Nikhil Varma 1 The night was hushed, the tech city’s towers glowing like watchful giants against the deep blue sky, when Vihaan Mehta quietly wheeled his bicycle out of the garage. The faint hum of air-conditioners and the occasional flicker of a neon sign were the only sounds breaking the silence. Vihaan, his mind heavy with equations and career expectations drilled into him by his parents, pedaled out into the open streets with a sense of release that was almost intoxicating. Each push of the pedal loosened the chains of suffocating responsibility. His heart raced, not with fear of being…
-
-
দেবমাল্য গুপ্ত ভোরবেলা গঙ্গার ঘাট সবসময়ই যেন অদ্ভুতভাবে রহস্যময় হয়ে ওঠে। শীতল হাওয়া জলের গায়ে তরঙ্গ তুলে দিচ্ছিল, দূরে পুরোনো মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি ভেসে আসছিল কুয়াশার আড়ালে, আর ঘাটে কিছু ভোরের সাধক গঙ্গাস্নানে ব্যস্ত ছিল। কিন্তু সেই নিরিবিলি সকালে হঠাৎই এক চিৎকার ভেদ করে গেল চারপাশের নীরবতা। একজন মাঝি প্রথমে জলে ভাসতে থাকা অচেনা দেহটি দেখতে পায় এবং দৌড়ে লোক ডাকতে শুরু করে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই গঙ্গার ঘাটে ভিড় জমে যায়। সবাই শিউরে উঠল, কারণ দেহটি একেবারে অচেনা কারো নয়—চেনা শহরেরই একজন, ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ লাহিড়ী। মানুষটি গতকাল রাত পর্যন্ত শহরে দোকানে বসেছিলেন, এমনকি অনেকেই তাকে দেখেছে স্থানীয় ক্লাবে। অথচ আজ সকালে…
-
স্পন্দন ভট্টাচাৰ্য অধ্যায় ১: শহরের প্রান্তে বা কোনো গ্রামীণ মেলায় উৎসবের সেই দিনটা ছিল একেবারেই আলাদা। চারপাশ যেন আলো, রঙ আর সুরের মিশেলে এক অনন্য আবহ তৈরি করেছিল। রাস্তার দু’পাশে সাজানো হয়েছিল সারি সারি আলপনা, আকাশ ভরে উঠেছিল রঙিন কাগজের ঝালর আর লণ্ঠনের আলোয়। মানুষের ভিড় ক্রমশ বাড়ছিল—কেউ দোকান ঘুরছে, কেউ প্যান্ডেলে ঢুকে ঠাকুর দেখছে, কেউ আবার হইচই করে রঙিন মেলায় হারিয়ে যাচ্ছে। অয়ন, সদ্য গ্র্যাজুয়েট হয়ে ওঠা এক তরুণ, সেই ভিড়ের মধ্যেই হাঁটছিল। উৎসব তার কাছে শুধু আনন্দের উপলক্ষ নয়, বরং একটু নিঃশ্বাস নেওয়ার মুহূর্ত। চাকরি খোঁজার চাপ, শহরের প্রতিযোগিতার হাহাকার, আর সংসারের নানান জটিলতা থেকে সামান্য মুক্তি খুঁজতে…
-
