• Bangla - প্রেমের গল্প

    অন্তরালে আগুন

    সায়ন্তনী ধর পর্ব ১: অচেনা স্পর্শ কলকাতার ভিজে সন্ধ্যে। বৃষ্টির টুপটাপ শব্দে ফ্ল্যাটের বারান্দা যেন একা বসে আছে। রিমঝিম ভেজা আলোয় স্নিগ্ধা দাঁড়িয়ে, হাতে এক কাপ কফি। তিরিশ পেরোনো এই নারী, সংসার আর অফিসের একঘেয়েমি পেরিয়ে আজ হঠাৎ যেন নিজের ভেতরেই অস্থিরতা টের পাচ্ছে। বিয়ের আট বছরের সম্পর্ক—অর্ণব, তার স্বামী, এখন প্রায় যন্ত্রের মতো। অফিস থেকে ফিরে শুধু ক্লান্ত শরীর আর একবিন্দু নিরুত্তাপ আলাপ। শারীরিক সম্পর্কও বহুদিন হয়ে উঠেছে দায়িত্বের মতো—যেন টিক চিহ্ন দিয়ে শেষ হওয়া কর্তব্য। স্নিগ্ধা আয়নায় তাকায়। চোখের নিচে হালকা কালি, ঠোঁটে এক চাপা অভিমান। অথচ শরীর তার এখনো মায়াবী, নরম চামড়ার নিচে লুকোনো এক অদম্য কামনা…

  • Bangla - প্রেমের গল্প

    অচেনা শহরে তুমি

    অর্পিতা ঘোষ ১ শ্রেয়সীর ট্রেন যখন ধীরে ধীরে নতুন শহরের প্ল্যাটফর্মে থামল, তার বুকের ভেতর অদ্ভুত এক টান অনুভূত হলো। এই শহরে তার আগে কখনও আসা হয়নি, এমনকি এই শহরের নামও শুধু সংবাদপত্র আর অফিসের নিয়োগপত্রে পড়েছে। ব্যস্ত রেলস্টেশনে নামতেই ভিড়, কোলাহল, হট্টগোল আর অচেনা চেহারার ভিড়ে নিজেকে একেবারে হারিয়ে ফেলল সে। এক হাতে ছোটো স্যুটকেস আর কাঁধে ল্যাপটপ ব্যাগ ঝুলিয়ে যখন রিকশাওয়ালাদের ডাক, ট্যাক্সিচালকদের জোরাজুরি সামলাতে গিয়ে হাঁসফাঁস করছে, তখন হঠাৎ মনে পড়ল—এখানে তাকে দেখার মতো বা নিতে আসার মতো কোনো পরিচিত মানুষ নেই। শহরের আকাশচুম্বী বিলবোর্ড, নতুন গন্ধের মিশ্রণ, রাস্তার ধুলোমাখা হাওয়া আর ছুটে চলা মানুষের ভিড়—সবকিছু যেন…

  • Bangla - অনুপ্রেরণামূলক গল্প

    পেনশনের শেষ চেক

    সন্দীপন ধর খামে মোড়া নীরবতা রমেশচন্দ্র বসু বসে আছেন জানালার ধারে রাখা সেই পুরনো বেতের চেয়ারে। জানালার গরাদের ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়া বিকেলের আলো তার রুপোলি চুলে খেলে যাচ্ছে। মাথার ঠিক পাশেই একটা ছোট কাঠের তাক, সেখানে রাখা তার স্ত্রীর একটা ছবি — মেঘলা শাড়ি, মৃদু হাসি, কপালে ছোট্ট টিপ। নাম ছিল তার — কাবেরী। আজ অনেকদিন পর আবার পোস্টম্যান এসেছিল। লাল-হলুদ ইউনিফর্ম, কাঁধে ব্যাগ। সে বলল, “বসুবাবু, আপনার পেনশনের শেষ চেকটা এসেছে।” রমেশচন্দ্র ধীরে হাত বাড়িয়ে খামটা নিলেন। যেন মৃদু এক স্নেহে ছুঁলেন। এই খামে শুধু টাকা নেই, আছে একটা দীর্ঘ জীবনের সমাপ্তি ঘোষণা। অফিসের শেষ বেতন মাসেরও বেশি…

  • Bangla - সামাজিক গল্প

    টেলিফোন বুথে ঠায় দাঁড়িয়ে

    সুদীপ্তা মিত্র অধ্যায় ১ বৃষ্টি আসবে কি না, সেটি নিয়ে আকাশ যেন নিজেই দ্বিধায়। পাড়ার মাথায় পুরোনো অশ্বত্থ গাছটার পাতায় কুয়াশার মতো শিশির জমে আছে, রোদ এখনও মুখ খুলে উঠতে পারেনি। সকাল ঠিক দশটা। এই সময়েই প্রতিবারের মতো ধীরপায়ে এসে দাঁড়ালেন অনুরাধা মিত্র—মনে হলো যেন প্রতিটি পা-ই কোনও অদৃশ্য প্রতিশ্রুতির ভার বইছে। তাঁর শাড়িটা একরঙা হালকা ধুসর, মাথায় সাদা খোঁপা, কপালে ছোট্ট লাল টিপ। মুখে একরকম ধীর, নরম বিষণ্ণতা—যেটা বয়সের চিহ্ন নয়, বরং সময়ের সঙ্গে লড়াই করে রয়ে যাওয়া অভ্যেস। তিনি বোথের ভেতর ঢুকলেন, দরজাটা নিজে থেকেই খট করে বন্ধ হল, আর পাশের চায়ের দোকানে বসা সোমনাথ ঠোঁটে চায়ের কাপ…