অধ্যায় ১: চিঠির মতো নিঃশব্দ পাহাড়ে ওঠার পথে হঠাৎ করে কুয়াশা ঘন হয়ে এল। ট্রেকিং পাথ বেয়ে যে ঘোড়ামারা ডাকে ওঠা গ্রামের দিকে এগোচ্ছিল অভিজিৎ সরকার, তার চারপাশে যেন হঠাৎই সময় থমকে গেল। বালির কাঁধে বয়ে আনা ছোট স্যুটকেস, একটা জলচৌকো ব্যাগ আর হাতে ধরা সরকারি ফাইলের খাম—সবই ভার হয়ে উঠল যেন হঠাৎ। এই ডাকঘরটা, পুরুলিয়ার এক পাহাড়ি অঞ্চলের প্রান্তে অবস্থিত, বহু বছর আগেই তালাবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে রেকর্ডে লেখা ছিল। কিন্তু হেড অফিস থেকে অদ্ভুত এক চিঠির সূত্র ধরে, তাকে বদলি করা হল এই ‘বন্ধ’ ডাকঘরে। সে ভেবেছিল হয়তো কোনো ফাইলের গরমিল, অথবা ভুল পদক্ষেপ। কিন্তু বদলিপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন…
-
-
দেবাংশু গুপ্ত ১ রবীন্দ্রনাথ গ্রামের এক অতি সাধারণ মাছ শিকারী। ছোটবেলা থেকেই তিনি মাছ ধরতেন, এবং সারা জীবনে এর চেয়ে বড় কোনো কাজ তার ছিল না। গ্রামটির পাশ দিয়ে চলে যাওয়া নদী, জলে ভাসমান ডাঙার পাশে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ প্রতিদিন সকালে মাছ শিকার করতেন। তার হাতে ছিল এক বিশেষ নেট, একটি পুরনো কাঠের ডিঙি, আর তার চোখে সবসময় এক ধরনের আশ্চর্য শান্তি ছিল। গ্রামবাসীরা তাকে ‘রবি’ বলে ডাকতো, আর তার কাজের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা ছিল অদ্ভুত। কোনো মাছ শিকারী যখন খালি হাতে ফিরত, রবীন্দ্রনাথ তখন তার কাঁধে ভালো মাছের নেট ঝুলিয়ে বাড়ি ফিরত। তবে একদিন, এক পূর্ণিমা রাতে এমন একটি মাছ…