শৌণক ভট্টাচার্য পর্ব ১ ১৮৫৪ সাল। মালদার আকাশে তখনও ভেসে বেড়ায় পোস্ত গাছের হলুদ ফুলের গন্ধ, অথচ সে সৌরভে ছিল না কোনও পরিত্রাণ। জেলাশহরের বাইরে, রামনগর গ্রামের শেষ প্রান্তে, মাটির ঘরে বাস করত এক তরুণ কুমোর—রাজীব দাস। বয়স চব্বিশ, চোখে ধুলো-মাখা রোদ্দুর, আর হাতের মধ্যে মাটির ভাষা। সে হাঁস-মুরগি পালত না, জমি করত না—সে কেবল মাটি গড়ত, শুকোত, পোড়াত। তার কথা বলার চেয়ে সে হাতেই বেশি বলত। তবু সেই বছর বসন্তকাল রাজীবের জীবনে অন্যরকম। জমিদারের চাহিদা কমেছে, গ্রামে মানুষ মুখ ফিরিয়েছে তার কাজ থেকে। অথচ শহর থেকে বারবার চিঠি আসছে—”লেবার চাই, অর্ডার চাই, পোস্ত চাই।” একদিন সন্ধ্যায়, মা চুপ করে…