কেশব চক্রবর্তী অধ্যায় ১ – রাতের কালীঘাট রাত নেমে আসে কালীঘাটের সরু গলিগুলোয় যেন ছায়ার আঁচড়, আর সেই আঁধারের মধ্যে ঢোকে এক অদ্ভুত স্থিরতা। মন্দিরের ঘন্টার টিকটিকি দূরে গুনগুন করে, আর মানুষের ঢল ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে। হরিপদ, যিনি প্রতিদিনের মতো মন্দিরের পাশে তার ফুলের টিকিতে বসে বিক্রি করেন, আজ রাতটা কিছুটা ভিন্ন মনে করছিলেন। গলির বাতাস হঠাৎই অস্বাভাবিকভাবে শীতল হয়ে আসে, এমনভাবে যেন ঘন কুয়াশার মতো অদৃশ্য হাত তাঁর গায়ে লেগে থাকে। হরিপদ লক্ষ্য করেন, মন্দিরের আলো দূরে আরও ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে, আর সেই ক্ষীণ আলোর মাঝে হঠাৎ এক নীলবসনা মানুষ প্রবেশ করে। সাধকের গায়ে শুধু নীল কাপড়,…
-
-
অংশুমান সেনগুপ্ত কোলাহলমুখর শহরের ভেতরেও কিছু জায়গা থাকে যেখানে সময় যেন থেমে যায়, আর মানুষ খুঁজে পায় একটুখানি নিঃশ্বাস নেওয়ার জায়গা। শহরের পুরোনো এক গলির ভেতর লুকিয়ে আছে ছোট্ট একটি ক্যাফে—“স্মৃতির ক্যাফে।” বাইরে থেকে খুব বেশি চমকপ্রদ নয়, কাঠের দরজার উপরে ঝুলছে ম্লান হয়ে যাওয়া নামফলক, জানালার কাচে প্রতিদিনের ধুলো জমে থাকে। কিন্তু দরজার ভেতরে ঢুকলেই অন্য এক জগৎ—হালকা বাদামি আলোয় সাজানো কাঠের টেবিল, দেয়ালে কিছু সাদা-কালো পুরোনো ছবি, আর কোণের শেলফে ছড়িয়ে থাকা বইপত্র। এখানে প্রবেশ করা মানেই শহরের কোলাহল ফেলে আসা, যেন অন্য এক জগতে ঢুকে পড়া। সেই সন্ধ্যাতেই অর্ণব প্রথমবার এই ক্যাফের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল। বাইরে…
-
Nikhil Pandey 1 The sun hung low over Ahmedabad, spilling its amber glow across the rooftops that seemed to stretch endlessly into the horizon. Every terrace was alive with color, movement, and laughter, the city preparing for the festival of Uttarayan. High above, kites of all shapes and hues fought against the playful gusts, dancing, dipping, and climbing as though the sky itself had been turned into a battlefield of dreams. Fifteen-year-old Aarav Patel leaned against the cool wall of his family’s terrace, the hum of the city below and the chorus of voices above filling his ears. His eyes…
-
Avinab Tripathi 1 The first light of dawn draped the ghats of Varanasi in hues of saffron and pale gold, casting long shadows across the stone steps as the Ganga stirred with life. Asha, a slender girl of thirteen, sat barefoot on the cold stone, her knees drawn close to her chest, watching the river awaken with the city. Pilgrims descended the steps, their chants mingling with the rhythm of conch shells, bells, and the flutter of pigeons rising in great swirls of wings. The air was thick with incense, the sharp tang of camphor smoke, and the brine of…
-
সৌম্য কর ১ গ্রামের নাম আড়বেলিয়া, নদীর ধারে ছোট্ট অথচ প্রাণবন্ত এক বসতি। এখানকার মানুষদের জীবন সহজ, হাসি-ঠাট্টা আর খুনসুটিতে ভরা। এই গ্রামেই জন্মেছে আর বড় হয়েছে শশী—পুরো নাম শশীভূষণ। শশীকে যারা চেনে, তারা জানে সে মনের দিক থেকে একেবারে স্বচ্ছ কাচের মতো, কিন্তু মাথার দিক থেকে মাঝে মাঝেই গুবলেট করে ফেলে। শশীর বোকাসোকা স্বভাব গ্রামে বহুল আলোচিত; কখনো গরুকে খড়ের বদলে নিজের নতুন ধুতি খাইয়ে দিয়েছে, কখনো আবার জমির মাপ নিতে গিয়ে লাঠির বদলে খুপরি দিয়ে দাগ কেটেছে। গ্রামের বৃদ্ধেরা বলেন—“শশী ভালো ছেলে, কোনো খারাপ কাজ করে না, কিন্তু বুদ্ধিটা যেন একটু এদিক-ওদিক।” তবে একথা সবাই মানে—শশীর অন্তর সোনার…
-
