সায়ন্তনী ধর পর্ব ১: অচেনা স্পর্শ কলকাতার ভিজে সন্ধ্যে। বৃষ্টির টুপটাপ শব্দে ফ্ল্যাটের বারান্দা যেন একা বসে আছে। রিমঝিম ভেজা আলোয় স্নিগ্ধা দাঁড়িয়ে, হাতে এক কাপ কফি। তিরিশ পেরোনো এই নারী, সংসার আর অফিসের একঘেয়েমি পেরিয়ে আজ হঠাৎ যেন নিজের ভেতরেই অস্থিরতা টের পাচ্ছে। বিয়ের আট বছরের সম্পর্ক—অর্ণব, তার স্বামী, এখন প্রায় যন্ত্রের মতো। অফিস থেকে ফিরে শুধু ক্লান্ত শরীর আর একবিন্দু নিরুত্তাপ আলাপ। শারীরিক সম্পর্কও বহুদিন হয়ে উঠেছে দায়িত্বের মতো—যেন টিক চিহ্ন দিয়ে শেষ হওয়া কর্তব্য। স্নিগ্ধা আয়নায় তাকায়। চোখের নিচে হালকা কালি, ঠোঁটে এক চাপা অভিমান। অথচ শরীর তার এখনো মায়াবী, নরম চামড়ার নিচে লুকোনো এক অদম্য কামনা…
-
-
Neha Banerjee The Rooftop That Wasn’t There Aarav didn’t mean to miss the last train. It just happened, like most of his mistakes—small, accidental, and irreversible. One late night line of code at work turned into another, and another, until he looked up at the time glowing on his cracked phone screen and realized the metro gates would already be shuttering. He left the office anyway, stepping out into a city that was still awake but somehow lonelier for it, the neon lights buzzing like a swarm of mechanical fireflies. The streets of New Delhi after midnight weren’t empty; they…
-
मयंक श्रीवास्तव दुकान से घर तक का सफ़र शर्मा जी वैसे तो बिल्कुल सीधेसादे इंसान थे, लेकिन मोहल्ले में उनकी पहचान एक ऐसे शख्स की थी जिन्हें हर समय नई-नई चीज़ों का शौक चढ़ा रहता था। कल तक जो बड़े गर्व से लोगों को बताते घूम रहे थे कि “भाईसाहब, मेरा कीपैड वाला फोन पाँच साल से चल रहा है, बैटरी भी ओरिजिनल है”, वही शर्मा जी अचानक एक दिन मोहल्ले की मोबाइल शॉप से चमचमाता नया स्मार्टफोन लेकर लौटे। अब तक तो शर्मा जी उस पुराने फोन को अपने जीवनसाथी की तरह मान चुके थे। उसमें अलार्म भी मुश्किल…
-
Selena Arora The rain had been falling all afternoon, soaking the city into a muted gray. Through the wide glass windows of the café, Ananya watched the drops streak down in endless lines, blurring the streetlights into ribbons of amber. She stirred her coffee slowly, not because it needed stirring but because her hands needed something to do. Her wedding ring caught the glow of the lamp above, a delicate reminder of promises once made with fire in her chest, promises now grown pale with repetition. It was on afternoons like this that loneliness pressed the hardest, despite the fact…
-
আত্রেয়ী প্রধান মফস্বলের ছোট্ট স্টেশন। চারপাশে ধুলো উড়ছে, শিউলি গাছের নিচে পড়ে থাকা সাদা ফুলে ভরে গেছে পথ। বিকেলের আলো ধীরে ধীরে নেমে আসছে, আকাশের রং লালচে হয়ে উঠছে। এই সময়টায় স্টেশনটা যেন অন্যরকম লাগে—না শহরের কোলাহল, না গ্রামের নির্জনতা। মাঝামাঝি কোথাও দাঁড়িয়ে থাকা এই স্টেশন এক অদ্ভুত নীরবতার মধ্যে মোড়া। অমৃতা প্রায়ই এখানে আসে। তার কলেজ থেকে হাঁটতে হাঁটতে স্টেশনে পৌঁছোতে সময় লাগে পনেরো মিনিট। কেন আসে, সে নিজেও ঠিক জানে না। হয়তো এই স্টেশনের নীরবতা তার ভেতরের অস্থিরতাকে শান্ত করে। হয়তো ট্রেনের হুইসেল শুনলেই মনে হয় সে একদিন অচেনা কোথাও চলে যাবে, যেখানে কেউ তাকে চিনবে না। আজও…
-
