স্মিতা সেন বিকেলটা ঘন বর্ষায় ভিজে গিয়েছিল যেন আঁধারের রঙে। দিগন্তজোড়া নীলচে মেঘে ঢেকে থাকা আকাশের তলায়, ঈশান তার হাতের ব্যাগটা টেনে তুলল ট্যাক্সি থেকে নামার সময়। সেই পুরনো বাংলো, যার ছাদে কচুরিপানার পাতার মত শ্যাওলা জমেছে, তার দালানে দাঁড়িয়েই সে প্রথম রূপসীকে দেখেছিল। সে এক অপূর্ব মুহূর্ত। যেন কেউ জলরঙে এঁকে দিয়েছে। মাটি ছোঁয়া শাড়ির প্রান্তটা কাঁধ থেকে খানিকটা পিছলে পড়েছে, ভেজা কেশরাশি কপাল ছুঁয়ে ঝুলছে, আর চোখে সেই চিরচেনা বিষণ্ণতা, যেটা শুধু একাকিত্বের গায়ে জন্মায়। ঈশান চোখ সরাতে পারছিল না। শিল্পী মাত্রেই সৌন্দর্যে হারিয়ে যায়, কিন্তু এই সৌন্দর্যটা যেন ক্যানভাসের বাইরের কিছু—নাড়ি ছোঁয়া, নিঃশ্বাসের মতো বাস্তব। “আপনি নিশ্চয়ই…
-
-
ঈশিতা সেনগুপ্ত জানলার ওপারে কলকাতার উত্তরের এক পুরনো পাড়ায়, লাল ইটের তিনতলা বাড়িটা বহু দিনের সাক্ষী। উঠোনজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পুরনো ফুলদানি, জং ধরা বাইসাইকেল, আর সবথেকে দৃষ্টিনন্দন—একটা ঘন পাতা কদমগাছ। সেই গাছের নিচে প্রতিদিন সকালে বসে এক ছেলেটা, তার কোলে একটা স্কেচবুক, হাতে পেন্সিল—নিস্তব্ধ ঘোরে ডুবে যায় নিজের আঁকায়। ছেলেটির নাম অয়ন। অয়নের জীবনের ছন্দ বড়ো একঘেয়ে ছিল। আঁকাআঁকি আর কদমগাছের নিচে বসে থাকা ছাড়া সে খুব একটা কারো সঙ্গে মেশে না। পড়াশোনার দিন পেরিয়ে, সে এখন ঘরে বসেই গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ করে। পাড়ায় বহুদিনের বাসিন্দা, তাই কারও চোখে নতুন নয়। তবে হঠাৎ করেই সব বদলে গেল, যেদিন জানালায় সে…