• Bangla - কল্পবিজ্ঞান

    চোখের ভেতর মহাবিশ্ব

    সন্দীপ পাল ১ অয়ন তখন সবে সতেরোর কিশোর, ক্লাস টেনের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করে কিছুদিন অবসর কাটাচ্ছে। তার সবচেয়ে বড় অভ্যাস ছিল রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা, কারণ অন্ধকার ভরা আকাশে ছড়িয়ে থাকা নক্ষত্রগুলো যেন তাকে এক অদ্ভুত শান্তি এনে দিত। সে জানালার পাশে বসে থাকত, অনেক সময় ডায়েরি খুলে নোট লিখত—কোন নক্ষত্র কোন দিকে জ্বলছে, চাঁদের আলো কেমনভাবে মাটিতে ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু সেদিন রাতে, হঠাৎ করেই সবকিছু বদলে গেল। আয়নায় নিজের মুখের দিকে তাকাতে গিয়ে সে টের পেল, তার চোখে যেন ভেতর থেকে এক অদ্ভুত আলো ঝলমল করছে। প্রথমে সে ভেবেছিল হয়তো আলো পড়ার কারণে এমন দেখাচ্ছে, হয়তো ঘরের…

  • Bangla - ভূতের গল্প

    হাতছানি

    পাৰ্থ প্ৰতিম রায় ১ অরিন্দম চক্রবর্তী কলকাতার ভিড়ভাট্টা, কোলাহল আর অনিশ্চয়তায় ভরা জীবন ছেড়ে এসেছিল এই প্রত্যন্ত গ্রামে, যেখানে তাকে নতুন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কলেজের দিনগুলোতে তার স্বপ্ন ছিল একদিন শান্ত, নিরিবিলি কোনো জায়গায় পড়াশোনার মাধ্যমে মানুষ গড়ে তোলা। তবে শহরের ব্যস্ত রাস্তাঘাট, হট্টগোল আর অন্তহীন প্রতিযোগিতার ভেতর সে যেন নিজের ভেতরকার স্বপ্ন হারিয়ে ফেলেছিল। গ্রামে এসে প্রথম দিনেই যখন সে হেঁটে যাচ্ছিল ধুলোমাখা কাঁচা রাস্তা ধরে, তখন চারপাশের নিস্তব্ধতা তার মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দিয়েছিল। দূরে বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ, তালগাছের মাথায় ডুবে যাওয়া সূর্যের আলো, আর একেবারে নিঃসঙ্গ সোনালি সন্ধ্যা—সবকিছু মিলিয়ে তাকে মনে হয়েছিল, সে যেন…

  • Bangla - তন্ত্র

    শ্মশানের সঙ্গিনী

    দেবব্রত সরকার নিঃসঙ্গ শ্মশানের অন্ধকারে সায়ন ধীরে ধীরে তার আসন গ্রহণ করে। চারপাশে ছড়িয়ে থাকা শ্মশানশিল্পের অবচেতন ছায়া তার মনকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে। দূরে দূরে পঁচা পাতার ঘন স্তূপে কাকেরা কাঁকড়ির মতো ডাকছে, যেন শ্মশান নিজেই তার নিঃশ্বাসে সচেতন। বাতাস শীতল, ঠোঁট কামড়ে যায়, এবং হাওয়ার সঙ্গে মাটির ঘ্রাণ মিশে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ সৃষ্টি করছে। সায়নের চোখ বারবার অন্ধকারে মেলে—প্রায় মনে হচ্ছে, অদৃশ্য কোনো চোখ তার দিকে তাকিয়ে আছে। সে মনে মনে গুরুজীর নির্দেশ অনুসরণ করে, নিজের নিশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু শ্মশানের অন্ধকার যেন তার প্রত্যেকটি পদক্ষেপকে ওজন দিচ্ছে। আগুনের ক্ষীণ আলো তার সামনে নাচতে নাচতে অদৃশ্য রূপে অঙ্কন…

