রৌনক গুহ প্রোটোটাইপের প্রথম নিশ্বাস কলেজ স্ট্রিটের ভাঙাচোরা গলির একদম শেষে যে বাড়িটা রাত হলে অকারণে আঁধার নামিয়ে দেয়, সেখানে আমার ল্যাব—একা হাতে বানানো, লৌহের ফ্রেমে টিকে থাকা, পুরনো অস্কিলোস্কোপের আলোয় ঝিকিমিকি করে যে স্বপ্নটা পায়ের নীচে বিছিয়ে রাখি আমি, নাম ইরফান মিত্র, পেশায় রোবোটিক্স গবেষক, কিন্তু পাড়ায় সবাই আমাকে পাগল ইঞ্জিনিয়ার বলে ডাকে, কারও তাতে কিছু আসে যায় না—কারণ আজ যে রাতে আমার হাতে প্রথম নিশ্বাস নেবে শ্যামাপ্রসাদ, এক মেশিন, কিন্তু মেশিনের ভেতর লুকোনো মানুষের মতো কোমল কিছু, যা আমি গত চার বছর ধরে হারিয়ে ফেলা ছেলের স্মৃতি থেকে চুরি করেছি; আরেকটু নিখুঁত হলে সে আঙুল উঁচিয়ে বলবে “বাবা”;…
-
-
Rohan A. Desai Part One – The Arrival The city was still damp from the evening rain when Maya stepped out of the cab. The streets glistened with neon reflections, every puddle a trembling mirror that caught fragments of shop lights, passing headlights, and the restless pulse of Friday night. She adjusted the strap of her bag and drew her coat closer around her body, though the air wasn’t cold so much as alive with moisture. She could feel it clinging to her skin, making her aware of herself in a way that was both uncomfortable and strangely awakening. The…
-
Arjun Devran Episode 1: The Price of Happiness They called it a gala because the word auction had acquired a bitter aftertaste. The broadcast opened on velvet—digital, of course—spilling across a stage whose edge glowed with the phosphor-blue logo of the Vault. A presenter in a silver suit moved like a dart of light from one podium to the next. Behind him: columns of data cascading in ribbons, small squares of people’s faces suspended in pastel halos. Above all of it, the city’s night leaned against glass, and rain threaded itself down the sides of towers as if it were…
-
Aarushi Sen The road curved like a tired snake up the hillside, each turn opening to glimpses of mist rolling down the pines, and Mira Kapoor sat in the back seat of the rattling jeep clutching her bag as if it might steady her heart, wondering for the hundredth time if she was making a mistake by coming here at all, leaving behind the familiar noise of Delhi, the polished glass office towers, the people who used to smile at her in corridors but no longer looked her in the eye after she had broken off her engagement with Rohan,…
-
১ রাতটা ছিল ভয়ংকর, দূর্গাপুরের আকাশজুড়ে ঘন কালো মেঘ জমে উঠেছিল, যেন প্রকৃতিই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অপেক্ষা করছিল আসন্ন বিপর্যয়ের। পুরোনো কয়লা খনিটি দিনের পর দিন ক্লান্ত শরীরের ঘাম শুষে নিয়েছে, হাজারো হাতুড়ির আঘাতে প্রতিদিন মাটির গা ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে কালো রুটি, কিন্তু সেই রাত যেন ভিন্ন ছিল। শ্রমিকরা কাজ শেষ করে অন্ধকার টানেলের গভীরে শিফট পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল, হঠাৎ ভূগর্ভ থেকে গম্ভীর গর্জন উঠতে লাগল। মনে হচ্ছিল, মাটি যেন কেঁপে উঠছে, দেয়ালের কাঠের পাটাতন ভেঙে পড়ার মতো শব্দ উঠছিল, বাতাসে ভেসে আসছিল ধুলো আর কয়লার গন্ধে ভারী নিঃশ্বাসরোধ করা পরিবেশ। শ্রমিকরা চিৎকার করল, “ধস হচ্ছে, বাইরে বেরোও!” কিন্তু বেরোনোর…
-
