সুবর্ণ সাহা অধ্যায় ১ সুন্দরবনের যাত্রা শুরু করার আগেই অনিরুদ্ধের মনে ছিল এক ধরনের রোমাঞ্চ মিশ্রিত ভয়। কলকাতার কোলাহল থেকে হঠাৎ করে এই জঙ্গলের বুক চিরে গড়ে ওঠা দ্বীপজীবনে পা রাখা, নিঃসন্দেহে তার কাছে ছিল এক বিরল অভিজ্ঞতা। অনিরুদ্ধ একজন সাংবাদিক; পরিবেশ ও সমাজ নিয়ে কাজ করতে করতে তিনি দেশের নানা প্রান্তে ঘুরেছেন, কিন্তু সুন্দরবনের মত প্রকৃতির রহস্যময়তা আর কোথাও তিনি পাননি। কলকাতা থেকে লঞ্চে নদীপথ পেরিয়ে এসে পৌঁছোনোর পর তার চোখে প্রথম যে দৃশ্য ধরা দিয়েছিল, তা একেবারেই অনন্য—ঘন জঙ্গল, বাঁকানো নদী, নোনা বাতাসে ভাসা লবণাক্ত গন্ধ আর গ্রামের সাধারণ মানুষের হাসিমাখা মুখ। দ্বীপের মানুষজন অনেকটা নিরুপদ্রব, কিন্তু তাদের…
-
-
ঋতুপর্ণা দাশগুপ্ত পর্ব ১: নদীর ডাক গাঁটা যেন অদ্ভুত নিস্তব্ধতায় মোড়ানো ছিল। শীতল দমকা হাওয়া ভোরের আকাশে নীলচে ছাপ রেখে দিত আর দূরে শাল-সেগুনের বনের ফাঁক দিয়ে ভেসে আসত নদীর গুঞ্জন। এই নদীর নাম ছিল কুলেশ্বরী। তবে মাধুরী ছোটবেলা থেকেই জানত, নামটা পুরোটা নয়—এই নদীর আরেকটা নাম আছে, একেবারে গোপন নাম, যা শুধু রাতের আঁধারেই ফিসফিস করে শোনা যায়। মাধুরী তখন দশ বছরের মেয়ে। প্রতিদিন বিকেলে সে বাঁশের ডাল দিয়ে বানানো কঞ্চির দোলনা নিয়ে নদীর ধারে যেত। নদীর পাড়ে বসেই তার পড়াশোনা, খেলাধুলো সবকিছু। কিন্তু এক পূর্ণিমার রাতে, হঠাৎ করেই সে শোনে অদ্ভুত একটা আওয়াজ—যেন নদী গুনগুন করছে। প্রথমে ভেবেছিল…
-
সুজন কর্মকার ১ কলকাতার এক শীতল বিকেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান অডিটোরিয়ামে জমে উঠেছিল এক বিশেষ বক্তৃতা। উপস্থিত দর্শকদের ভিড় ভরিয়ে দিয়েছিল সাদা দেয়ালঘেরা হলে, যেখানে একদিকে ছাত্রছাত্রীরা তাদের খাতায় দ্রুত নোট নিচ্ছিল, অন্যদিকে কিছু অধ্যাপক কপালে ভাঁজ ফেলে মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। মঞ্চে দাঁড়িয়ে ছিলেন ড. অরিত্র মুখার্জী—একজন প্রখ্যাত পদার্থবিদ, যিনি গবেষণায় যেমন কড়া, তেমনি মতামতে দৃঢ়। লম্বাটে চেহারা, নাকের উপর সোনালি ফ্রেমের চশমা, আর হাতে একটি সাদা চক—এমন ভঙ্গিমায় তিনি যেন একাই এক অদম্য শক্তি। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল স্বচ্ছ, কঠিন অথচ প্রলুব্ধকর। তিনি বোর্ডে জটিল সমীকরণ লিখে বলছিলেন, “এই মহাবিশ্বে যা কিছু ঘটছে, তার পেছনে আছে গণনা, সূত্র, এবং ব্যাখ্যাযোগ্য পদার্থবিদ্যা।…
-
