সৌরভ নাগ ১ ভারতের প্রত্যন্ত এক ছোট্ট গ্রাম, চারদিকে বিস্তৃত ধানক্ষেত, দূরে দূরে তালগাছ আর মাঝখানে মাটির ঘরগুলির সারি। দিনের বেলা গ্রামটি শান্ত, মানুষজন তাদের ফসল ও গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত থাকে, আর সন্ধ্যা নামলেই যেন গ্রামটা ঢেকে যায় অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতায়। আকাশভরা তারার নীচে সারা গ্রাম যখন ঘুমের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনই ঘটল সেই অদ্ভুত ঘটনা। সেদিন ছিল অমাবস্যার রাত, চারপাশে অন্ধকার নেমে এসেছে, কেবল কিছু ঘরে কুপির আলো দপদপ করছে। সেই সময় হঠাৎ মেঘলা, গ্রামেরই এক কিশোরী, উঠোনে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। সে আকাশ দেখার অভ্যেস করেছে ছোটবেলা থেকে, তার মনে হয় রাতের আকাশে লুকিয়ে আছে হাজারো গল্প, হাজারো…
-
-
দেবাশীষ কলিতা অসমৰ সীমান্তৰ ওচৰত অৱস্থিত এক সৰু গাঁও আছিল, যাৰ নাম জনাইতৈ। গাঁওখন ঘন জংঘলৰ কাষেৰে অৱস্থিত, য’ত ডাঙৰ ডাঙৰ বটগছ, শিমুল আৰু তিলচিৰ গছৰ মাজেৰে ৰৌদ্ৰ আৰু ছাঁৱাৰ খেল অবিৰাম চলি থাকে। বহুদিন ধৰি গাঁওখনৰ মানুহে এই জংঘলৰ বিষয়ে বহু কাহিনী শুনিছিল। মানুহে কয়, “এই জংঘলত প্ৰকৃতিৰ ছাঁৱা মাত্ৰেই মানুহক পথভ্ৰষ্ট কৰিব পাৰে,” আৰু “পুৰণি বনৰীয়া আধ্যাত্মিক শক্তিয়ে আনহাতে মানুহক ঢেকি ৰাখে।” এই কথাবোৰ শুনি বহু লোকেই জংঘললৈ যোৱাৰ সময়ত শংকিত হৈ থাকিব। কিন্তু এজনৰ সৈতে সংঘটিত ঘটনা এই জংঘলৰ রহস্যক নতুন দিশত লৈ যায়। গাঁওখনৰ কিছুমান যুৱক আৰু যৌৱনপ্ৰাপ্ত কিশোৰ ক্ৰীড়া আৰু সাহসিকতাৰ উদ্দেশ্যে জংঘললৈ গৈছিল, কিন্তু…
-
সুদীপ্ত নাথ ১ গ্রামের সকালের সূর্যটি কেবল ঢেউ খেলছিল ধানক্ষেতের ওপর, যখন গ্রামের মঞ্চে একটি অদ্ভুত নীরবতা বিরাজ করল। সবাই জানত, আজ কিছু অস্বাভাবিক ঘটতে চলেছে। ঠিক তখনই, হঠাৎই মঞ্চের মাঝখান থেকে একটি গভীর, ঝাঁঝালো কণ্ঠে ঘোষণা হল—“আমার জন্যে পাত্রী চাই!” শব্দগুলো যেন চারপাশের সব কিছুকে থামিয়ে দিয়ে অদ্ভুত এক স্থিরতা তৈরি করল। গ্রামের লোকেরা প্রথমে হতবাক হয়ে যায়, কেউ খালি চোখে মঞ্চের দিকে তাকিয়ে থাকে, কেউ আবার ধীরে ধীরে পেছনে সরে আসে। কৌতূহল আর ভয়ের মিশ্রণে সব চোখ মঞ্চে। কেউ হাসি থামাতে পারছিল না, আবার কেউ ভয়ে কাঁপছে। বুড়ো মজুমদার, যিনি গ্রামের খবরাখবরের দায়িত্বে ছিলেন, প্রথমে অবিশ্বাসের সঙ্গে মাথা…
-
