অদ্রীশ সেনগুপ্ত পর্ব ১ : পূর্ণিমার রাত পূর্ববঙ্গ থেকে ভেসে আসা লোককথার মতোই যেন গল্পটা শুরু হয়েছিল। নদীর ধার ঘেঁষে ছোট্ট গ্রাম—দেবীপুর। এই গ্রামে আজও অনেক পুরনো আচার চলে, আর আছে নানারকম অদ্ভুত গল্প, যেগুলো নিয়ে লোকেরা আড্ডা দেয় সন্ধেবেলা পুকুরঘাটে বা মাঠের আলপথে বসে। তবে সবচেয়ে বেশি ফিসফাস হয় যে কাহিনী নিয়ে, তা হলো চতুর্দোলার কনে। এই গ্রামে বছর পঁচিশ আগে একটা বিয়ে ভেস্তে যায়। কনে সীতারা—সাদা মুখশ্রী, টকটকে লাল শাড়ি পরা, চোখে ভয় আর লজ্জার ছায়া। হঠাৎই বিয়ের দিন অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেকের মতে সে বিষ খেয়েছিল। কিছুদিন পর মৃতদেহকে গ্রামের লোকেরা মন্দিরের পাশে এনে চার বাঁশে বাঁধা…
-
-
অদ্রিজা চক্রবর্তী শরতের দুপুরটা ছিল অন্যরকম, বাসটা যখন কাঁচা রাস্তা ছেড়ে গোসাইপুরের চৌমাথায় এসে থামল, তখন চারদিকের আলো এক অদ্ভুত নরম সোনালি রঙে ঢেকে গেছে, যেন সূর্য নিজেকে ধীরে ধীরে ভাঁজ করে ফেলছে; শহরের ধুলোভরা গলিপথে এতদিন কাটিয়ে আসা ইলা মাথা উঁচু করে শ্বাস নিল, মনে হলো বুকের ভেতর যেন অচেনা এক স্বচ্ছ বাতাস জমে যাচ্ছে, যার সঙ্গে মিশে আছে কাঁচা ধানের গন্ধ, মাটির ভিজে গন্ধ, আর কোথাও অদৃশ্যভাবে ভেসে আসা কাশফুলের পরাগ; হাতে ছোট্ট ব্যাগ, ভেতরে ক্যামেরা, ডায়েরি, আর কয়েকটা বই—এবারের সফরটা নাকি নিছক অবকাশ নয়, ইলা বলেছিল নিজেকে, ‘এটা কাজের জন্যও’, কিন্তু আসলে সে জানত যে শহরের চাপে…