অরুণিমা বসু শিলিগুড়ির শহুরে আলোর ঠিক সীমারেখা পেরিয়ে, যেখানে পিচঢালা রাস্তা কাঁকরবিছানো পথের সঙ্গে হাত বদল করে, সেখানেই শুরু হয় জলদাপাড়ার রেঞ্জ—প্রায় ছয় হাজার হেক্টর জুড়ে বিস্তৃত এক জীবন্ত নিঃশব্দতা। অরিন্দম সরকার এখানে নতুন পোস্টিং পেয়েছে তিন মাস হল। ছোটবেলা থেকেই তার প্রকৃতির প্রতি অনুরাগ, কিন্তু সেটা কখনো উচ্চস্বরে বলা হয়নি। শান্ত, অল্পভাষী, সাদামাটা এই মানুষটা সদ্য কলকাতা থেকে বদলি হয়ে এসে একেবারে জঙ্গলের মাঝখানে এসে বসবাস শুরু করেছে—যেখানে সন্ধে নেমে এলে মানুষের অস্তিত্ব হারিয়ে যায়, আর কেবল গাছেদের ফিসফাস শোনা যায় হাওয়ার সঙ্গে। অরিন্দমের দিন শুরু হয় সূর্য ওঠার আগে। নিজের কঞ্চির তৈরি চায়ের কাপ হাতে করে সে বনপথ…
-
-
অর্কদীপ রায় এক কলেজ স্ট্রিট থেকে একটু ভেতরে, লাল রঙের দোতলা স্কুলবাড়িটা ঠিক আগের মতোই আছে—বাইরের দেওয়ালে এখনো পুরনো শ্যাওলা, আর ক্লাসরুমের জানালায় একই ধরনের কাঁচের শিক। একটা দশক কেটে গেছে, অথচ সৌরভ দত্তের মনে হয় যেন কালই সে এখান থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল পরীক্ষার পর দিন। পায়ে পায়ে এগোতে থাকে স্কুল গেটের ভেতরে, একটা অদ্ভুত কেমন খোঁচা খোঁচা অনুভূতি হচ্ছে বুকের বাঁ দিকে। স্কুলের মাঠে সাজানো চেয়ার, ব্যানারে বড় করে লেখা ‘ব্যাচ অব ২০১১—রিইউনিয়ন’, মাইক্রোফোনে পুরনো দিদিমণির কণ্ঠস্বর, এবং অজস্র চেনা মুখ—তবু সৌরভের চোখ খোঁজে শুধু একজনকেই। অন্বেষা মুখার্জী। একসময় তার পাশে বসে ছড়া পড়ত, প্রশ্ন করত, হাসত, আবার হঠাৎ…