• Bangla - প্রেমের গল্প

    নীল সালোয়ার

    ঋতব্রত মুখার্জি পর্ব ১ : প্রথম দেখা সেদিন আকাশটা অদ্ভুত রঙে ভরে উঠেছিল। সারাদিনের গুমোটের পরে বিকেলের শেষে নামল হঠাৎ বৃষ্টি। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় সবাই দৌড়চ্ছে—কেউ অটো ধরছে, কেউ বাসের জন্য ছুটছে, কেউ ছাতা ভিজিয়ে হাঁটছে। আমি তখন কলেজ থেকে ফিরছিলাম, হাতে কয়েকটা ফাইল আর এক কাপ কাগজের কফি। মনে হচ্ছিল—এই ভিজে ভিজে শহরে কেবল একটাই শব্দ চলছে, বৃষ্টির টুপটাপ। বাসস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়াতেই চোখে পড়লো তাকে। নীল সালোয়ার পরে, কাঁধে ভেজা চুল ঝুলছে, একহাতে কালো ছাতা, তবু বৃষ্টির ফোঁটা তাকে যেন রেহাই দিচ্ছিল না। যেন ছাতার আড়াল থেকেও বৃষ্টি তাকে ছুঁয়ে ফেলছিল বারবার। তার চোখদুটো ছিল একেবারে সামনে, কিন্তু মনে…

  • Bangla - প্রেমের গল্প

    দূরত্বের শেষপ্রান্তে

    ঋদ্ধিমান গুহ ১ বেঙ্গালুরুর ব্যস্ততার ভিড়ে অদ্বৈতের দিন শুরু হয় একঘেয়ে অফিসের কাজ দিয়ে, শেষ হয় আবার সেই অফিসেই জমে থাকা ফাইলের পাহাড়ে ডুবে থেকে। কম্পিউটার স্ক্রিনে চোখ রেখে রাত কেটে যায়, কফির কাপে ভর করে শরীর চালায়, কিন্তু ভেতরের শূন্যতাকে কিছুতেই পূর্ণ করতে পারে না। উত্তর কলকাতার ছেলেটি ছোটবেলা থেকে কখনো ভাবেনি—শহরের এত দূরে একা পড়ে থাকবে। কাজের চাপ, নতুন জায়গার অনিশ্চয়তা, আর নিঃসঙ্গতা মিলে তাকে ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে তোলে। তবু প্রতিদিন রাত নামলেই একটুখানি আলো জ্বলে ওঠে—সোহিনীর কল। ফোনের পর্দায় ভেসে ওঠা তার মুখই যেন অদ্বৈতের দিনের সমস্ত ক্লান্তি মুছে দেয়। কিন্তু এই দেখা শুধুই কাঁচের দেয়ালে…

  • Assamese

    গাভৰু আৰু গধূলি

    চিৰন্তন হাজৰিকা গাঁওখনৰ পাৰ্শ্বৰ পৰা বগা ধূলি উৰুৱাই এখন পুৰণি ৰঙা-চেউৰি থকা বাস ষ্টপ। চাৰিওফালে শস্য-পাক পৰা পথাৰ, সেই পথাৰৰ আঁচলত বগা-হালধীয়া গধূলিৰ ৰঙেৰে ৰূপ পাল্টায় গাওঁখন। সেই ৰঙা-সেউজীয়া সন্ধিয়াবোৰত, এজন বুঢ়া মানুহ, ধুনীয়া হ’লে সঘনকৈ কঁপা হাতৰে লাঠিটো আঁকি-আঁকি, নিৰ্বাকভাৱে আহি বহে সেই গধূলিৰ অপেক্ষাৰ স্থানখনত। সেউজ কাঁইটৰ পৰা খহি পৰা পাতবোৰেও যেন তেওঁৰ সময়বোৰক গুণি থাকে। তেওঁৰ নিত্য অভ্যাস যেন এই—প্ৰতি সন্ধিয়াত, একে স্থানত বহি পথাৰৰ পিনে চাই ৰ’ব, কেতিয়াবা এজন আহে নে নাই, তাক চাওঁতে চাওঁতে গধূলি উজাই যায়, আৰু তেতিয়াও তেওঁ কোনোবাই আহিব বুলি ভাবে। তেওঁৰ নাম এতিয়া কোনো গাঁওবাসীয়ে সোঁৱৰ নেখোজে, কিন্তু তেওঁক দেখা যায়—শীতত…

