• Bangla

    লাল ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে

    তিয়াষ মৈত্র কলকাতার শ্রাবণ মাস। আকাশে তখনো রোদ-ছায়ার খেলা। মেঘ জমে আবার হঠাৎ একফোঁটা করে নামে বৃষ্টি, যেন মন চাইলে কাঁদে আকাশ। শহর ধুয়ে যায় সেই বৃষ্টির ছোঁয়ায়, আর আমার মতো কিছু মানুষ ভিজে ভিজে খুঁজে ফেরে হারানো কোনো গল্পের পাতা। আমি সৌরভ, বয়স তিরিশ পেরিয়ে একত্রিশে পা রেখেছি কিছুদিন হলো। একটি বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ করি, বাড়ি ঢাকুরিয়া। সকালে অফিসে যাওয়ার পথে প্রায়শই বাগবাজার ঘাট দিয়ে যাই—বিশেষ করে বর্ষাকালে, যখন গঙ্গা এক অদ্ভুত নীলচে-সবুজ রঙে বয়ে চলে, আর তার বুকের উপর কুয়াশা খেলে যায়। এই নদীর কাছে দাঁড়ালে মনে হয়, সময় কিছুক্ষণ থেমে থাকে। এই গল্পটা শুরু হয় এক বৃষ্টিভেজা…

  • English

    Monsoon at India Gate

    Prakash Jha The First Glance The Delhi sky wore the look of brooding poetry — thick grey clouds drifting low, full of unspent rain. July had entered like a wandering musician, with sudden showers and stolen breezes, giving the city its brief but beautiful monsoon glow. Aahana stood just at the edge of India Gate, her eyes scanning the horizon beyond the crowd. She was dressed in a soft blue kurta, her dupatta wrapped loosely around her neck, as if it, too, shared her mood of restless detachment. She hadn’t come here with a plan. After a morning argument with…

  • Bangla

    তৃষ্ণাঘাটের উপকথা

    ভারতের উত্তরবঙ্গের শেষপ্রান্তে, শিলিগুড়ি থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দূরে এক নিভৃত পাহাড়ি গ্রাম — তৃষ্ণাঘাট। নামটি শুনেই বোঝা যায়, একসময় এখানে পানীয় জলের অভাব ছিল। কিন্তু প্রকৃত অর্থে এই নাম এসেছে এখানকার একটি পুরনো প্রবাদ থেকে — “তৃষ্ণার শেষ আশ্রয়ঘাট”। কারণ, বহু শতাব্দী আগে এখানকার এক প্রাকৃতিক ঝর্ণা নাকি প্রাণ বাঁচিয়েছিল মহামারিতে আক্রান্ত একটি গোটা সম্প্রদায়কে। গ্রামটির অবস্থান ডুয়ার্সের ঘন সবুজের মধ্যখানে, চারদিকে শাল, সেগুন, মহুয়া আর বার্নিশ গাছ। দূরে দেখা যায় পাহাড়ের নীলচে রেখা, যেন প্রকৃতি নিজ হাতে আঁকা ছবি। আজও এখানে মোবাইলের নেটওয়ার্ক পৌঁছায় না ঠিকমতো, কিন্তু পাহাড়, মেঘ, আর জঙ্গলের আলিঙ্গনে এখানকার মানুষজন যেন অন্য জগতের বাসিন্দা।…

  • Bangla

    পাহাড়ি প্রতিচ্ছবি

    রিমা ঘোষ আগমন যখন নিঃশব্দে সন্ধ্যায় ঢলে পড়ে, তখন সেই নিঃশব্দতাকে যেন আরও ঘন করে আনে পাহাড় থেকে নেমে আসা কুয়াশা। হেমন্তের ঠান্ডা হাওয়া গায়ে এসে লাগে ধারালো সুতোয় বাঁধা ছুরি’র মতো। সেই কুয়াশার ভিতর দিয়েই ধীরে ধীরে উঠতে থাকে একটি জিপ। ভেতরে বসে আছে তানিশা সেন—কলকাতা থেকে আসা এক তরুণী লেখিকা, যার ঝুলিতে আছে কিছু কবিতা, কিছু হতাশা আর একটা অসমাপ্ত উপন্যাস। তানিশা এসেছে একা। বলেছে বন্ধুবান্ধবকে—”একটু লিখতে হবে। পাহাড়ে শান্তি পাব, মন খুলে লিখতে পারব।” কিন্তু তার এই একাকী যাত্রার পেছনে আরও কিছু আছে—একটা হারিয়ে যাওয়া অনুভব, একটা অদৃশ্য টান, যেটা সে নিজেও ঠিক বুঝতে পারে না। ল্যান্ডোর…

