অনিন্দ্য দে ১ গ্রামের রাত সবসময়ই শান্ত, বিশেষ করে শীতের শেষে ফাগুনের সন্ধ্যায় যখন চারপাশে পেঁচা ডাকে আর দূরে কোথাও শেয়ালের ডাক ভেসে আসে। সেদিনও তেমনই এক রাত। আকাশে চাঁদ নেই, শুধু অন্ধকারের চাদর মাটিকে ঢেকে রেখেছে। দূরে দূরে ক্ষেতজমির মাঝে জোনাকিরা আলো জ্বালাচ্ছিল ক্ষুদ্র প্রদীপের মতো। গ্রামের লোকেরা তখন গভীর নিদ্রায়, কেবল কয়েকজন কৃষক কাজের ফাঁকে রাত জেগে বসেছিল মচানঘরে। হঠাৎই নিস্তব্ধতার বুক চিরে ভেসে এল এক অদ্ভুত শব্দ—শাঁখের আওয়াজ। শাঁখ বাজানোর সেই সুর গ্রাম্য পূজার সময় সবাই শুনেছে, কিন্তু আজকের সেই সুর ভিন্ন ছিল—অত্যন্ত দীর্ঘ, করুণ আর বেদনায় ভরা। কৃষকরা প্রথমে ভেবেছিল হয়তো কোনো বাড়িতে পূজা চলছে, কিন্তু…
-
-
ভাস্কর রায় আষাঢ়ের দিনগুলোতে গ্রামটা যেন সবসময়ই এক অদ্ভুত অশুভ আবহে ঢেকে থাকত। নদীর পাড় থেকে শুরু করে পুকুরঘাট পর্যন্ত, চারদিক যেন স্যাঁতস্যাঁতে বাতাসে ভারী হয়ে উঠত। সেদিনও বিকেল থেকেই মেঘ জমতে শুরু করেছিল আকাশে। কালো মেঘের দল যেন ঝাঁকে ঝাঁকে এসে একত্রিত হয়েছে গ্রামটার ওপর, যেন গোটা আকাশটাকে গিলে খাবে। সন্ধ্যা নামতে না নামতেই মেঘের গর্জনে গ্রাম কেঁপে উঠল। মাটির কুঁড়েঘরের ভেতরে মহিলারা তাড়াতাড়ি প্রদীপ জ্বালিয়ে কপালে হাত ঠেকিয়ে প্রার্থনা করতে লাগল। খড়ের ছাউনি ভিজে জলে টপটপ করে পড়ছিল, আর শিশুরা কোলের ভেতরে লুকিয়ে আতঙ্কে চুপ হয়ে গেল। গ্রামে তখন ভয় আর অশুভ সংকেতের গন্ধ ছড়িয়ে আছে। মানুষজন বলাবলি…
-
পরিমল মণ্ডল অধ্যায় ১: কুয়াশার ভিতর রাত তখন প্রায় দুটো। বারুইপুর বাইপাস ধরে হালকা কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। দূরের হেডলাইটগুলো কুয়াশার পর্দায় ভেসে আসছে, যেন আলো নয়—ভাসমান চোখ। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর অভিষেক ঘোষাল তার বাইকের হেডলাইট বন্ধ করে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পুলিশের নৈশ টহল ছিল তার রুটিন, কিন্তু আজ রাতে কিছু অদ্ভুত অস্থিরতা কাজ করছিল তার মনে। হঠাৎ করে রেডিও কমিউনিকেশন থেকে খবর আসে—একটি দুর্ঘটনা হয়েছে বাইপাসের কাছে, একটি লরির সঙ্গে একটি ছোট গাড়ির সংঘর্ষ। অভিষেক সঙ্গে সঙ্গে বাইক স্টার্ট করে এগিয়ে যান। ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন, লরি উল্টে পড়ে আছে আর ছোট গাড়িটি দুমড়ে মুচড়ে গেছে। আশেপাশে কেউ নেই, কিছু…