অনিন্দিতা বৰা পৰ্ব ১ : গোপন সূচনা জোনাকী গাঁৱৰ পৰা দুৰ নোহোৱা চামুগুৰি চহৰখন সেইদিনা পুৱা আগৰ দৰে ধুমহা ক’লা মেঘত ঢাকি পৰিছিল। শীতৰ পুৱাত গছৰ পাতত শিশিৰৰ সৰু সৰু বিন্দুবোৰ যেন চকচকি কৰি উঠিছিল। এই চহৰখনত ছাঁ গাছেৰে ঘেৰাও কৰা এখন পুৰণি লাইব্ৰেৰী আছিল—সেউজীয়া ৰঙৰ কাঁচৰ সলনি দৰ্জাৰ মাজেদি সূৰ্যৰ অল্প অলোপ পোহৰ ভিতৰলৈ সোমাই পৰিছিল। সেই লাইব্ৰেৰীত কাম কৰিছিল চয়নিকা। বয়স ত্ৰিশৰ ওচৰ- পকেটমণি হিচাপে স্কুলীয়া দিনত কবিতা লিখিছিল, এতিয়া গৃহিণী জীৱনৰ জটিলতা আৰু দায়িত্বৰ মাজতো নীৰৱতা বিচাৰি এই লাইব্ৰেৰীটোক নিজৰ দ্বিতীয় ঘৰ কৰি তুলিছিল। চয়নিকা বিবাহিতা। স্বামী হিমাংশু এটা সৰু সৰহীয়া উদ্যোগৰ ব্যৱসায়ী, সদায় ব্যস্ত, সদায় টেঙাপতিয়াই…
-
অনিন্দ্য দে ১ গ্রামের রাত সবসময়ই শান্ত, বিশেষ করে শীতের শেষে ফাগুনের সন্ধ্যায় যখন চারপাশে পেঁচা ডাকে আর দূরে কোথাও শেয়ালের ডাক ভেসে আসে। সেদিনও তেমনই এক রাত। আকাশে চাঁদ নেই, শুধু অন্ধকারের চাদর মাটিকে ঢেকে রেখেছে। দূরে দূরে ক্ষেতজমির মাঝে জোনাকিরা আলো জ্বালাচ্ছিল ক্ষুদ্র প্রদীপের মতো। গ্রামের লোকেরা তখন গভীর নিদ্রায়, কেবল কয়েকজন কৃষক কাজের ফাঁকে রাত জেগে বসেছিল মচানঘরে। হঠাৎই নিস্তব্ধতার বুক চিরে ভেসে এল এক অদ্ভুত শব্দ—শাঁখের আওয়াজ। শাঁখ বাজানোর সেই সুর গ্রাম্য পূজার সময় সবাই শুনেছে, কিন্তু আজকের সেই সুর ভিন্ন ছিল—অত্যন্ত দীর্ঘ, করুণ আর বেদনায় ভরা। কৃষকরা প্রথমে ভেবেছিল হয়তো কোনো বাড়িতে পূজা চলছে, কিন্তু…
-
পৌলমী বসাক অধ্যায় ১ : ট্রেনের জানালা দিয়ে ধেয়ে যাওয়া দৃশ্য যেন অর্ণব আর ঈশিতার চোখে এক নতুন পৃথিবীর চিত্র আঁকছিল। কলকাতার কোলাহল পেরিয়ে ট্রেন যত ভেতরের দিকে এগোচ্ছিল, ততই বাড়ছিল সবুজের প্রলেপ, ঝকঝকে মাঠ আর দূরে দাঁড়িয়ে থাকা তালগাছের সারি। সাদা মেঘে ছাওয়া আকাশের নিচে এই ভ্রমণ যেন তাদের জন্য এক মুক্তির নিশ্বাস। কলেজে গত কয়েক মাস ধরে পরীক্ষা, প্রোজেক্ট আর শহরের চাপে তারা দু’জনেই যেন ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তাই গ্রামে ছুটি কাটাতে যাওয়ার এই পরিকল্পনা, যেটা প্রথমে হালকা মজার প্রস্তাব ছিল, এখন এক অদ্ভুত উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছে। ট্রেনের সীট ভাগাভাগি করে বসে অর্ণব আর ঈশিতা একে অপরের দিকে…
-
অতনু রক্ষিত এক ভোরবেলা পৃথিবীকে ঘিরে যে আলো জন্ম নিত প্রতিদিন, সেই আলো যেন আচমকা হারিয়ে গেল। সময়টা ছিলো একেবারেই স্বাভাবিক—পাখিদের ডাক, মানুষের জেগে ওঠা, শিশুরা স্কুলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, আর কর্মজীবীরা যেমনভাবে প্রতিদিন ব্যস্ততার জন্য প্রস্তুত হয়, সেই ছন্দেই চলছিল সবকিছু। কিন্তু ঠিক সূর্য ওঠার মুহূর্তে আকাশ যেন গভীর অন্ধকারে ডুবে