অয়ন দত্ত অধ্যায় ১ – মেলার ডাক গ্রামের বার্ষিক মেলার দিনটি এসেছে, এবং পুরো গ্রাম যেন এক অদ্ভুত উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছে। সকাল থেকেই মাটির রাস্তাগুলো জমে ওঠে মানুষের পদচারণায়, বেচাকেনা এবং উৎসবের আওয়াজে। হরেক রকমের দোকান সাজানো হয়েছে মেলার মূলমাঠে—ফুলের গলায়, রঙিন বাতির সারিতে, মাটির খেলনা, কাঠের পুতুল, হাতের কাজের ঝুলনা, আর দেশী ও বিদেশী খাবারের তামাশা সব মিলিয়ে যেন গ্রামের প্রতিটি মানুষকে আকৃষ্ট করছে। শিশুরা উল্লাসে দৌড়াচ্ছে, মুখে হেসে খেলে এবং নাগরদোলার ধোঁয়া ও লাল, সবুজ, নীল বাতি তাদের চোখকে মুগ্ধ করছে। গ্রামের বৃদ্ধা-বৃদ্ধরা মাটির বেঞ্চে বসে এই দৃশ্যটি দেখছে, আর তাদের চোখে এক অদ্ভুত ভাব—একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে কিছুটা…
-
-
নীলাক্ষি বসু বর্ষার রাত। আকাশ যেন কারও অন্তহীন শোক মেখে ভিজে উঠেছে। জানালার কাচের ওপরে টুপটাপ বৃষ্টির ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে, ছোট ছোট দাগ টেনে নিয়ে যাচ্ছে নিচের দিকে, আর তার সাথে মিশে যাচ্ছে দূরের বজ্রপাতের সাদা ঝলকানি। হোস্টেলের পুরনো দালানটা বৃষ্টির ঝাপটায় কাঁপছে, বাতাসের ঠান্ডা স্রোত বারবার জানালা ভেদ করে ঢুকে পড়ছে ছোট ঘরটায়। কক্ষের ভেতরে ম্লান আলোয় এক কোণে বসে আছে অর্পণ, সামনের টেবিলে খোলা সরকারি চাকরির প্রস্তুতির মোটা বই। পৃষ্ঠাগুলো ভিজে যাচ্ছে আর্দ্রতায়, মাঝে মাঝে পাতার কিনারা উল্টে উঠছে বাতাসে। অর্পণ খেয়াল করে, প্রতিবার জানালার কাচে বৃষ্টির আঘাত হলে তার বুকের ভেতরটাও অদ্ভুতভাবে ধকধক করে ওঠে। এ যেন…
-
Nisha Kapoor The Monsoon Express pulled out of Mumbai Central just as the sky broke open with rain, sheets of water drumming against the station roof and streaking the glass panes of the luxurious coaches. Inside, the world was far removed from the storm—velvet upholstery, polished wood, and the quiet hum of attendants who glided between compartments. Wealthy passengers sipped wine or tea, their conversations blending with the clink of cutlery. Among them sat Rajiv Mehta, the diamond merchant whose reputation preceded him. He leaned back in his chair, heavy rings glinting as he raised his glass, speaking too loudly…
-
তৰালিকা দত্ত গাঁৱখন একেবাৰে সৰু, কিন্তু নৈ–টিলা–বনৰ সমাহাৰে জীয়াই থকা। সৰু সৰু কুঁহিয়াৰ ঘৰৰ মাজেৰে আঁকাবাঁকা পথ, পথৰ কাষত ফুল–পাত, ঘাস–বুটলি, আৰু গোটেই পৰিবেশত শান্তি। সেয়েহে গাঁৱৰ মানুহবোৰৰ জীৱন ধীৰ, প্ৰকৃতিৰে মিলি গঢ়ি উঠা। সেই গাঁৱৰ মাজত কণমানি নামৰ এটা এপাটি জীয়ৰী আছিল। সি পৰিয়ালৰ একমাত্ৰ সন্তান, ঘৰৰ সকলোৰে মৰমৰ ধন। কণমানিৰ চকুত সদায় কৌতূহলৰ জোনাক জ্বলিছিল। আন পুৱাৰ বেলেগ বেলেগ কামত ব্যস্ত হ’লেও কণমানিৰ মন সদায় কেতিয়াবা মাটিত, কেতিয়াবা ফুলপাতত, আৰু বিশেষকৈ আকাশলৈ উৰি যাবলৈ ব্যাকুল হৈ পৰিছিল। বেলেগ ল’ৰা–ছোৱালীয়ে খেলপথাৰত খেলি ফুৰিলেও কণমানিৰ মন বেলেগ, সি আকাশৰ গহীন নীলা পিন্ধা মেখেলাত কি কি গোপন রহস্য আছে তাৰ খোজ…
-
प्रभाष गुप्ता दिल्ली का शहर हमेशा से ही अपनी चमक, भीड़ और बेइंतहा रफ़्तार के लिए जाना जाता है। सुबह होते ही यहाँ की सड़कों पर गाड़ियों का शोर, हॉर्न की गूंज और जल्दी में भागते लोगों की भीड़ हर तरफ दिखाई देती है। आरव भी इस दौड़ में शामिल एक साधारण इंसान था, जिसके जीवन का अधिकांश हिस्सा दफ़्तर और घर के बीच फँसकर रह गया था। सुबह अलार्म की आवाज़ के साथ उसकी आँख खुलती, और बिना सोचे-समझे वह दिन की शुरुआत करता। ऑफिस पहुँचने के लिए उसे मेट्रो या कैब में लंबा सफ़र तय करना पड़ता, जहाँ…
-
