তপন কুমার মুখার্জী ১ শীতের শেষ দিকের একটি সকাল। কলকাতার হাওড়া স্টেশন থেকে বর্ধমানগামী লোকাল ট্রেনটি ধোঁয়া ছড়াতে ছড়াতে এগোচ্ছে। জানালার ধারে বসে আছেন ড. অরিন্দম মুখার্জি—চোখে পাতলা ফ্রেমের চশমা, কোলের উপর মোটা নোটবুক আর কলম। বাইরে শস্যক্ষেত, তালগাছ, আর মাঝেমাঝে কুয়াশা ভেদ করে দেখা যাচ্ছে গ্রামীণ কুঁড়েঘর। অরিন্দম ইতিহাসের ছাত্র নন, বরং ইতিহাস তাঁর জীবনের অনিবার্য এক নেশা। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক, পরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করে এখন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন। তাঁর থিসিসের বিষয়—বঙ্গের জমিদারি যুগের শেষভাগে তান্ত্রিক আচার ও স্থাপত্য। মাসখানেক আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কাইভে পুরনো নথি ঘাঁটতে গিয়ে তিনি প্রথম ‘চন্দ্রমণ্ডপ’-এর উল্লেখ পান—একটি পাথরের বেদি,…
-
-
সৌরভ দাশগুপ্ত ১ রাত প্রায় দুটো। শহরের সমস্ত আলো নিভে গেছে, কেবল একফালি জ্যোৎস্না জানালার ফাঁক গলে বিছানার চাদরে পড়ে রয়েছে। দেবার্ঘ্য ঘুমিয়ে পড়েছে কিছুক্ষণের মধ্যেই, যেমন প্রতিদিন করে। তবে তার ঘুম কখনোই নিস্তরঙ্গ নয়, বরং এক অসমাপ্ত স্বপ্নের উপকূলে ভেসে চলে সে। আজ রাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দেবার্ঘ্য নিজেকে দেখল এক বিস্ময়কর ধূসর উপত্যকায় দাঁড়িয়ে—চারপাশে ঘন কুয়াশা, আকাশে মেঘ ভেসে যাচ্ছে চাঁদের আলো ঢেকে। এমন সময়ে কুয়াশার ভেতর থেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে এল এক মেয়ে। তার সাদা পোশাকে যেন জ্যোৎস্না মিশে আছে, পায়ে নেই জুতো, আর সে হাঁটে এমনভাবে যেন বাতাসে ভাসছে। দেবার্ঘ্য দেখল তার চোখ, যার গভীরতা নদীর…