অভিষেক মজুমদার ১ কলকাতার ব্যস্ত নাগরিক জীবনের কোলাহল থেকে প্রায় দেড়শো কিলোমিটার দূরে শান্তিনিকেতনের উপকণ্ঠে ছোট্ট একটি গ্রাম। নাম তার—চৌরঙ্গীডাঙা। বাইরে থেকে এ গ্রাম দেখতে সাধারণ, কাঁচা রাস্তা, ধানের ক্ষেত, গরুর গাড়ি, বিকেলের আড্ডায় চায়ের দোকান, মেলার সময় পুতুলনাচ বা বাউল গান। কিন্তু এই গ্রামকে ঘিরে এক অদ্ভুত গল্প বহুদিন ধরে চলে আসছে, যা শুনে আশেপাশের গ্রামও শিহরিত হয়ে ওঠে। কথিত আছে, বর্ষা নামার আগে, বিশেষ করে আষাঢ় মাসের শেষ রাতে গ্রামের দক্ষিণ প্রান্তের বাঁশবনে এক অদ্ভুত আচার হয়। সেই বাঁশবন খুব পুরোনো, অন্ধকারাচ্ছন্ন, সূর্যের আলোও সেখানে খুব বেশি প্রবেশ করে না। দিনের বেলায় সাধারণ মনে হলেও রাত নামলে তার…
-
পৌলমী বসু এক সকালের প্রথম আলোয় যখন ঘুম ভাঙে, তখন থেকেই সোমার দিন শুরু হয় দায়িত্বের দীর্ঘ তালিকা নিয়ে। রান্নাঘরে চায়ের কেটলি চড়ানো, টিফিনের বাক্স সাজানো, মৌয়ের স্কুলব্যাগ গুছিয়ে দেওয়া, কাপড় কাচা—সবই যেন একটা অভ্যাসের অংশ। কিন্তু এই অভ্যাসের ভেতরে কোথাও এক অদৃশ্য শূন্যতা দিন দিন গভীর হচ্ছে। জানলার ফাঁক দিয়ে আসা আলো তার চোখে পড়ে, কিন্তু সেই আলো তাকে আনন্দ দেয় না। বরং মনে হয়—এই আলোও যেন কেবল আরেকটা রুটিনকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। রান্নাঘরের ভেতর দাঁড়িয়ে সোমা যখন নুন-মশলার অনুপাতে তরকারি কষে, তখন তার ভেতরে ভেসে ওঠে প্রশ্ন—এটাই কি তবে তার জীবন? রান্নাঘরের কড়া গন্ধ, চায়ের ফুটন্ত বুদবুদ, কিংবা…
-
Rudra Pratap Sharma 1 The dusty roads leading into Alwar shimmered beneath the late afternoon sun as Devendra “Dev” Singh leaned forward against the rattling seat of the hired jeep, his eyes fixed on the rugged Aravalli Hills in the distance. The heat pressed down, unforgiving, but for Dev, the oppressive weather was just another detail in the landscape of Rajasthan—a backdrop to history’s forgotten voices. A backpack filled with notebooks, excavation tools, and his trusty camera rested by his side, each item carefully chosen for the task ahead. He had come not as a tourist, but as a seeker…
-
