অনিরুদ্ধ গোস্বামী পর্ব ১: ছাই ও প্রত্যাবর্তনতালপুকুরে ফিরে আসার দিনটা কুয়াশায় ডুবে ছিল। সকালের আলোও যেন পায়ের নিচে পচে যাওয়া পাতা। বাস থেকে নামতেই একরাশ গন্ধ এসে নাকে লাগে—পুরনো ঘামের, সোঁদা মাটির, আর মৃত কিছু একটা। দেবদান মুখার্জি, একসময় নামকরা ডকুমেন্টারি নির্মাতা, এখন এক মানসিক ভাঙনের পর নিজেকে গুটিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তালপুকুরে তার ঠাকুরদার বাড়ি—এমন একটা জায়গা যেখানে কেউ আর থাকেনা, শুধু দেয়ালের ফাটলে সময় জমে আছে। সে একটা সাদা ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে রিকশা ধরে, রিকশাওয়ালা কিছু না বলে মাথা নিচু করে চালায়। যেন সে দেবদানকে দেখেই চিনে ফেলেছে, কিন্তু মুখে কিছু বলবে না। শহরটা কেমন যেন কুঁকড়ে আছে,…
-
-
মৈনাক দত্ত আখড়ার প্রথম আলো শান্তিনিকেতন ছাড়িয়ে কাঁকরপথ ধরে যত এগোয় প্রীতম, ততই যেন শব্দ কমে আসে, গন্ধ বাড়ে। মাঠে বাতাসে ধানগাছের ঘ্রাণ, পাখিরা গানের মতো ডাকছে, আর মাঝে মাঝে কোনো অজানা সুর কানে বাজে—কোনো একতারা, না কি সময়ের ধ্বনি, বোঝা যায় না। প্রীতম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। বিষয়—“বাউল দর্শনে দেহতত্ত্ব: এক সমকালীন পাঠ”। থিসিস লিখছে, কিন্তু বই পড়া আর কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করে তার মন ভরে না। সে চায় ছুঁয়ে দেখতে, শ্বাস নিতে। তাই এসেছে শান্তিনিকেতনের কাছের এই অখ্যাত বাউল আখড়ায়, নাম ‘উত্তরের পথ’। পৌঁছাতেই প্রথম যে জিনিস চোখে পড়ে, তা হল একটা তুলসী গাছ। উঠোনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে শান্ত, স্থির।…