গেল। প্রথমে মানুষ ভেবেছিল এটি হয়তো মেঘ বা ঝড়ের প্রভাব, কিন্তু যত মিনিট গড়াল ততই বোঝা গেল, এটা কোনো প্রাকৃতিক আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়। আকাশে সূর্যের অস্তিত্ব নেই—আলোহীন পৃথিবী হঠাৎ যেন অজানা মহাশূন্যে ভেসে গেছে। শহরের ভিড়, গ্রামের খোলা মাঠ, সমুদ্রতট—সব জায়গায় একইসঙ্গে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। মানুষ চোখ মেলে তাকাল…
-
১ শহরের সকাল সবসময়ই ব্যস্ততার সঙ্গে শুরু হয়—বসন্তপুর নামের এই আধুনিক নগরীটা যেন ঘুমায় না। উঁচু উঁচু বহুতল ভবনের জানালা থেকে সূর্যের আলো গড়িয়ে এসে পড়ছে নিচের ব্যস্ত রাস্তায়, যেখানে গাড়ির হর্ন আর মানুষের ভিড় মিলেমিশে এক অদ্ভুত কোলাহল তৈরি করেছে। এই ভিড়ের মাঝেই প্রতিদিনের মতো পথ হাঁটছে বনলতা—পঁচিশ বছরের এক তরুণী, যার চেহারায় ক্লান্তির রেখা স্পষ্ট হলেও চোখে আছে এক অদ্ভুত শূন্যতা। তার কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ, হাতে নোটবুক, কিন্তু হাঁটার ভঙ্গিমায় যেন কেবল দায়িত্ব পালন করার যান্ত্রিকতা। শহরের এই কোলাহল তাকে কখনোই আপন মনে হয়নি; বরং প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি ভিড় তাকে মনে করিয়ে দেয় যে সে এই ব্যস্ত মানুষের…
-
अदिती वर्मा १ पहाड़ों की ओर रवाना होने से पहले कॉलेज के कैंपिंग ट्रिप का माहौल अपने आप में उत्साह और ऊर्जा से भरा हुआ था। आरव और नंदिनी अपने दोस्तों के साथ सुबह के समय कॉलेज परिसर में इकट्ठे हुए, जहाँ हर कोई अपने बैग में जरूरी सामान भर रहा था—तंबू, स्लीपिंग बैग, कैंपिंग कुकर, और कुछ जरूरी खाने-पीने की चीजें। सूरज की हल्की धूप और ताजगी भरी हवा ने माहौल को और भी रोमांचक बना दिया था। सभी छात्रों के चेहरे पर मुस्कान थी, और हर कोई इस बात से बेहद उत्साहित था कि अब वे शहर की…
-
নন্দিতা রায় কলকাতার রাত নেমে এসেছে। অফিস পাড়া ফাঁকা হতে শুরু করেছে, কিন্তু হাওড়া বা শিয়ালদহমুখী লোকালের প্ল্যাটফর্ম তখনও গমগম করছে। ব্যস্ত দিন শেষে ট্রেন ধরে ফেরা এই শহরের মানুষের কাছে শেষ লোকাল মানে যেন জীবনের অবশিষ্ট কয়েক ফোঁটা শক্তি খরচের জায়গা। প্রতিদিনের মতোই অয়ন মুখার্জী হাঁটছে ক্লান্ত পায়ে। তার চোখে লাল আভা, কাঁধে ব্যাগের ভার, মুখে একরকম নিরাসক্তি। যেন পুরো দিনটা তাকে চেপে রেখেছে, আর ট্রেন ছাড়া তার কোনো আশ্রয় নেই। অয়ন এই সময়ের লোকাল ধরতে অভ্যস্ত—শহরের কোলাহল পেছনে ফেলে বাড়ি ফেরার একমাত্র উপায় এই শেষ যাত্রা। ট্রেনে ওঠার সময় সে জানে—এখানে গাদাগাদি, ঘাম, ঠেলাঠেলি থাকবে, কেউ হয়তো ঝগড়া…