প্রাপ্তি দাস ১ জীবন যেন একঘেয়েমি স্রোতে ভেসে চলছিল অন্বেষার। সকালবেলা চোখ মেললেই রান্নাঘরের ধোঁয়া, বয়স্ক মায়ের বকুনি আর সমাজের অলিখিত নিয়মের চাপ তাকে ঘিরে ধরত। বইয়ের তাক ভর্তি অসংখ্য খাতা, ডায়েরি, অর্ধলিখিত গল্প—সবকিছু যেন নিঃশব্দ সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তার দমিয়ে রাখা কণ্ঠের। লেখার হাত তার থেমে গেছে, অথচ ভেতরে জমে থাকা শব্দেরা ক্রমাগত কড়া নাড়ছে। মায়ের একটাই কথা—“এত পড়াশোনা করেছ, কিন্তু লিখে কী হবে? সংসার সামলানোই আসল কাজ।” বাইরে প্রতিবেশীদের কটাক্ষ, আত্মীয়স্বজনদের দৃষ্টি—সবই যেন তাকে বোঝাতে চায়, লেখালিখি কোনো জীবিকা নয়, এটা নিছক খেয়াল। অথচ অন্বেষা জানত, তার কলমের ভেতরে লুকিয়ে আছে তার সত্যিকারের জীবন, এক নতুন পৃথিবী।…
-
প্রতীক দত্ত এক গ্রামের প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে এক প্রাচীন মন্দির, যার বয়স যেন সময়ের গণ্ডি ছুঁয়ে গেছে। চারপাশে বিশালাকার বটগাছ, শেকড় ঝুলে পড়েছে দেয়ালের উপর, যেন প্রকৃতি নিজেই মন্দিরটিকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। পাথরের দেওয়ালে শেওলার আস্তরণ, ফাটল থেকে জন্ম নিয়েছে ছোট ছোট গাছ, আর স্যাঁতসেঁতে গন্ধে মন্দিরের ভেতর সবসময়ই মনে হয় কারও উপস্থিতি রয়েছে। শীতের সকালের কুয়াশা কিংবা গ্রীষ্মের দুপুরের রোদ—মন্দিরের ভেতর প্রবেশ করলে বাইরের জগত থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিবেশ চোখে পড়ে। এখানে সময় থেমে আছে, আর সেই থেমে যাওয়া সময়ের ভেতর লুকিয়ে আছে অজস্র লোককথা, বিশ্বাস আর আতঙ্ক। গ্রামের প্রতিটি মানুষ এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে, কারণ এখানেই পূজিত…
-
সুপ্রিয় সিনহা ১ ফটোগ্যালারির প্রবেশদ্বারে প্রবেশ করার মুহূর্তে রোহানের মন যেন এক অদ্ভুত উত্তেজনায় ভরে ওঠে। পুরনো কাঠের দরজার ঘর্ষণ এবং ভিতরের ফাঁপা আলো তাকে এক ধরনের নস্টালজিক অনুভূতির মধ্যে টেনে নিয়ে যায়। ফটোগ্যালারির দেয়ালগুলোতে ঝুলানো অসংখ্য ফটোগ্রাফ যেন অতীতের কণ্ঠস্বরকে প্রতিফলিত করছে। প্রতিটি ছবিতে ভেসে ওঠা মুহূর্ত, হাসি, কান্না, আনন্দ এবং দুঃখের মিশ্রণ রোহানের কৌতূহলকে আরও তীব্র করে তোলে। সে ধীরে ধীরে প্রতিটি ছবির দিকে নজর দেয়, মনে মনে ভাবতে থাকে যে, প্রতিটি ফ্রেমের আড়ালে কত গল্প লুকিয়ে আছে। ধীরে ধীরে তার চোখ যেন অতীতের মধুর ও ব্যথাবোধক স্মৃতিগুলোর সঙ্গে মিলিত হতে থাকে। সে প্রতিটি ছবির দিকে তাকালে মনে…
-
অর্ঘ্য বিশ্বাস রূপসা শহরের ভিড় আর হট্টগোল থেকে ফিরে গ্রামে পা রাখতেই সে অনুভব করল এক অদ্ভুত শান্তি আর একই সঙ্গে অচেনা উত্তেজনা। দুর্গাপূজার রাতের রং এবং উজ্জ্বল আলো গ্রামের প্রতিটি ঘর-মাঠে ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকের মৃদু গর্জন, মাটির পথ ঘেঁষে দোলা দুলন্তের কাঁপুনি, এবং দেহে ধীরে ধীরে প্রবাহিত উৎসবের উচ্ছ্বাস—সবকিছু এক অসাধারণ মিলন ঘটাচ্ছিল। রূপসার চোখে গ্রামের ঘরবাড়ির রঙিন বাতি, দুর্গার মূর্তির দিকে মানুষদের ভিড়, শিশুদের দৌড়ঝাপ, নারীদের শাড়ির ঝাঁকুনি—সব মিলিয়ে এক জোয়ারময় দৃশ্য। কিন্তু এই সাধারণ উৎসবের সৌন্দর্যের মাঝেই কিছু অদ্ভুততার ছায়া ভেসে উঠছিল। গ্রামের প্রান্তের দিকে ধূসর ধোঁয়া আর জ্বলন্ত আলো দেখতে পেয়ে সে প্রথমে ভাবল হয়তো কেউ…
