ—অর্পণ। হ্যাঁ, অর্পণ সেন, তার ছেলেবেলার বন্ধু। সেই অর্পণ, যে একসময় নোটবই ধার…