  • Bangla - রহস্য গল্প

    হারিয়ে যাওয়া ঘণ্টাধ্বনি

    প্ৰিয়ম বসু ১ গ্রামের নাম ছিল সোনারপুর। চারদিক সবুজে মোড়া, ধানখেতের ঢেউ, পুকুরের জলচর, আর কাদামাটির সরু পথ মিলেমিশে যেন এক অদ্ভুত শান্ত পরিবেশ তৈরি করত। কিন্তু এই শান্তির মাঝেই ছিল এক রহস্য, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গ্রামের মানুষের মনে ভয় এবং ভক্তি মিশিয়ে রেখেছিল—মন্দিরের ঘণ্টা। গ্রামে প্রায় পাঁচশো বছরের পুরনো এক মন্দির ছিল, পাহাড়ঘেরা গ্রামের কেন্দ্রে উঁচু একটি টিলার উপর। মন্দিরের ভেতরে ছিল এক বিশালাকার পিতলের ঘণ্টা, যা প্রতি রাত ঠিক বারোটায় নিজে থেকেই বেজে উঠত। কোনো মানুষ হাত না লাগিয়েও ঘণ্টার ভারী ধ্বনি গোটা গ্রামে প্রতিধ্বনিত হতো। গ্রামের লোকেরা বলত, এই ধ্বনি অশুভ শক্তিকে দূরে রাখে, গ্রামকে…

  • Bangla - ভূতের গল্প

    বটতলার কঙ্কাল

    সুমনা মাইতি অধ্যায় ১ – গ্রামের চৌহদ্দি পেরিয়ে কিছুদূর এগোলেই যে জঙ্গলঘেরা পথটা মাঠের দিকে চলে গেছে, তার মাঝেই দাঁড়িয়ে আছে এক বিরাট পুরোনো বটগাছ। চারদিকে ঝুলে থাকা অজস্র দড়ির মতো শেকড় আর অন্ধকারে ঢেকে রাখা পাতার ছাউনি যেন দূর থেকে দেখলে আকাশের সঙ্গে মিশে থাকা কোনো দানবের রূপ মনে হয়। দিনের বেলা মানুষ সেখানে গরু চরাতে যায়, শুকনো কাঠ কুড়িয়ে আনে, কিংবা ছায়ায় বসে বিশ্রাম নেয়। কিন্তু সন্ধ্যা নামলেই অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা নেমে আসে, পাখিরা ডাকতে ডাকতে থেমে যায়, আর বটগাছের শেকড়ের ফাঁক দিয়ে ওঠে অচেনা ফিসফিস শব্দ। গ্রামের ছেলেমেয়েরা একে অপরকে ভয় দেখাতে প্রায়ই বলে—“ওই গাছটার নিচে ভূত…

  • Bangla - রহস্য গল্প

    হারানো মূর্তি

    এক অরিন্দমের পদধ্বনি যখন গ্রামের সরু মাটির পথগুলোতে প্রতিধ্বনিত হলো, তখন তার মনে এক অদ্ভুত উত্তেজনা জন্ম নিল। গ্রামটি এমন একটি স্থানে অবস্থিত, যেখানে সময় যেন নিজেই ধীরে চলার চেষ্টা করছে। চারপাশের ঘরবাড়ি প্রায়শই কাঁকড়া মাটির তৈরি, তার ছাদগুলো বাঁশের খোঁপায় ঘেরা, এবং প্রতিটি ঘর যেন গল্পের অংশ বহন করছে। গ্রামের প্রবেশদ্বার থেকে দেখা যায় প্রাচীন মন্দিরের সোনালী কল্পচিত্র—যেখানে সূর্য ওঠার সময় মন্দিরের গম্বুজে আলোর খেলা যেন এক জীবন্ত শিল্পকর্ম। অরিন্দম গ্রামে এসেছিল তার গবেষণার জন্য, কিন্তু এখানে এসে তার মনে হলো যেন ইতিহাস ও বাস্তবের মধ্যে এক অদৃশ্য সেতু তৈরি হয়েছে। সে শোনেছে, গ্রামবাসীর জীবন এই দেবীর মূর্তির চারপাশে…

  • Bangla - তন্ত্র

    ডাকিনী ও সাধক

    তমাল রায় ১ অর্ণব যখন প্রথমবার নির্জন শ্মশানঘাটের ধুলোমাখা পথ পেরিয়ে প্রবেশ করল, তখন রাতের আকাশে চাঁদটি অর্ধেক আকারে ঝুলছিল। আশ্রমের চারপাশে বন এবং মৃত গাছের ছায়া মিলেমিশে এক অদ্ভুত নিরবতা তৈরি করেছিল। পায়ে পাথরের শব্দ পড়লেই যেন সারা আশ্রম প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। অর্ণবের বুক ভরা অস্থিরতা ও উত্তেজনা এক সময়ে তার মনকে জ্বলতে বসিয়েছে। গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে সে ধীরে ধীরে তার তন্ত্রসাধনার স্থানটি নির্ধারণ করল—একটি পুরনো শ্মশানঘাটের ধারে, যেখানে আগের কেউ খুব কম প্রবেশ করেছে। আশ্রমের প্রবেশ পথের গাছগুলো যেন তাকে সতর্ক করে বলছিল—“এই জায়গায় প্রতিটি ছায়া চোখ রাখে।” অর্ণব জানত, এখান থেকে তার সাধনা আর কোনো সাধারণ পথে যাবে…

