ঋদ্ধি সেনগুপ্ত পর্ব ১: ভোরট্রেন কলকাতার ভ্যাপসা গরম আর অনন্ত জটের ভিড়ের মধ্যে অর্ণার বুক ভরে উঠছিল এক অদৃশ্য ক্লান্তিতে। প্রতিদিন সকালেই সে অফিসের বাস ধরত, ফাইল আর কম্পিউটার স্ক্রিনে ডুবে থেকে সন্ধ্যার পরে ঘরে ফিরত। চারপাশের সবাই যেন শুধু ছুটছে, অথচ কোথাও পৌঁছোচ্ছে না। গত কয়েক মাসে সে বুঝতে পেরেছিল—তার নিজের ভেতরেও এক রকম শূন্যতা জমেছে, যা ভরাট করার মতো কিছু নেই। এই শহর তাকে আর টানে না। একরাতে ডেস্কে বসেই সে হঠাৎ বুকিং করেছিল দার্জিলিংয়ের ট্রেন টিকিট—আর ভাবেনি। সকাল সাড়ে তিনটেয় অ্যালার্ম বাজার আগেই তার ঘুম ভেঙে যায়। চারদিক তখনও অন্ধকার, কেবল ভেজা বাতাসে ভেসে আসছিল বৃষ্টির গন্ধ।…
-
-
অমিতাভ ধর অধ্যায় ১: কুয়াশার পথ রাত দশটা বাজে। রাহুল গাড়ির জানালার কাচ খুলে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। হিমেল হাওয়া গাল ছুঁয়ে যাচ্ছে। গাড়ি উঠছে পাহাড় বেয়ে—চুনাভাট্টি, দার্জিলিং-এর এক বিস্মৃত পাহাড়ি গ্রাম, যেটা এখনো পর্যটনের খাতে উঠে আসেনি। পাশে বসা অর্ণব, হাত গুটিয়ে মোবাইলে পাহাড়ি মানচিত্র ঘাঁটছে।— “এটা নিশ্চয়ই শেষ মোড়,” বলে নয়না, জানালার কুয়াশা মোছার চেষ্টা করতে করতে।— “নিশ্চয়ই?” হেসে ওঠে ঋদ্ধি, “অবশ্যই না! এখনো এক ঘণ্টা বাকি।”— “এই ট্রিপটা তুই কেন ঠিক করলি ঋদ্ধি?” প্রশ্ন করে রাহুল।ঋদ্ধি কিছুক্ষণ চুপ থেকে উত্তর দেয়, “ঠাকুমার ডায়েরিতে এই গ্রামের কথা ছিল। ছোটবেলায় অনেকবার শুনেছি… কিন্তু এবার দেখতে এলাম।” গাড়ির ড্রাইভার—একজন চুপচাপ…