নীলাঞ্জনা সেন সকালটা যেন এক অচেনা হাওয়ার মতো এসে ঢুকে পড়েছিল ঘরে, জানালার ফাঁক দিয়ে রোদ ঢুকছিল ধীরে ধীরে, সেই আলো এতটা নরম যে মনে হচ্ছিল একে হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দিলেই মিলিয়ে যাবে, বোনটা তখনো আধো ঘুমের ভেতর চায়ের কাপ হাতে বসে ছিল, তার চোখের তলায় হালকা লাল রেখা, হয়তো রাত জেগে ছিল অনেকক্ষণ, অথবা হয়তো নিঃশব্দে কারও সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথন করেছে ফোনে, আমি কিছু জিজ্ঞেস করিনি, কারণ ভোরের নীরবতা ভাঙতে ইচ্ছে করছিল না, শুধু দেখছিলাম সে নিঃশব্দে স্ট্যাটাস আপডেট করছে—“বিষ্ণুপুর যাচ্ছি, সকালটা তোর কপালে”—আমার অদ্ভুত লাগছিল এই লাইনগুলো, কাকে পাঠালো, কেন পাঠালো, তার ভেতরে কী চলছে আমি জানি না,…
-
-
Tanima Basak Chapter 1 – Tide at Dusk The sea was already pulling back when Inspector Arjun Sen reached Chandipur. It was late evening, and the tide had begun its quiet retreat across the flat beach, leaving behind long glistening stretches of sand that shone like dark mirrors in the fading light. Fishing nets lay sprawled across wooden boats like the skins of dead creatures, their salt-stiff ropes twisting under the weak lanterns that dotted the shore. A smell of brine and rotting kelp hung in the air, sharp enough to make his throat sting. The police jeep jolted over…
-
সুশান্ত নস্কর অধ্যায় ১ – নিঃসন্তান দম্পতির আশা রবি ও রুমার সংসারটি গ্রামের সাধারণ জীবনের মধ্যে গভীর শান্তি ও এক ধরনের অদৃশ্য দুঃখ বহন করত। বহু বছর ধরে তারা নানা চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়েও সন্তানের আশায় ব্যর্থ হয়েছেন। প্রতিটি মাসের প্রথম এবং শেষ দিনগুলো যেন তাদের জীবনে অতিরিক্ত চাপ ও হতাশা নিয়ে আসে। রুমা প্রায়শই তার কোল গলে শিশুর কল্পনা করে, স্বপ্নে সেই কল্পিত শিশুকে দেখে হেসে ওঠে, আবার কখনও চোখের কোণে অজান্তেই জল আসে। রবি চেষ্টা করে সংসারের কাজকর্ম ও তার চাকরিতে মন দিতে, কিন্তু রুমার চোখে যে দুঃখের ছায়া, তা তিনি কখনো এড়াতে পারেন না। তারা শুনেছে…
-
উৎসব মুখার্জী মেদিনীপুর শহরের প্রান্তে যখন অর্ণবের ট্রেন এসে দাঁড়াল, তখন সকালের কুয়াশা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। সে নেমে চারদিকে তাকাল—পরিচিত অথচ অচেনা লাগছিল জায়গাটিকে। ছোটবেলায় সে এখানে বহুবার এসেছে, মামার বাড়ি ছিল এই শহরে, কিন্তু তারপর থেকে কলকাতার ব্যস্ততা, পড়াশোনা, চাকরি আর শহুরে জীবনের দৌড়ঝাঁপ তাকে এই মাটির গন্ধ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। এখন আবার ফিরে আসার একটাই কারণ—তার বোন অনন্যা। বহু বছর আগে, অদ্ভুতভাবে অনন্যা হারিয়ে যায়। পরিবারে সেই ক্ষত আজও শুকোয়নি। বাবা-মা বোনের নাম শুনলেই কেঁদে ফেলেন, আর আত্মীয়রা চুপ করে যায়। অর্ণব একসময় চেষ্টা করেছিল খোঁজার, কিন্তু অল্প বয়সে তার কিছুই করার ছিল না। এখন যখন সে…
-
সোমা সেন শহরের ভিড়ভাট্টা আর হট্টগোলের মধ্যে অনন্যার জীবন যেন এক অন্য ছন্দে বাঁধা। সকালবেলায় তার দিন শুরু হয় একেবারে মেশিনের মতো—অ্যালার্মের কর্কশ আওয়াজে ঘুম ভাঙা, দ্রুত শাওয়ার নেওয়া, নিখুঁতভাবে ইস্ত্রি করা শার্ট আর স্কার্ট পরে আয়নার সামনে দাঁড়ানো। সেই আয়নায় প্রতিদিনই ফুটে ওঠে এক সফল নারীর প্রতিচ্ছবি—চোখে হালকা কাজল, ঠোঁটে লিপস্টিকের টান, আর কাঁধে দামী চামড়ার ব্যাগ। দামী গাড়ির দরজা খুলে যখন সে শহরের ব্যস্ত রাস্তায় নামে, তখন মানুষ তাকে দেখেই ভাবে—এই তো আধুনিক নারীর প্রতীক, সাফল্যের উজ্জ্বল উদাহরণ। বহুজাতিক কোম্পানির উচ্চপদে তার কাজ, মাস শেষে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া মোটা বেতন, আরামদায়ক ফ্ল্যাট—সব মিলিয়ে অনেকের কাছে ঈর্ষার বস্তু।…
