সম্বিত দাশগুপ্ত অধ্যায় ১: সংকেত চাঁদের প্রান্তরের সেই গভীর নিশুতি ভেদ করে যখন ‘অরোরা-১’ গবেষণা কেন্দ্রের অ্যান্টেনা প্রথমবারের মতো এক অদ্ভুত কম্পনধর্মী সংকেত ধরা পড়ল, তখন কেউই তা গুরুত্ব দিতে চায়নি। মহাকাশে এমন ইন্টারফেরেন্স হরহামেশাই দেখা যায় — সৌরঝড়, উপগ্রহের প্রতিধ্বনি, কিংবা অজানা মহাজাগতিক কণার ছোটাছুটি। কিন্তু ড. অনিরুদ্ধ সেনের অভিজ্ঞ চোখ বুঝে ফেলল, এতে আছে কিছু ভিন্নতা। সংকেতটি ছিল ছন্দোময়, নির্দিষ্ট বিরতিতে ফিরে আসছিল। সময়মতো পুনরাবৃত্তি, নির্দিষ্ট উচ্চতা ও কম্পাঙ্কে শব্দের মতো কিছু… যা প্রাকৃতিক নয়, বরং কৃত্রিম। তারপরে আরও অদ্ভুত ব্যাপার ঘটল — সেই সংকেতের তরঙ্গবিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিস্তা রায় বললেন, “এটা যেন কারও নিঃশব্দ আর্তি… যেন কেউ…
-
-
পৃথিবী তার চেনা আলোয় জেগে ছিল সেই ভোরে। কলকাতার আকাশটা কেমন গাঢ় ছায়ায় মোড়া, আর বাসের হর্ণ, চায়ের দোকানের কাশা কাশা আওয়াজ—সবকিছু যেন অরুনিমার শরীরে গেঁথে ছিল সেদিন। ওর চোখে তখন ব্যাগভরা কাগজ, অ্যাস্ট্রো-বায়োলজির রিপোর্ট, এক জোড়া ঘুমহীন চোখ, আর একটা রুমাল—যেটা ঈরা বানিয়ে দিয়েছিল ফেলে যাওয়ার আগের রাতে। অরুনিমা জানত, এই যাত্রা তার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি—চাঁদের বুকে ভারতীয় বিজ্ঞানী হিসেবে অবতরণ করা শুধু তার নয়, গোটা দেশের গর্ব। তবুও একটা ভার যেন বুকের বাঁ পাশে দলা পাকিয়ে ছিল, ঠিক যেমন বোঝা জমে মেঘলা আকাশে। ট্যাক্সি যখন বাড়ি থেকে বেরোলো, ঈরা তখন তার গাল চেপে ধরে বলেছিল, “তুমি কি আকাশে…