অভিষেক দাশগুপ্ত অধ্যায় ১ : অভিযানের সূচনা তাদের যাত্রার শুরুটা যেন ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। পৃথিবীর আকাশে ভোরের প্রথম আলো ফুটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই বিশাল মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কন্ট্রোল রুমের ভেতরে ব্যস্ত প্রকৌশলীরা, বিজ্ঞানীরা আর সামরিক পর্যবেক্ষকরা একসঙ্গে চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছিলেন। উৎক্ষেপণের স্থানটি ছিল হাজারো মানুষের ভিড়ে মুখরিত, যেন সমগ্র মানবজাতি চোখ মেলে অপেক্ষা করছে নতুন দিগন্তের। দলের ছয়জন তরুণ বিজ্ঞানী—অর্পিতা, রাহুল, নীল, মায়া, কাব্য ও আদিত্য—এই অভিযানের নেতৃত্বে। প্রত্যেকের চোখে ছিল অনাবিষ্কৃত এক পৃথিবীর স্বপ্ন, আর বুকে ছিল অদম্য সাহস। তারা জানত এই মিশন শুধু বৈজ্ঞানিক গবেষণা নয়, বরং মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন। উৎক্ষেপণের…
-
-
হিমাদ্ৰী ঘোষ ১ মানিক ছিল ছোট্ট এক গ্রামীণ ছেলেবেলা থেকে দুষ্টু আর কৌতূহলী, তবে তার দুষ্টুমির রূপটা অন্যরকম। যখন অন্য বাচ্চারা মাঠে ঘুড়ি ওড়াতো কিংবা নদীর ঘাটে সাঁতার কাটতো, তখন মানিক অচেনা এক জগতে ডুবে থাকতো। সে ভাঙা রেডিওর ভেতর থেকে লাল-সবুজ রঙের তার টেনে বের করতো, পুরোনো ফ্যানের মরিচা ধরা পাখা খুলে এনে হাতে ঘোরাতো, কিংবা ফেলে দেওয়া ব্যাটারির ভেতরের কালো পেস্ট নিয়ে পরীক্ষা করতো। তার চোখে এগুলো নষ্ট জিনিস নয়, বরং একেকটা অজানা খেলার মাঠ। বাবা ছিলেন গ্রামে লোহার কাজের কারিগর, তার হাতের যন্ত্রপাতি অনেক সময় চুপিচুপি নিয়ে গিয়ে মানিক নিজের খেলায় ব্যবহার করতো। মা খেতে কাজ করতেন,…
-
ইন্দ্রনীল বসু ১ মহাকাশ গবেষণার নতুন অধ্যায়ে ভারত প্রবেশ করল “অস্ত্রযান গবেষণা কেন্দ্র” নামক সংস্থার হাত ধরে। বহু বছরের পরিকল্পনা, অগণিত পরীক্ষামূলক অভিযান আর বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পর অবশেষে তৈরি হলো দেশের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী মিশন—“চন্দ্রযান-অভিযাত্রী”। পরিকল্পনা ছিল সহজ, কিন্তু লক্ষ্য ছিল ভয়ানক কঠিন। পৃথিবীর মানুষ যতবার চাঁদের দিকে তাকিয়েছে, ততবারই তারা দেখেছে সেই অংশ, যেটি পৃথিবীর দিকে মুখ করে থাকে। কিন্তু এর উল্টোদিকে, অদেখা এক দিক আছে—চাঁদের অন্ধকার পিঠ, যেখানে এখনো কোনো মানুষ পা রাখেনি। এই অদেখা অংশেই পাঠানো হলো এক নতুন অনুসন্ধানী মহাকাশযান, আর তার দায়িত্ব পড়ল ভারতের অন্যতম দক্ষ নভোচারী অনির্বাণ সেনের কাঁধে। চারিদিকে এক উত্তেজনার আবহ—মিডিয়া, বিজ্ঞানী,…
-
শুভঙ্কর সিনহা ১ কলকাতা শহরের রূপ বদলে গেছে একেবারে ভিন্ন এক বাস্তবে। গঙ্গার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন মিনার, কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়া কিংবা পুরোনো চায়ের দোকানগুলো যেন কোনোভাবে টিকে আছে, কিন্তু তাদের চারপাশে দাঁড়িয়ে উঠেছে কাঁচের গায়ে ঝলমলে আকাশচুম্বী অট্টালিকা। শহরের আকাশে প্রতিনিয়ত ভেসে যাচ্ছে উড়ন্ত ট্যাক্সি, যেগুলো শব্দ না করে নিঃশব্দে ভেসে চলে, কেবল বাতাস কেটে একধরনের হালকা গুঞ্জন তুলছে। এসপ্ল্যানেড থেকে শ্যামবাজার, কিংবা হাওড়া থেকে নিউটাউন—সব পথেই এখন অদৃশ্য রেললাইনে ছুটে চলেছে মেট্রো, আর তার ভেতরে নেই কোনো চালক—রোবটদের দক্ষ পরিচালনায় চলছে সবকিছু। লোকে অবাক হলেও ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এমনকি গলিপথের মোড়ে মোড়ে যে চায়ের দোকান আছে,…
-
অনিত চক্রবর্তী এক অর্ণব সেনের চোখে তখন ঘুমের ছায়া নেই, কেবল জেগে আছে অদম্য স্বপ্নের আলো। ল্যাবরেটরির অন্ধকার ঘরখানায় টেবিলজোড়া ছড়ানো যন্ত্রপাতি, নীল আলোতে ঝলমল করা মনিটরের গ্রাফ, আর চারদিকে ছড়ানো অজস্র খসখসে কাগজ। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে তার গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মীদের কাছে পাগলামি ছাড়া কিছু নয়, কিন্তু অর্ণব বিশ্বাস করে—সময় কোনো স্থির জিনিস নয়, বরং এক অদৃশ্য নদী, যেখানে স্রোতের বিপরীতে হাঁটার মতোই অতীতে বা ভবিষ্যতে যাওয়া সম্ভব। সে নিজেকে বারবার বোঝায়, এই আবিষ্কার শুধু বিজ্ঞানের ইতিহাস নয়, মানবজাতিরও নতুন ভোর নিয়ে আসবে। শৈশব থেকেই সে ভবিষ্যৎ দেখার স্বপ্নে বিভোর ছিল—যেখানে প্রযুক্তি সীমাহীন, রোগমুক্ত এক সমাজ, আর মানুষ মহাশূন্যে নিজের…