-
সন্ধ্যা নামতেই সেই ছোট্ট গ্রামের চিত্র যেন এক জাদুকরী রূপকথার মতো ভেসে ওঠে। চারদিক অন্ধকারে ডুবে যেতে না যেতেই গাছপালা, ধানখেত আর কুয়াশায় ঢাকা সরু পথগুলো ভরে ওঠে অসংখ্য জোনাকির ঝিলমিল আলোয়। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন আকাশের তারারা নেমে এসেছে মাটির বুকে, মিশে গেছে মানুষের জীবনে। গ্রামের বাচ্চারা প্রতিদিনের মতো আজও মাঠে দৌড়ে বেড়াচ্ছে, তাদের হাসির শব্দ মিশে যাচ্ছে আলোছায়ার খেলায়। বৃদ্ধরা পানের পাত্র হাতে বসে নিজেদের পুরনো গল্প শোনাচ্ছে, অথচ এই আলোকিত রাত যেন সবার চোখে কেবল বিনোদনের মতো। কিন্তু মায়া নামের সেই তরুণী এই দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে থাকে এক ভিন্ন অনুভূতি নিয়ে। তার কাছে জোনাকির এই…
-
Rohan Ahuja Chapter 1 – The Desert of Light The year was 2150, and the Thar Desert no longer resembled the barren expanse it had once been. Instead of endless dunes stretching into emptiness, the horizon was now filled with colossal spires of glass and steel that glowed with the fire of captured sunlight. These towers, some rising taller than the skyscrapers of Mumbai and Dubai combined, shimmered with a brilliance that made the desert itself look aflame. At dawn, when the sun broke across the horizon, the towers lit up in sequence, each one reflecting and amplifying light until…
-
दिनेश कुमार गाँव के ठीक बीचों-बीच खड़ा वह बरगद का पेड़ सदियों पुराना था, जिसकी फैली हुई जटाएँ और चौड़ी शाखाएँ गाँव की पहचान मानी जाती थीं। दिन के उजाले में यह पेड़ गाँववालों का आश्रय स्थल होता—कोई किसान हल चलाने से पहले थोड़ी देर इसकी छाँव में बैठकर बीड़ी सुलगा लेता, बच्चे इसकी झूलती जड़ों को झूले की तरह पकड़कर खेलते, और दोपहर की तपिश से थके मजदूर इसकी ठंडी छाँव में सुस्ताने आ जाते। बरगद की ठंडी छाया में गाँव का चौपाल भी लगता, जहाँ बुजुर्ग अपने अनुभव साझा करते और लड़के-लड़कियाँ खेलकूद में मशगूल रहते। लेकिन जैसे…
-
Nilavo Mukherjee Chapter 1 – The Floating Corpse The story begins on a humid, early morning along the Hooghly River, where the tranquility of the water is shattered by the appearance of a lifeless body drifting near the base of the Howrah Bridge. Early commuters and street vendors are the first to spot the corpse, their casual chatter giving way to murmurs of fear and curiosity as they approach the ghats. The scene quickly draws a crowd, and within minutes, news crews arrive, cameras rolling and microphones thrust forward to capture the unfolding spectacle. Panic ripples through onlookers, some recoiling…
-
হেমন্ত কলিতা পলাশৰ গাঁওখন অসমৰ এটা সৰু, শান্ত আৰু পৰম্পৰাগত গাঁও। এয়া হৈছে ধানৰ ক্ষেত, সৰু-সৰু মাটি পথ, আৰু পৰম্পৰাগত জোনাকত ভৰা পথাৰত ঘূৰি থকা গাঁৱৰ জীৱন। গাঁওখনৰ প্ৰতি বছৰ বিহু উৎসৱৰ সময়ত এক বিশেষ উল্লাস থাকে। বিহু মানেই নতুন আশাৰ প্ৰৱাহ, প্ৰকৃতিৰ পুনৰুজ্জীৱন আৰু জীৱনৰ নতুন সূচনা। গাঁওখনৰ প্ৰতি প্ৰজন্মে এই উৎসৱৰ সৈতে নিজেকে জড়িত কৰি পৰম্পৰা অটুট ৰাখিছে। পলাশ এজন সাদাসিধা, শান্ত স্বভাবৰ যুৱক। পৰিয়ালত সৰ্বদা আদৰণীয়, তেওঁৰ ওচৰত সকলোৰে প্ৰীতি আৰু সন্মান আছে। পলাশৰ পিতৃ এগৰাকী গৌৰৱান্বিত ব্যক্তি, যিয়ে বিহুৰ সময়ত গাঁওখনৰ সংগীত আৰু নৃত্যৰ দায়িত্ব পালন কৰে। পলাশৰ মনত জীৱন প্ৰতি এক সুকোমলতা, পৰম্পৰা আৰু আধুনিক…