  • Bangla

    মাটির আখ্যান

    সায়ন্তনী রায় বাঁকুড়ার খড়গপুর গ্রামে ভোরবেলাটা যেমন হয়—গঙ্গাজলঘাট থেকে ঘোরা শুরু করে হালকা কুয়াশায় ঢাকা মাটির রাস্তা, পাখির ডাকে ভাঙা ঘুম, আর দূরের কোনো বাড়ি থেকে ভেসে আসা রেডিওর রবীন্দ্রসঙ্গীত। এই সবের মাঝখানে, বুড়ো হরিরাম গাঁয়ের এক কোণে নিজের কাজে ব্যস্ত। তিনি পোড়া মাটির শিল্পী—তাঁর হাতেই প্রাণ পায় ঘোড়া, হাতি, নর্তকী, কৃষ্ণের বাঁশি, আর গম্ভীরা। পাঁচ পুরুষ ধরে হরিরামের পরিবার এই কাজ করে। তাদের রক্তে মিশে আছে মাটি, আগুন, আর শিল্পের ভালোবাসা। তাঁর দাদার কথা মনে পড়ে—একবার বলেছিলেন, “এই মাটি যখন আগুনে পুড়ে ওঠে, তখন সে শুধু ঠাকুর হয় না, সে হয়ে ওঠে আত্মা।” হরিরামের মেয়ে রেবা কলেজে পড়ে বিষ্ণুপুরে।…

  • Bangla

    লাল বাসের ডায়েরি

    সাদমান হাসান তুর্য আমি একটি বাস। না, স্রেফ যান্ত্রিক এক বস্তু হিসেবে নয়, আমি আত্মাসম্পন্ন, অনুভব-সক্ষম এক যাত্রীভরা জীবনরথ। আমার জন্ম হয়েছিল ২০০৩ সালের এক গরম দুপুরে, নারায়ণগঞ্জের একটি ছোট্ট কিন্তু ব্যস্ত কারখানায়। তখন চারদিকে শিল্পকলার এক উৎসব চলছিল। মিস্ত্রির হাতের করাঘাতে গড়ে উঠছিল আমার শরীর, আমার হাড়-গোড়, আমার চাকার পাটাতন। আমি ছিলাম “মেট্রো পরিবহন” কোম্পানির সবচেয়ে নতুন সংযোজন। কারখানা থেকে বের হতেই দেখি রাস্তাজুড়ে জ্যাম, গাড়ি, হর্নের শব্দ। কিন্তু আমার মনে চলছিল কেবল উত্তেজনা—আজ আমি যাত্রী বহন করব, মানুষের হাসি-কান্নার অংশ হব। আমার প্রথম দিন ছিল গাবতলী থেকে সায়েদাবাদ রুটে। সকাল সাতটা। ড্রাইভার রশিদ ভাই সিগারেট খাচ্ছিলেন। হেল্পার ছেলেটার…

  • Bangla

    চিরন্তন কলকাতা

    Arindam Mukherjee সকালে সাতটা নাগাদ কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়ায় হাজির হন বিমলবাবু। মহাবোধি সোসাইটির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি চা খাচ্ছেন। দোকানদার চিনে ফেলল—”আরে, বিমলদা! আবার বই খুঁজতে নাকি এলেন?” বিমলবাবু মুচকি হেসে বললেন, “এই বইপাড়াটার মধ্যে একটা ঘোর আছে হে। আমি যখন প্রেসিডেন্সিতে পড়তাম, তখন রোজ এখানে আসতাম। সেই ঘোরটা এখনও যায়নি।” তিনি আজ খুঁজছেন একটা পুরনো বই—”বেঙ্গল ইন ট্রানজিশন”—১৮৭২ সালে প্রকাশিত। কারণ বইটির ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে এক রহস্য—একটা পুরনো মানচিত্র, যেটাতে কলকাতার এক লুপ্তপ্রায় পাড়ার উল্লেখ আছে—”ঘুসুড়িপাড়া”, যেটা নাকি ১৯০৫ সালের পর কলকাতার মানচিত্র থেকেই মুছে গেছে। “আপনার খোঁজার পেছনে কারণটা কী বলুন তো?” চা দোকানদার অচিন্ত্য জানতে চায়। বিমলবাবু চুপ…