  • Bangla - প্রেমের গল্প

    বইমেলার সেই বিকেলটা

    শ্রেয়া বসু এক বইমেলার বিকেলগুলো যেন সবসময় একটু বেশি রঙিন হয়। মাঠের একপাশে রোদের ঝিলিক আর মানুষের ভিড় মিলেমিশে এক অদ্ভুত উষ্ণ আবহ তৈরি করে। সেই বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কলকাতা বইমেলা তখন সেন্ট্রাল পার্কে, আর সেদিন ছিল জানুয়ারির শেষ শুক্রবার। ঋতা সেদিন প্রথমবারের মতো একা এসেছিল বইমেলায়। নিজের জগতে ডুবে থাকা এই তরুণী কোনও বন্ধুকে জানায়নি আসার কথা, অফিস থেকে ছুটি নিয়েছিল চুপচাপ, আর একটা নীলখামে পুরে নিজের পুরোনো ‘পছন্দের বইয়ের তালিকা’ নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল। স্টলগুলোতে ঘুরে ঘুরে দেখে, তালিকা মিলিয়ে বই কেনে। এমন সময়ে, ঠিক D-14 নাম্বার স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে একটা বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে তার চোখে পড়ে…

  • Bangla - সামাজিক গল্প

    টেলিফোন বুথে ঠায় দাঁড়িয়ে

    সুদীপ্তা মিত্র অধ্যায় ১ বৃষ্টি আসবে কি না, সেটি নিয়ে আকাশ যেন নিজেই দ্বিধায়। পাড়ার মাথায় পুরোনো অশ্বত্থ গাছটার পাতায় কুয়াশার মতো শিশির জমে আছে, রোদ এখনও মুখ খুলে উঠতে পারেনি। সকাল ঠিক দশটা। এই সময়েই প্রতিবারের মতো ধীরপায়ে এসে দাঁড়ালেন অনুরাধা মিত্র—মনে হলো যেন প্রতিটি পা-ই কোনও অদৃশ্য প্রতিশ্রুতির ভার বইছে। তাঁর শাড়িটা একরঙা হালকা ধুসর, মাথায় সাদা খোঁপা, কপালে ছোট্ট লাল টিপ। মুখে একরকম ধীর, নরম বিষণ্ণতা—যেটা বয়সের চিহ্ন নয়, বরং সময়ের সঙ্গে লড়াই করে রয়ে যাওয়া অভ্যেস। তিনি বোথের ভেতর ঢুকলেন, দরজাটা নিজে থেকেই খট করে বন্ধ হল, আর পাশের চায়ের দোকানে বসা সোমনাথ ঠোঁটে চায়ের কাপ…

  • Bangla - অনুগল্প

    দরজাটা খোলা ছিল

    সায়ন্তন কর সন্ধ্যার পর যখন ছায়া গাঢ় হতে থাকে, আর শহরের ধূলোমাখা রাস্তায় একের পর এক বাতাসের সোঁদা স্পর্শ হয়, তখন মা বারান্দায় বসে থাকেন। তাঁর চেহারা যেন শূন্য এক আর্তনাদ, চোখে জল নেই, শুধু একটি অভ্যাস গড়ে উঠেছে—অর্ণবের জন্য অপেক্ষা। দশ বছর আগে, অর্ণব ছোট্ট ছেলে, মা’কে বলেছিল,“বড় হবো মা, শহরে গিয়ে চাকরি করব। তোমার কষ্ট আর সহ্য হয় না।”তার মুখে ছিল প্রত্যয়ের ঝিলিক, মায়ের চোখে ছিল আশীর্বাদের মায়া। মা হাসি দিয়ে শুধু বলেছিলেন,“ঠিক আছে, কিন্তু দরজাটা খোলা রাখব রে। তুই ফিরবি একদিন।”এই কথাটা অর্ণব আজও মনে রেখেছে, মনে রেখেছে মা’র সেই দরজার কথা, যা সেদিন থেকেই খোলা রাখা…