-
প্রাচীন মন্দির খননের সকালে সূর্যের প্রথম কিরণ ভোরের কুয়াশার মধ্য দিয়ে মাটির ওপরে পড়ে। অধ্যাপক সৌম্য সেনগুপ্ত, যিনি দেশের এক নামকরা প্রত্নতত্ত্ববিদ, একাগ্রভাবে খননক্ষেত্রের দিকে এগোচ্ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী অরণ্য দত্ত, যিনি সৌম্যের পাশে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণার কাজ করতেন। মাটির স্তর একের পর এক সরানো হচ্ছিল, আর ধুলোমাখা খণ্ডকোণ থেকে প্রাচীন কালকার নানা নিদর্শন উঠে আসছিল। হঠাৎ অরণ্য একটি অস্বাভাবিক আকৃতির বস্তু অনুভব করলেন। তার হাতের মুঠোয় ধরা পড়ল এক অলঙ্কৃত শঙ্খ, যার গায়ে খোদাই করা প্রতীকগুলো যেন কেবল সময়ের সাক্ষী হয়ে রয়ে গেছে। শঙ্খের উপর ক্ষীণ লালচে দাগ, যা প্রথমে কেবল মাটির দাগ মনে হলেও, যখন সূর্যের আলোতে…
-
প্ৰদীপ্ত মজুমদার অর্ণব সেনের জীবনে সেই মুহূর্তটা ছিল এমন এক অভিজ্ঞতা, যা তাঁর সমস্ত শৈশবের স্বপ্ন, যুবক বয়সের ত্যাগ আর মহাকাশযাত্রার অগণিত প্রশিক্ষণকে এক অবর্ণনীয় বাস্তবতায় রূপ দিল। পৃথিবী থেকে কোটি কোটি কিলোমিটার দূরে, অগণিত মানুষের চোখের বাইরে তিনি প্রথমবারের মতো মঙ্গলের মাটিতে পা রাখলেন। চারপাশে বিস্তীর্ণ লাল মরুভূমি, যার সীমা যেন দিগন্তকে ছুঁয়ে গিয়ে মিলিয়ে গেছে অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতায়। মহাশূন্য থেকে মঙ্গলকে যতটা নিঃসাড়, নির্জীব মনে হয়েছিল, মাটিতে নেমে সেই অনুভূতি আরও গভীরভাবে আছড়ে পড়ল তাঁর ভেতরে। পাথুরে গিরিখাতের অন্ধকার গলিপথ, সূর্যের ক্ষীণ আলোয় ঝলমল করা ধূলিকণা আর নিঃশ্বাসরুদ্ধ করা স্তব্ধতা তাঁকে মুহূর্তেই বোঝাল—এ পৃথিবীর থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক…
-
রূপক হালদার কোলাহল ভরা শহরের এক কোণে, কলেজস্ট্রিটের কাছের ছোট্ট একটি ক্যাফে রাতের অন্ধকারে আলোয় ঝলমল করে উঠেছিল। ক্যাফেটির দেয়ালজুড়ে ঝুলছিল পুরোনো ভিনাইল রেকর্ড, অচেনা বিদেশি ব্যান্ডের পোস্টার, আর এক কোণে রাখা ছিল ধুলো জমা পিয়ানো। আজকের রাতটা ছিল বিশেষ—ওপেন-মাইক নাইট। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণ-তরুণীরা তাদের গান, কবিতা বা গল্প নিয়ে আসে এখানে। দর্শকের ভিড় খুব বড় নয়, তবে উপস্থিত প্রত্যেকেই শিল্পের প্রতি টান অনুভব করে। ইশানি সেন, কালো শাড়ি পরা, মোটা ফ্রেমের চশমা চোখে, চুল খোলা, সেদিন ক্যাফেতে প্রথমবার অংশ নিতে এসেছে। কলেজ থেকে বেরোনোর পর থেকে নিয়মিত গান গেয়ে আসছে সে, কিন্তু এই ক্যাফের মঞ্চে ওঠা তার…