নবনীতা সেনগুপ্ত নীলাঞ্জনার শৈশব কেটেছিল নদীর ধারের ছোট্ট এক গ্রামে। দিনগুলো ছিল সাদামাটা, কিন্তু সেই সরলতায় এমন এক আবেশ ছিল যা তাকে সারাজীবন তাড়িয়ে বেড়াবে। সকালের শুরু হতো পাখির ডাক দিয়ে, দুপুরের গরমে ধানের গন্ধ ছড়িয়ে যেত বাতাসে, আর সন্ধ্যা নামলেই আকাশটা ভরে উঠত অসংখ্য তারায়। তখনই নীলা অনুভব করত, এই আকাশের ভেতর যেন লুকিয়ে আছে অদ্ভুত এক ডাক, এক রহস্য, যা তাকে ছুঁয়ে যায় প্রতিদিন। এই শৈশবের দিনগুলোতে তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সঙ্গী ছিল ঈশান। বয়সে তিন বছরের বড় হলেও তাদের মধ্যে কোনো ভেদরেখা ছিল না। ঈশান দূর সম্পর্কের দাদা, শহরে পড়াশোনা করে ছুটিতে গ্রামে ফিরত। নীলার কাছে সে ছিল…
-
-
অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায় পর্ব ১: সন্ধ্যাবেলা এক অদ্ভুত দেখা দুমগাড়ি গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে এক বিশাল নদী, যেটি ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তের দৃষ্টান্ত—একটি জলপথ, যা কখনো কখনো জীবনের সেতু, আবার কখনো বিভাজক হয়ে ওঠে। নদী তার স্রোত নিয়ে চলে, কিন্তু মাঝখানে থাকে কাঁটাতার, দেয়াল—যা মানুষের সম্পর্ককে ভেঙে দেয়। এখন সন্ধ্যা। নদী পাড়ে বসে থাকে রিনা, তার পা বালির মধ্যে গাঁথা। চোখ দুটি যেন নদীর ওপারে, যেখানে তার প্রিয় ভিটে—বাংলাদেশ। এখানে সে অবৈধভাবে চলে এসেছে, তবে এখন নদীই তার জায়গা, নদীই তার আবেগের সমুদ্র। অপর পাড়ে, মাধুপুর গ্রামের এক তরুণ ছেলে—অর্জুন। সে প্রতিদিন সন্ধ্যায় নদীর পাড়ে আসে, কিছুটা নিঃসঙ্গতা আর…