निहारिका शर्मा आठवीं कक्षा का छात्र अंशुल एक सामान्य लड़का था — न बहुत होशियार, न बहुत शरारती। लेकिन एक चीज़ जो उसे सबसे अलग बनाती थी, वो थी उसकी जिज्ञासा। उसे मशीनों से, तारों से, घड़ी के पुर्ज़ों से खेलना बेहद पसंद था। जब उसके दोस्त क्रिकेट खेलते या वीडियो गेम में खोए रहते, अंशुल अपने घर की छत पर बने छोटे-से कमरे में कुछ न कुछ जोड़-तोड़ में लगा रहता। उसके पापा, प्रोफेसर नीरज वर्मा, एक वैज्ञानिक थे, जो कभी ISRO में काम करते थे। अब वे एक निजी लैब में नई-नई तकनीकों पर रिसर्च करते थे। अंशुल…
-
-
অখিল চৌধুরী ১৮৫৭ সাল—ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম বৃহৎ সশস্ত্র বিদ্রোহ। দিল্লি, কানপুর, ঝাঁসি, মীরাট থেকে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ছিল ধীরে ধীরে। আর এই সময়েই, কলকাতার মতো শহর, ব্রিটিশ ভারতের প্রশাসনিক হৃদয়, বাইরে থেকে যতটা স্থির, ভিতরে ততটাই অস্থির। ঠিক এই সময় কলকাতার অলিগলিতে দেখা যেতে লাগল এক রহস্যময় চরিত্র—একজন মুখোশপরা নবাব, যিনি প্রতিরাতে বারোটার সময় বেরিয়ে পড়েন, কারও গায়ে হাত না তুলেও ছড়িয়ে দেন ভয়ের শীতল ছায়া। কিন্তু তিনি কে? তিনি কি ইংরেজদের গুপ্তচর, না এক ভারতীয় বিপ্লবী? আর তার মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে আছে কী? ১৮৫৭, জুলাই মাস, কলকাতা। শোভাবাজার রাজবাড়ির পাশে ছোট একটা চায়ের দোকানে সন্ধ্যা থেকে জমে…
-
সুমন দাস আমার জন্ম হয়েছিল এক নিঃশব্দ সকালে। পাহাড়ের বুক চিরে একটুখানি ঝরনা যখন নেমে আসছিল, তখন কেউ জানত না সেই জলধারা একদিন নদী হবে। না, আমি হিমালয়ের বিশাল বরফগলা স্রোত নই, আমি সুধানী — এক শান্ত, সরল, কিন্তু গভীর জীবনবোধে পরিপূর্ণ নদী। আমার জন্মস্থানটি ভারতের পূর্ব হিমালয়ের এক অজানা কোণে, যেখানে নীল পাহাড় আর সবুজ বন একে অপরকে জড়িয়ে রাখে চুপিচুপি। প্রথমে আমি ছিলাম এক ছেলেখেলার ঝরনা। বনভূমির কচি ঘাস আমার পায়ে খেলত, বুনো ফুলেরা হাসিমুখে তাকিয়ে থাকত আমার দিকে। পাখিরা এসে আমার জলে ঠোঁট ডুবিয়ে যেত, আর শালগাছের ছায়া আমাকে আগলে রাখত মায়ের মত। আমি শিখে নিচ্ছিলাম প্রবাহের…
-
Saurav Dilshan Arrival in the Clouds Vinay Joshi had always believed that cities talked too much. Born and raised in Delhi, he had grown up with the sound of impatient horns, fluorescent billboards blinking at midnight, and conversations that rarely waited to be heard. His life as a novelist thrived on observation, but lately, it seemed Delhi no longer gave him anything new to see. Or perhaps it was his own eyes that had grown weary. His most recent novel—a taut, melancholic tale about a man who forgot how to feel—was received with polite applause and little else. It had…
-
মিত্রা বসু পাঁচ নম্বর পাড়া—উত্তর কলকাতার এক পুরনো গলি ঘেঁষে থাকা, রোদে পুড়ে যাওয়া লাল বাড়ির সারি। ভাঙাচোরা রাস্তায় বাচ্চারা ফুটবল খেলে, দুপুরবেলায় বুড়োরা চায়ের দোকানে তাস খেলেন, আর সন্ধ্যায় ঘরে ঘরে কাকের ডাকের মতো বকবকানি শুরু হয়। এমনই এক শান্ত পাড়ায় হঠাৎ একদিন শোরগোল পড়ে গেল। ৭৫ বছরের হরিহর দত্ত, যাকে সবাই স্নেহ করে “হরি দাদু” বলে ডাকে, ঘোষণা দিলেন—তিনি এখন থেকে গোয়েন্দা হবেন। —“গোয়েন্দা বলছো? দাদা, এ বয়সে?”—জিজ্ঞাসা করলেন রাধাকান্ত দা, চায়ের দোকানের মালিক, মুখে পানের গুল। —“বয়স কি গোয়েন্দাগিরির বাধা? হ্যারকুল পোয়ারোও তো বৃদ্ধ!”—উত্তর দিলেন দাদু, গম্ভীর চোখে চশমা ঠিক করতে করতে। —“আপনার তো গাঁটের ব্যথা, হাঁটুতেই…