১ রাত্রি শহরের উপর নেমে এসেছে একটি নিঃশব্দ কুয়াশার মতো। বাতাসে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়েছে অদ্ভুত এক শীতলতা, যা গলির মোড়, ফুটপাথে, এবং পুরনো ইটের ভবনের দেয়ালে এক অদৃশ্য সুনিপুণ স্পর্শে উপস্থিত। কলকাতার এই উত্তরাঞ্চলের রাস্তা—যেখানে রাতের আলোও নিজেকে পুরোপুরি প্রমাণ করতে পারে না—শীতল বাতাসে ভাসছে। দিকহীন হাহাকার যেন বাতাসে মিশে গেছে; এক সময়কার রঙিন লণ্ঠনগুলো আজ নিঃশব্দ, অন্ধকারে ধীরে ধীরে গলিয়ে যাচ্ছে। অল্প আলো, দূরের হাওয়াই বাতি, এবং খণ্ড খণ্ড কাঁচের জানালার ঝকঝকে আলো মিলেমিশে এক ধরণের রহস্যময় আবহ সৃষ্টি করেছে। পাড়ার পুরনো বাড়িগুলো, যেখানে আগে শিশুদের চিৎকার আর পথচারীর কণ্ঠ শোনা যেত, আজ নিস্তব্ধ; এক অদ্ভুত আতঙ্কের ছায়া…
-
अभिनव सेठ १ गंगा किनारे बसे उस कस्बे की सुबह हमेशा शांति और प्रार्थना से शुरू होती थी। मंदिर की घंटियों की ध्वनि, घाट पर उठता धुआँ, और पानी में उतरती नावों की आवाज़ें मानो जीवन का हिस्सा थीं। लेकिन उस दिन सूरज की पहली किरणें अभी पूरी तरह फैली भी नहीं थीं कि घाट पर मछली पकड़ने गया मन्नू नाविक चीख पड़ा। उसकी आँखें भय से फटी हुई थीं—पानी के बहाव में एक शव तैर रहा था। लोग दौड़कर जमा हो गए, और कस्बे में हड़कंप मच गया। शव को किनारे लाया गया तो पता चला कि वह कोई…
-
Drishan Desai 1 The road to the caravanserai seemed endless, a ribbon of dust unraveling between the pale, desolate mountains. The solo traveler had been driving for hours, his jeep groaning under the strain of altitude and gravel, its wheels kicking up fine sand that swirled like smoke in the thin air. He had expected only silence here, a silence so vast it might collapse upon itself. Yet when he finally slowed before the ruins, the silence seemed heavy rather than empty, as if it were filled with the residue of countless footsteps, voices, and lives that had once passed…
-
দিব্যজ্যোতি দেৱচৌধুৰী ১ অভিজিৎ বহুদিনীয়া ছাত্ৰবাসৰ বিৰক্তিকৰ ভিৰভাঁটিৰ পৰা মুক্তি বিচাৰিছিল। গুৱাহাটী বিশ্ববিদ্যালয়ৰ গৱেষক হিচাপে তেওঁৰ দিনচৰি কাগজ-পত্র, কিতাপ আৰু গৱেষণাৰ চাপত ভৰ্তি। তেওঁ ভাবিছিল—এটা শান্ত, নিৰ্জন ঘৰ পাই থকাৰ পৰা হয়তো মনৰ স্থিৰতা আহিব, আৰু নতুন প্ৰবন্ধ লিখাৰ বাবে প্ৰয়োজনীয় মনোযোগ পোৱা যাব। সেই অনুসন্ধানতেই একদিনে তেওঁ পালে মাৰ্গহাটৰ এটা পুৰণি দুইতলা ঘৰৰ ঠিকনা। গুৱাহাটীৰ মূল নগৰৰ কোলাহলৰ পৰা অলপ আঁতৰৰপৰা হলেও, ঘৰখনৰ সৰু উঠোন আৰু মাটিৰ গন্ধত ভিজা পৰিৱেশত এক ধৰণৰ সান্ত্বনা আছিল। যদিও ঘৰৰ বাহ্যিক গঠনটো সলনি-ভাঙি পোৱা যায়—মজবুত কাঠৰ দৰজাৰ কাষে কাষে কাষ্ঠখণ্ড মলিন হৈ পৰা, জানলিৰ কাচবোৰত দাগ ধৰা—তথাপি সেই নিঃশব্দত অভিজিৎ এক ধৰণৰ অদ্ভুত…