বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় হিমালয়ের বুক চিরে উঠে যাওয়া সেই সরু আঁকাবাঁকা পথটায় যখন চারজন অভিযাত্রী প্রথম পা রাখল, তখন সকাল গড়িয়ে দুপুর। আকাশের রঙ ধূসর, তবে মেঘের আড়ালে সূর্য মাঝে মাঝে উঁকি দিয়ে যেন সতর্ক করে দিচ্ছে—এই পথে চলা সহজ হবে না। অভিজিৎ সেনগুপ্ত, অভিযানের দলনেতা, একজন প্রত্নতত্ত্ববিদ হিসেবে বহু দুর্গম পাহাড়, পরিত্যক্ত গুহা ও ধ্বংসপ্রাপ্ত রাজপ্রাসাদ চষে বেড়িয়েছেন, কিন্তু আজকের গন্তব্য নিয়ে তাঁর মনে সন্দেহ কাজ করছিল। এই ‘তপোবন’ সম্পর্কে যা কিছু জানা গেছে, তার সবটাই টুকরো টুকরো, বিপজ্জনকভাবে অস্পষ্ট। ঋদ্ধিমা ধর, তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী এবং নৃবিজ্ঞানী, এক প্রাচীন পোড়াদেওয়ালের গায়ে পাওয়া খোদাই দেখে এই তপোবনের সম্ভাব্য অবস্থান চিহ্নিত করেছিলেন।…
-
-
রৌনক রায় ১ রাত তখন দেড়টা। সল্টলেকের গলির মুখে জ্বলছে কেবল একটি পথবাতি। সেই হালকা আলোয় ঢাকা পড়ে আছে বিশাল এক ভবনের শেড—যেটিকে বাইরে থেকে সাধারণ কোনো গবেষণাগার মনে হলেও, তার ভেতরে সময় নিয়ে চলছিল এক অকল্পনীয় গবেষণা। ড. অনির্বাণ চৌধুরী বসে আছেন ডেস্কে, সামনে ছড়ানো রয়েছে ঘড়ির যন্ত্রাংশ, একটি প্রাচীন ব্রাহ্মী লিপিতে লেখা চর্মপুঁথি এবং তাঁর সর্বশেষ নির্মিত কোয়ান্টাম পেনডুলাম। সিগারেটের ধোঁয়া ধীরে ধীরে উঠে মিলিয়ে যাচ্ছে বাতাসে, আর তাঁর চোখ জ্বলজ্বল করছে—দীর্ঘদিনের অভ্যাসে তিনি বুঝে গেছেন, আজ কিছু হতে চলেছে। হঠাৎই ঘড়ির কাঁটা, যেটি তিনি নিজেই ডিজাইন করেছিলেন সময়চক্র পরিমাপের জন্য, ধীরে ধীরে থেমে গিয়ে ঘুরে গেল উল্টো…