সুশান্ত নস্কর গ্রামটা ছোট হলেও রহস্যে ভরা। চারদিকে সবুজ ধানখেত, মাঝে কাঁচা রাস্তা আর পাড়াগাঁয়ের সেই স্নিগ্ধ নীরবতা—দিনে যত শান্ত, রাতে ঠিক ততটাই অদ্ভুত। শীতের শেষ আর গরমের শুরু, মাঝের সময়ে হঠাৎই গ্রামে ছড়িয়ে পড়তে লাগল এক ভয়ানক গুজব। মানুষ বলে, মাটির ভেতর থেকে ভেসে আসে কণ্ঠস্বর—কখনো বিলাপের মতো, কখনো প্রার্থনার মতো, আবার কখনো এমন এক অস্পষ্ট আহ্বান, যা শুনে শরীরে কাঁটা দেয়। প্রথম প্রথম দু-একজন গ্রামবাসী শুনলেও পরে অনেকে একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে লাগল। কৃষক নিত্যানন্দ একরাতে গরু ঘরে বাঁধতে গিয়ে শুনেছিল অচেনা কারও কান্না। ভাবল হয়তো পাশের জমির খাঁজে কোনো মানুষ আটকে আছে। কিন্তু কাছে গিয়ে দেখে কিছুই…
-
এক অভিষেক রুমের এক কোণে বসে তার ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে চোখ স্থির করে তাকাল। হোস্টেলের ঘরটি ভোরবেলার কেমন অদ্ভুত নিস্তব্ধতায় মুড়িয়ে আছে, যেখানে কেবল তার নিজের নিশ্বাস আর কিবোর্ডের হালকা শব্দই ভেসে আসছে। ঘরের জানালা দিয়ে ঢোকার সূক্ষ্ম আলো তার চারপাশের সবকিছুকে ফিকে করে দিয়েছে, যেন পুরো রুমটা ধীরে ধীরে বাস্তব থেকে অমূর্তে রূপান্তরিত হচ্ছে। প্রতিদিনের অনলাইন ক্লাসের সময় অভিষেকের কাছে এই নিস্তব্ধতা কিছুটা স্বস্তি দেয়, আবার কিছুটা চাপের অনুভূতিও তৈরি করে। তার একাকীত্ব তাকে মানসিকভাবে কিছুটা ক্লান্ত করেছে, কারণ শহরের এই হোস্টেল জীবনে সামাজিক কোনো সম্পর্ক তার কাছে থাকেনা। ল্যাপটপের হেডফোনটি কানে দিয়ে সে ক্লাসে যোগ দিতে গিয়ে শিক্ষকের…
-
সঙ্গীতা দাস ১ মেঘলার শৈশব কেটেছে পশ্চিমবঙ্গের এক প্রত্যন্ত গ্রামে, যেখানে কাঁচা রাস্তা, বিস্তীর্ণ ধানের মাঠ আর দিগন্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা আকাশ তার শৈশবের নিত্যসঙ্গী। সকালবেলা কাকডাকা ভোরে মাটির ঘরের জানালা দিয়ে ঢুকে পড়া আলোয় সে ঘুম ভাঙত, আর সবচেয়ে প্রিয় সময় ছিল সন্ধ্যা। গ্রামের খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে সে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকত ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তার বাবার একটি পুরোনো রেডিও ছিল—যার শরীর ক্ষয়ে গেছে, অনেক সময় স্ট্যাটিক আওয়াজের ভেতরেই কণ্ঠ শোনা যেত। সেই রেডিওতে কখনো হঠাৎ বিমান চলাচলের খবর, কখনো বেতারে ভেসে আসা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের ভাঙাচোরা সিগন্যাল শোনার সময় তার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে উঠত। সে জানত না…
-
১ ড. অরিন্দম মুখার্জি, কলকাতার একটি নামকরা গবেষক, তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের উদ্দেশ্যে সুন্দরবনের অদূরপ্রান্তে অবস্থিত ছোট্ট গ্রাম ধনডুবি পৌঁছান। তিনি বন এবং নদীর সঙ্গে মিশে থাকা গ্রামীণ জীবনের স্বাভাবিকতায় নিজেকে পুরোপুরি নিমগ্ন করতে চান, তবে তাঁর আসল উদ্দেশ্য আরও রহস্যময়—গ্রামের লোককথা অনুযায়ী প্রতি পূর্ণিমার রাতে নদীর পারে যে কালো লন্ঠন জ্বলে ওঠে, তা নিয়ে তিনি গভীর গবেষণা করতে চাচ্ছেন। গাছ-গাছালির মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে, অরিন্দম অনুভব করেন যে এই গ্রামটি অন্য যে কোনও স্থানের মতো নয়। নদীর জলের নীরবতা, পাতা ছিঁড়ে পড়ার শব্দ, দূরে কোথাও পাখির ডাকে, সব মিলিয়ে যেন এক অদ্ভুত সুরের সৃষ্টিকর্ম। গ্রামের প্রধান রাস্তার ধারে পৌঁছলে,…
-
দীপাঞ্জলী কাকতি নিপুনৰ দিনবোৰ বৰ্তমানলৈকে শান্ত আৰু পৰিচিত আছিল। তেওঁ পাহাৰৰ সৰু গাঁওখনত জন্ম গ্ৰহণ কৰিছিল, য’ত প্ৰকৃতিৰ সেউজীয়া ঢল, পাহাৰৰ কোঁহ আৰু নদীৰ কলকল ধ্বনি তেওঁৰ জীৱনৰ অংশ আছিল। গাঁওখনৰ বিদ্যালয় সৰু, কিন্তু শিক্ষকৰ প্রতি মৰম আৰু সহানুভূতিশীল আছিল। য’ত পঢ়া মানে কেৱল পাঠ্যবিষয়ৰ জ্ঞান নাছিল; একে লগে জীৱনৰ শিক্ষাও শিকোৱা হৈছিল। কিন্তু নিপুনৰ পৰিয়ালত তেওঁৰ শিক্ষাৰ দিগন্ত বঢ়োৱাৰ ক্ষেত্ৰত অধিক আশা আছিল। নতুন আৰু ডাঙৰ বিদ্যালয়ত পঢ়া মানে আছিল নতুন চেলেঞ্জ, নতুন বন্ধু, আৰু নতুন অভিজ্ঞতা। সেই চিন্তা কৰিলে নিপুনৰ মনত কিছুমান উত্তেজনা আৰু কিছুমান আশঙ্কা মিলি গৈছিল। ৰাতিপুৱা, নিপুনে নিজৰ সৰু ব্যাগত কিছুমান বই, কিতাপ আৰু অতি…