  • Bangla - ভূতের গল্প

    বটতলার ছায়া

    রুদ্রনীল মুখোপাধ্যায় পর্ব ১: শীতের ধোঁয়ায় ঢাকা গ্রাম পূর্ব মেদিনীপুরের এক ছোট্ট গ্রাম। শীতকালের ভোর। মাঠে ঘন কুয়াশা নেমে এসেছে। শীতল হাওয়ায় নারকেল গাছের পাতা কাঁপছে। দূর থেকে হেঁটে আসছে কৃষকরা, কাঁধে লাঙল, মাথায় উলের টুপি। পুকুরপাড়ে বসে রয়েছে বুড়ো গোপাল—গাঁয়ের লোক তাকে ডাকে “গোপাল-ঠাকুর” নামে। বয়স আশির কোঠায়। মুখভরা সাদা দাড়ি, চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে। গ্রামের নতুন প্রজন্ম ভাবে তিনি কেবলই বুড়ো। কিন্তু বয়স্করা জানে—এই মানুষ একসময় ছিলেন লোককথার ভাণ্ডার। নদীর ধারে, বটতলার আড্ডায়, মেলা-পার্বণে—তার গল্পে জমে উঠত রাত। আজও তিনি একা বসে বটগাছটার দিকে তাকিয়ে আছেন। সেই বটগাছ গ্রামে এক রহস্য। লোকেরা বলে—গাছটার শিকড়ের নিচে লুকিয়ে আছে কোনো…

  • Bangla - তন্ত্র

    দশমহাবিদ্যা

    সুজন মুখোপাধ্যায় অধ্যায় ১: অর্পিতা ছিলো ইতিহাসের ছাত্রী, গবেষণার কাজে তার এক বিশেষ আগ্রহ ছিলো লোকাচার, লোকবিশ্বাস আর প্রাচীন দেবীসাধনা নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন—অসম্পূর্ণ একটি প্রবন্ধের জন্য মাঠপর্যায়ের কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। সেই সূত্রেই সে পৌঁছাল এক বহু পুরোনো, প্রায় ভগ্নদশা মন্দিরে, যা এখন আর কারও তীর্থক্ষেত্র নয়, কেবলমাত্র গ্রামবাসীদের চোখে ভয়ের প্রতীক। চারিদিকে বুনো লতাগুল্মে ঢাকা, মন্দিরের প্রাচীর ভেঙে গেছে অনেক জায়গায়, পাথরের মূর্তি গুলো অর্ধেক মাটির নিচে চাপা পড়েছে। মন্দির চত্বরে প্রবেশ করতেই অর্পিতা অনুভব করল এক অদ্ভুত শীতলতা, যদিও বাইরের রোদ ছিলো প্রবল। বুকের ভেতর হালকা কাঁপুনি জেগে উঠল তার, তবুও সে এগোলো—কারণ গবেষণার…

  • Bangla - তন্ত্র

    মৃত্তিকার কণ্ঠস্বর

    সুশান্ত নস্কর গ্রামটা ছোট হলেও রহস্যে ভরা। চারদিকে সবুজ ধানখেত, মাঝে কাঁচা রাস্তা আর পাড়াগাঁয়ের সেই স্নিগ্ধ নীরবতা—দিনে যত শান্ত, রাতে ঠিক ততটাই অদ্ভুত। শীতের শেষ আর গরমের শুরু, মাঝের সময়ে হঠাৎই গ্রামে ছড়িয়ে পড়তে লাগল এক ভয়ানক গুজব। মানুষ বলে, মাটির ভেতর থেকে ভেসে আসে কণ্ঠস্বর—কখনো বিলাপের মতো, কখনো প্রার্থনার মতো, আবার কখনো এমন এক অস্পষ্ট আহ্বান, যা শুনে শরীরে কাঁটা দেয়। প্রথম প্রথম দু-একজন গ্রামবাসী শুনলেও পরে অনেকে একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে লাগল। কৃষক নিত্যানন্দ একরাতে গরু ঘরে বাঁধতে গিয়ে শুনেছিল অচেনা কারও কান্না। ভাবল হয়তো পাশের জমির খাঁজে কোনো মানুষ আটকে আছে। কিন্তু কাছে গিয়ে দেখে কিছুই…