তিয়াস চক্রবর্তী ১ বটগাছটা ছিল বিশাল, ছায়াময় আর পুরনো। বনের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা সেই গাছটাকে পাখিরা ডাকে “আকাশদ্বার”—যেন তার ডালপালায় সিঁড়ি বেয়ে আকাশ ছোঁয়া যায়। সেখানে বাস করত রকমারি পাখি—নীল টিয়া, সবুজ বেনেবউ, সোনালি ঘুঘু আর শাদা পায়রা। প্রত্যেকের নিজের গান ছিল, নিজের আভিজাত্য। গাছজুড়ে প্রতিদিন সকালবেলা এক অপূর্ব সঙ্গীতসন্ধ্যা বসত—কারও কণ্ঠে মিষ্টি রাগ, কারও গলায় ঝংকারের ঝরনা। এই সংগীতের মাঝেই বসবাস ছিল একমাত্র সেই পাখিটির—যার গলায় ছিল না কোনো সুর, যার গায়ে ছিল না কোনো রং। তার নাম কেউ নেয় না—সবাই তাকে বলে “ওই কাকটা।” সে নিজে নিজের নাম রেখেছিল কাকু। কাকু কালো, সাধারণ, আর তুচ্ছ—এই তিন অভিধায়…
-
-
অরুণাভ বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটপেটি ভীতু বনে দিন বদলেছে। বদলেছে শহর, বদলেছে গান, বদলেছে মানুষের মন। কিন্তু রুদ্র বাউল আর তরুণ ধ্বনি—এই দুই সুরের সাধকের জীবন যেন থেমে পড়েছে এক গোধূলি রেখায়। তাদের গলায় সুর আছে, বুকে সাহস আছে, কিন্তু মঞ্চ নেই, শ্রোতা নেই, আর নেই সেই সময়ের মরমি চাহিদা। রুদ্র এখন থাকে গোপীবাগের একচালা বাড়ির ছাদে, যেখানে জানলার পাশে একটা হাওয়াকল ঘোরে ধীরে ধীরে। তরুণ থাকে তার নিচের ঘরে, যেখানে দোলনচাঁপার গন্ধ আর পুরোনো তবলার খোলস একসঙ্গে মিশে থাকে বাতাসে। তারা এখন দিনে দিনে বাজারের পেছনের ফাঁকা মাঠে বসে গান গায়, কেউ খেয়ালে শোনে, কেউ হেসে পাশ কাটিয়ে যায়। একদিন সকালে…