প্রবীর দাস ১ কলকাতার ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। শহরের ব্যস্ততা, ট্রামের ঘণ্টা, চায়ের দোকানের ধোঁয়া—সবকিছু যেন এক অচেনা বিষণ্ণতার আবরণে ঢাকা। অনিরুদ্ধ ব্যাগ গুছিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সিয়ালদহ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে। সে জানে, এ যাত্রা শুধু পাহাড় দেখার ভ্রমণ নয়, বরং এক অদৃশ্য টানের সাড়া দেওয়া। কতদিন ধরেই যেন তার বুকের ভেতর ফিসফিস করে চলেছে কোনো অচেনা সুর—“আয়, চলে আয়, পাহাড়ের ডাক শুনে।” ডায়েরি আর কলম, ক্যামেরা আর কয়েকটা বই—এই নিয়েই তার সম্বল। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে সে খেয়াল করে, চারপাশের লোকেরা তাদের নিজস্ব গন্তব্যে ব্যস্ত। অথচ তার গন্তব্য কোনো শহর নয়, কোনো চেনা জায়গা নয়—বরং অরুণাচলের অরণ্য, যেখানে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে আছে…
-
গ্রামের কালীমন্দিরে দুর্গাপূজার অষ্টমীর রাত মানেই এক অন্যরকম আবহ। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসত এই মন্দিরের পুজো দেখতে। সন্ধ্যা থেকেই মন্দিরের চত্বর আলোয় ভরে উঠেছিল, শঙ্খধ্বনি, ঢাকের শব্দ, কাশীর বাঁশির সুর আর ধূপকাঠির ধোঁয়া মিলেমিশে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করেছিল। গ্রামের ছোটো থেকে বড়ো সবাই নতুন কাপড় পরে এসেছিল, কেউ প্রণাম দিতে, কেউ আবার প্রতিমা দর্শন করে আনন্দ পেতে। মন্দিরের সামনের উঠোনে তখন নাচগানের আসর বসেছিল, কচিকাঁচারা ধুনুচি হাতে ঘুরছিল আর মায়ের আরাধনায় মেতে উঠেছিল। একপাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন কুমুদিনী দেবী, গ্রামের জমিদারবাড়ির বিধবা, তাঁর চোখে এক অদ্ভুত শূন্যতা, যেন উৎসবের আনন্দের ভেতরও কোথাও এক অজানা ভয় তাঁর বুক চেপে ধরেছিল। পুরোহিত…
-
অদ্রিতা সেন পর্ব ১ : নীরবতার প্রথম ফাটল কলকাতার উত্তর শহরের পুরনো বাড়ি। উঁচু ছাদের ঘর, লাল ইটের দেওয়াল, বারান্দায় শুকোতে দেওয়া সাদা শাড়ি আর মাটির টবে মানিকজোড় তুলসী গাছ—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত নস্টালজিয়ার ছবি। এই বাড়ির ভেতরেই বাস করে মৈত্র পরিবার। বড়ো ছেলে অনিরুদ্ধ মৈত্র, তার স্ত্রী অনন্যা আর ছোটো ভাই অরিত্র। গল্প শুরু হয় এখান থেকেই। অরিত্র, পেশায় তরুণ অধ্যাপক। শহরের নামী কলেজে ইতিহাস পড়ান তিনি। মেধাবী, সুদর্শন, আর ভেতরে ভেতরে সংবেদনশীল। বাবা-মা চলে যাওয়ার পর বড়ো ভাই-ই তার অভিভাবক। পরিবারের সকলেই তাকে নিয়ে গর্বিত। অন্যদিকে অনন্যা—অরিত্রর কাকিমা। বয়সে সামান্য বড়ো, কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে বিয়ে হয়ে আসার পর থেকে…
-
Elena Das Episode 1 — The First Glance The resort stood at the edge of the sea like a secret, white walls catching the late afternoon sun, palm trees bending as if whispering to the tide. Rhea adjusted her dupatta over her navy-blue kurta as she stepped out of the shuttle van, her colleagues already scattering toward the reception desk with the restless excitement of a three-day corporate retreat. She wasn’t sure what she felt—perhaps weariness from the long drive from Mumbai, perhaps a dull ache of detachment she had carried for years in her marriage to Kabir, who hadn’t…
-
Arjun Sen On the midnight shift aboard the survey ship Asterion, Mira Basu listened for trouble the way a violinist listens for a string going flat. Engines purred, monitors sighed, and the hull ticked as heat bled into space. She drank coffee and watched the interferometer graphs crawl. At 01:17 ship time, the graph hiccuped. Nine pulses rose from the noise: three short, three long, three short. Mira set the cup down. Not radio. Not laser. A gravitational ripple—faint but structured. SOS, stitched into spacetime. She paged the bridge. “Basu. Interferometer anomaly, band G-seven. Structured, repeating.” Captain Volkov’s voice arrived…