নবনীতা সেনগুপ্ত নীলাঞ্জনার শৈশব কেটেছিল নদীর ধারের ছোট্ট এক গ্রামে। দিনগুলো ছিল সাদামাটা, কিন্তু সেই সরলতায় এমন এক আবেশ ছিল যা তাকে সারাজীবন তাড়িয়ে বেড়াবে। সকালের শুরু হতো পাখির ডাক দিয়ে, দুপুরের গরমে ধানের গন্ধ ছড়িয়ে যেত বাতাসে, আর সন্ধ্যা নামলেই আকাশটা ভরে উঠত অসংখ্য তারায়। তখনই নীলা অনুভব করত, এই আকাশের ভেতর যেন লুকিয়ে আছে অদ্ভুত এক ডাক, এক রহস্য, যা তাকে ছুঁয়ে যায় প্রতিদিন। এই শৈশবের দিনগুলোতে তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সঙ্গী ছিল ঈশান। বয়সে তিন বছরের বড় হলেও তাদের মধ্যে কোনো ভেদরেখা ছিল না। ঈশান দূর সম্পর্কের দাদা, শহরে পড়াশোনা করে ছুটিতে গ্রামে ফিরত। নীলার কাছে সে ছিল…
-
-
রুমা মণ্ডল বাহাদুরপুর গ্রামের শেষ মাথায় যে পুরনো অশ্বত্থ গাছটা দাঁড়িয়ে আছে, তার নিচে প্রতিদিন বিকেলের পর থেকে একজন মেয়ে চুপচাপ বসে থাকে। নাম কেউ জানে না ঠিক, তবে গ্রামের লোকজন তাকে ‘পরী’ বলেই ডাকে। মেয়েটার চেহারায় এমন একরকম মায়া আছে, যেন অনেকগুলো বেদনার রঙে আঁকা হয়েছে তার মুখ, চোখ দুটো এত গভীর যে তাকালেই মনে হয় কিছু একটা হারিয়ে গেছে অনেক দূরে, যা আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। গ্রামের ছেলেপুলেরা প্রথমদিকে ভয় পেত ওকে, এমন অচেনা এক মেয়ে, কাঁধে একটা পুরনো ঝোলানো ব্যাগ, কখনো হাসে না, কারও সঙ্গে কথা বলে না, শুধু বসে থাকে। ধীরে ধীরে সবাই ওকে গ্রহণ…