শৌৰ্য্য সেনগুপ্ত এক পথে নামতেই শুভ্রর মনে হলো সময় যেন উল্টোদিকে বয়ে যাচ্ছে। শহরের ব্যস্ততা, কোলাহল আর আধুনিকতার মাঝখান থেকে হঠাৎই এই গ্রামে ফিরে আসা—একেবারে অন্য এক জগতে পা রাখার মতো। কাঁচা রাস্তার দুইপাশে ছড়িয়ে আছে সবুজ ধানক্ষেত, দূরে তালগাছের মাথায় ভেসে বেড়াচ্ছে পাখিরা। হাওয়ায় ধানগাছের দোল, শস্যগন্ধ মিশে আছে। কিন্তু এই সৌন্দর্যের মাঝেও গ্রামকে ঘিরে আছে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা, যেন মানুষজন হাসি-আনন্দ ভুলে গেছে। শুভ্র বহু বছর শহরে থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে এবার চিরচেনা গ্রামে ফিরেছে। ছোটবেলার স্মৃতিগুলো ভেসে উঠছিল মনে—যখন এই গ্রামে সন্ধ্যাবেলায় পূজোর ঢাক বেজে উঠত, ছেলেপিলে মাঠে খেলত, আর উৎসবের কোলাহলে গ্রাম জমে উঠত। কিন্তু আজ…
-
-
বিভাস চট্টোপাধ্যায় অধ্যায় ১ চন্দ্রকেতুগড়—এক নামই যেন রহস্যে মোড়া। সেই নাম শুনলেই মাথায় ভেসে ওঠে ধুলোমলিন প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাঠ, ঢিপির নিচে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন সভ্যতার ছায়া, আর তারই মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা শ্মশানঘেরা এক পরিত্যক্ত মন্দির, যার নাম কেউ মুখে আনে না। ঠিক সেই জায়গাতেই এক বিকেলের শেষপ্রহরে এসে পৌঁছালেন ড. তীর্থজিত্ ঘোষ। ধুলোমাখা জিপগাড়ি থেকে নেমে তিনি চারপাশটা নিরীক্ষণ করলেন—উত্তরে মেঘে ঢাকা বনাঞ্চল, দক্ষিণে বিস্তীর্ণ পতিতভূমি, মাঝখানে পাথরে গড়া রাস্তা যেখানে দু’পাশে গা ছমছমে নীরবতা। তাঁর সঙ্গে আছে সহকারী বিজন বিশ্বাস, পঞ্চাশোর্ধ্ব ক্যামেরাম্যান, যার চোখে মিশ্রণ রয়েছে ভয় আর উত্তেজনার। এ অঞ্চল নিয়ে বহু কিংবদন্তি রয়েছে, কিন্তু তীর্থজিত্ তাদের একজন…