অধ্যায় ১ – গঙ্গার বুকে তৈরি সেই প্রাচীন সেতুটি এক অদ্ভুত সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ব্রিটিশ আমলে, প্রায় দেড়শো বছর আগে, সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল কলকাতার সাথে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সংযোগ সহজ করার জন্য। গাঢ় ধূসর পাথরে গড়া এই সেতুটি শুধু পরিবহনের জন্য নয়, ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের শক্তির প্রতীক। গঙ্গার স্রোতকে যেন অমানুষিক জোরে বেঁধে রাখার এক দম্ভ দেখাতে চেয়েছিল ব্রিটিশরা। বিশাল খিলান, উঁচু খুঁটি, আর পাথরের গায়ে খোদাই করা সেই সময়কার নকশা এখনও মানুষের বিস্ময় জাগায়। দিনের বেলায় সেতুটা যতই দৃঢ় আর স্থায়ী মনে হোক, রাতের অন্ধকারে তার রূপ একেবারে পাল্টে যায়। গঙ্গার কুয়াশায় ঢাকা সেই পাথরের খিলানগুলো অদ্ভুত ভৌতিক…
-
আৰ্য্য সেনগুপ্ত ১ কলকাতার ভিড় আর শব্দের মধ্যে বড় হতে হতে মেঘলা সবসময়ই ভেবেছিল একদিন সে শিল্পের পথে নিজের একটা আলাদা জগৎ গড়ে তুলবে। ছোটবেলা থেকেই তার কাগজ-কলম, তুলিতে রঙ খেলা, আঁকিবুকির প্রতি ছিল অদ্ভুত টান, আর সেই টানই তাকে নিয়ে আসে এই ছোট্ট শহরের পুরোনো এক আর্ট স্কুলে। ট্রেন থেকে নামার মুহূর্তেই সে অনুভব করেছিল শহরটা যেন অন্য এক ছন্দে বেঁচে আছে—এখানে হর্নের শব্দ নেই, নেই বহুতল অট্টালিকার ছায়া, বরং আছে কাঁচা রাস্তার ধুলো, দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া লাল সূর্যের আলো, আর হাওয়ায় মিশে থাকা শাল-সেগুন পাতার গন্ধ। হঠাৎ করেই নিজেকে অচেনা লাগছিল তার—কোথাও নেই সেই চেনা বন্ধুরা, নেই তার…
-
দিব্যেন্দু হালদার ১ গ্রীষ্মের শেষ বিকেল। গঙ্গার একটি শাখানদী নীরবে বইছে বাংলার এক অজ পাড়াগাঁয়ের পাশ দিয়ে। চারদিক জুড়ে সোনালি আলো ছড়িয়ে পড়েছে, গাছের পাতায় হাওয়ার মৃদু সুর বাজছে, অথচ গ্রামের মানুষজনের মধ্যে এক অদ্ভুত কৌতূহল ছড়িয়ে পড়েছে। খবর এসেছে—বারাণসী থেকে এক অঘোরী সাধক হঠাৎ এ গ্রামে এসে উপস্থিত হয়েছে। কালো অর্ধফাটা চাদর জড়ানো দেহ, গায়ে চন্দনের বদলে শ্মশানের ছাই, লম্বা জটাজুট বাঁধা চুল, গলায় কপালের মালা আর হাতে একটিমাত্র খুলি। তাকে দেখে প্রথমে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা ভয়ে কেঁপে উঠেছিল। গ্রামের কয়েকজন প্রবীণ বলল, “ওরা অঘোরী—শ্মশানই ওদের ঘর।” সত্যিই, সন্ধ্যা নামতেই তাকে দেখা গেল গ্রামসংলগ্ন শ্মশানঘাটে বসতে। একলা আগুন জ্বালিয়ে…
-
নীলয় বসাক এক অরণ্যের আঁকাবাঁকা রাস্তায় ভোরের প্রথম আলো ভেসে আসছিল। শিলিগুড়ি থেকে গাড়ি ধরে বহুটা পথ পেরিয়ে রিচার্ড অবশেষে পৌঁছাল সেই প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রামে, যাকে স্থানীয়রা ‘রংভ্যালি’ বলে ডাকে। গ্রামের নাম মানচিত্রে খুঁজে পাওয়া যায় না, পর্যটন গাইডবুকেও তার উল্লেখ নেই। তবু পাহাড়ের নিস্তব্ধতায় মোড়া জায়গাটির প্রতি এক অদ্ভুত আকর্ষণ টেনেছিল তাকে। মেঘলা আকাশের নিচে সিঁড়ির মতো সাজানো ধানক্ষেত, কুয়াশায় আধঢাকা ছোট ছোট কুঁড়েঘর আর মাটির রাস্তার ধারে পাথর বসানো ঢাল—সবকিছু যেন রিচার্ডের চোখে এক অলৌকিক দৃশ্যের মতো ভেসে উঠল। লম্বা দেহ, খয়েরি দাড়ি আর গলায় ঝোলানো ক্যামেরা নিয়ে গ্রামের সীমানায় পা রাখতেই লোকেরা থমকে তাকাল। এত দূরে, এত…
-
সুপ্ৰকাশ মুখার্জী ১ অন্ধকার নামার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রামের অলিগলিতে নিস্তব্ধতা নেমে আসে। সন্ধের প্রার্থনা শেষ হলে কাকাদের আড্ডা থেমে যায়, খুদেরা দৌড়ঝাঁপ বন্ধ করে মায়েদের আঁচলের আড়ালে ঢুকে পড়ে। একমাত্র যিনি তখনও সক্রিয়, তিনি রাধিকা কাকিমা। বয়স আশির কাছাকাছি, মুখভর্তি কুঁচকানো ভাঁজ, মাথার চুল প্রায় সাদা, তবুও তার চোখদুটি এখনো অদ্ভুত উজ্জ্বল। গ্রামের বাচ্চারা যখন চারদিকে ছুটোছুটি করে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন সন্ধেবেলায় তার উঠোনে জড়ো হয়। উঠোনের মাঝখানে রাখা মাটির প্রদীপটিতে হলদেটে আলো জ্বলে ওঠে, আর কাকিমার গলায় ভেসে আসে সেই পুরোনো দিনের গল্প। আজও তিনি বসে আছেন শালপাতার পাখা হাতে, যেন সেই আলো আর বাতাসকে গল্পের তালে তালে…