দীপক সাহা শহরের নিস্তব্ধ সকালের আলোয় যখন পত্রিকার পাতায় পাতায় ছাপা হচ্ছিল গত রাতের নানা খবর, তখনই মানুষের চোখে ধরা দিল এক অস্বাভাবিক শিরোনাম—“বিশ্ববিখ্যাত চিত্রকর অরিন্দম রায় হঠাৎ নিখোঁজ।” খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই সারা শহরে আলোড়ন। যে মানুষটি তার তুলি আর রঙের যাদু দিয়ে বিশ্বকে বারবার অবাক করেছে, যার চিত্রকর্ম একেকটা প্রদর্শনীতে কোটি টাকারও বেশি দামে বিক্রি হয়, তিনি নাকি হঠাৎ করেই উধাও! অরিন্দম ছিলেন শুধু শিল্পী নন, তিনি ছিলেন এক ধরনের দর্শন—রঙের ভেতরে মানুষের অজানা ভয়, দুঃখ, ভালোবাসা আর মৃত্যুর প্রতিচ্ছবি তিনি এমনভাবে ফুটিয়ে তুলতেন, যেন প্রতিটি ছবিই জীবন্ত হয়ে ওঠে। এমন এক মানুষ হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেলে তা সাধারণ…
-
Pinaki Chouhan The morning air in Guwahati buzzed with anticipation as a group of high school students gathered at the city bus stand, their backpacks slung over shoulders and cameras dangling from necks, ready for a cultural trip to Shillong. Excited chatter filled the bus as friends jostled for window seats, their voices blending with the rumble of the engine and the scent of freshly brewed tea from the roadside stalls. Teachers tried to maintain some order, reminding students of the itinerary while the students’ eyes sparkled at the thought of scenic hills, cascading waterfalls, and bustling local markets awaiting…
-
পাৰ্থ প্ৰতিম মুখার্জী পূর্ণিমার রাত ছিল শান্তিনিকেতনের। আশ্রমের চারপাশে নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে, শুধু দূরে মাঠের ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে। এমন রাতে আকাশে এক বিরল দৃশ্য ফুটে উঠল—দিগন্ত জুড়ে টানা লালচে আগুনের রেখা, যেন কেউ জ্বলন্ত মশাল ছুড়ে দিয়েছিল আকাশের বুকের ভেতর দিয়ে। গ্রামের ছেলেরা উল্লাস করে চিৎকার করল—“উল্কাপাত!” মহিলারা মন্দিরের ঘন্টার শব্দ তুলল, ভাবল দেবতার আশীর্বাদ নেমে এসেছে। কিন্তু বৃদ্ধ লোকেরা স্তব্ধ হয়ে বসে রইল। তাদের চোখে ভয়, কপালে ঘাম, ঠোঁটে নিঃশব্দ ফিসফিসানি। তারা জানত, এটা কেবল কোনো নক্ষত্রপতন নয়—এটা “তান্ত্রিক পথ,” যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক অন্ধকার ইতিহাস। বহু বছর আগে শোনা গিয়েছিল, এক তান্ত্রিক পূর্ণিমার রাতে এই…
-
শ্যামল মণ্ডল শান্তিনিকেতনের উপকণ্ঠে বিস্তৃত মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে আছে একটি ছোট্ট আশ্রম, যার বয়স অন্তত একশো বছরের কাছাকাছি। চারপাশে তাল, শাল আর আমগাছের ছায়ায় আশ্রমটিকে দূর থেকে মনে হয় যেন সময়ের থেকে আলাদা কোনো টুকরো জায়গা, যেখানে আধুনিকতার কোলাহল ঢুকতে পারেনি। আশ্রমের মূল প্রবেশপথের কাছে দাঁড়িয়ে আছে একটি বিশাল করবীর গাছ—গোটা এলাকার সবচেয়ে বেশি আলোচিত আর ভয়ভীতির কেন্দ্রবিন্দু। আশ্রমের সন্ন্যাসী আর আশ্রমে পড়তে আসা অনাথ ছেলেমেয়েরা সবাই জানে, দিনের বেলায় করবীর গাছ স্বাভাবিক মনে হলেও সন্ধ্যা নামলেই তার চেহারা পাল্টে যায়। প্রতিদিনই গাছের ডালে ফোটে অদ্ভুত টকটকে লাল ফুল, যার রং এতটাই গাঢ় যে অনেকেই বলে, রক্তের মতো দেখায়। আশ্রমের…
-
সৃজনী দেব কলকাতার ভিড় আর শব্দের বেসরকারি চাপ থেকে মুক্তি খুঁজতে অনির্বাণ ভোরবেলায় দার্জিলিংয়ের পথে রওনা হয়। শহরের ব্যস্ত রাস্তাঘাট, ক্লান্ত মানুষজন, হাহাকার আর যানজট সবই যেন তাকে এক অদৃশ্য জালে আটকে রাখছিল, যেখানে নীরবতার স্বাদ পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু পাহাড়ের দিকে যাওয়ার সাথে সাথে এই নৈরাশ্যটা ক্রমে হ্রাস পেতে থাকে। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছানোর পর, ছোট্ট টয় ট্রেনের ঢেউ খেলানো স্লোপে ওঠার সাথে সাথেই তার মন ভরে ওঠে অজানা আনন্দে। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের কুয়াশা, দার্জিলিং শহরের ছোট্ট চা-বাগান আর দূরবর্তী আকাশের সঙ্গে মিশে থাকা সবুজের সমাহার তাকে এক অবর্ণনীয় শান্তি দেয়। ট্রেন যখন ধীরে ধীরে পাহাড়ের বাঁক কেটে এগোতে…