-
अमूलिक त्रिपाठी संगम के आकाश में संगम नगरी इलाहाबाद की सुबहें कुछ अलग होती हैं। जब सूरज यमुना के ऊपर से अपना नारंगी उजाला धीरे-धीरे फैलाना शुरू करता है, तब शहर की संकरी गलियों से आवाज़ें आने लगती हैं—“पेच दे!” “ढील दे!” “अब कटेगी!” यही पतंगबाज़ी की शुरुआत होती है। नौवी कक्षा का छात्र अर्जुन मिश्रा उन लड़कों में से था जिनके लिए पतंगबाज़ी सिर्फ एक खेल नहीं, इज़्ज़त का सवाल थी। उसकी आँखों में संगम के आकाश को जीतने का सपना था। माघ मेले की भीड़, कुंभ की तैयारियाँ, और आस्था की बाढ़ में भी अर्जुन की नजरें आसमान…
-
ঋদ্ধিমা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা শহরের উত্তর প্রান্তে, শ্যামবাজারের এক পুরনো বাগানবাড়ি। বাড়িটা প্রায় শতবর্ষ পুরনো, লালচে ইটের গাঁথুনি, লোহার রেলিং আর কাঠের বারান্দা। ঘরগুলো যেন চুপচাপ দাঁড়িয়ে সময়কে দেখছে—দিন যায়, রাত আসে, মানুষ বদলায়, কিন্তু বাড়ির দেয়ালের ফিসফিসানি একই থাকে। এই বাড়িতে সদ্য এসেছেন নীলয় সেন। বয়স পঁচিশের কাছাকাছি, পেশায় গ্রাফিক ডিজাইনার। শহরের কোলাহল থেকে দূরে কিছুটা নিঃশব্দ জীবনের খোঁজে, ভাড়া নিয়েছেন এই পুরনো বাড়ির একতলার দুটো ঘর। বাড়িওয়ালা—নিমাই পাল, এক অদ্ভুত বৃদ্ধ, যার মুখে সবসময় এক রহস্যময় হাসি। নীলয়ের জীবনে কিছুদিন আগে বড় ধাক্কা লেগেছে। মেঘলা, তার দীর্ঘদিনের প্রেমিকা, হঠাৎই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কোনো কারণ না জানিয়েই, হঠাৎ, একরাতে,…
-
উমেশ মাহাতো পুরুলিয়ার ঘন অরণ্যের কোলে এক নামহীন ছোট্ট গ্রাম। গ্রামটির নাম কেউ জানে না, তবে এলাকাবাসী সবাই এই গ্রামটিকে ‘অন্তরাল’ বলে ডাকে। প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা এই গ্রামটির জীবনযাত্রা সাদাসিধে, নির্মল ও পরিপূর্ণ। প্রতিদিন সূর্যের প্রথম কিরণ পড়তেই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে গ্রামের মানুষ। মাটির ঘরগুলো ছাদে খড়ের চুয়াড়ি আর সামনে লতাপাতা ঝুলানো বারান্দা যেন সময়ের হাতছানি ধরে রেখেছে বহু পুরনো ইতিহাস। গ্রামের প্রতিটি মানুষই কৃষিকে জীবিকার মূল উৎস মনে করে। এখানে ধান চাষ প্রধান, আর বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও মসলা চাষও কম নয়। সকালে, কৃষকেরা তাদের বেলচা নিয়ে ধানের খেতের দিকে এগিয়ে যায়। ফসল ঘাসফড়িংয়ের গন্ধে ভরে ওঠা…
-
শ্রেয়সী হাজরা পুরনো শহরের এক অলিন্দ গলির মোড়ে, যেখানে আধুনিকতার চমক-ঝলক কম, আর সময় যেন একটু ধীরে চলে, দাঁড়িয়ে আছে “অন্তরবাতি” নামের একটি পুরনো বইয়ের দোকান। দোকানটির কাঠের জানালা আর দরজা ছুঁয়ে গিয়েই মনে হয়, কেউ যেন ইতিহাসের পাতা উল্টাচ্ছে, যেখানে গাঁথা আছে নানা গল্প, অজানা স্মৃতি আর হারিয়ে যাওয়া কথার ঢেউ। দোকানটির ভিতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই একটা আলাদা গন্ধে মন ভরে যায়— পুরনো কাগজের গন্ধ, ধুলো-মাখা বইয়ের ছোঁয়া আর সেইসব পুরনো দিনের আবেগ। বছর কেটেছে অনেক, মানুষ এসেছে গেছে। কিন্তু এই দোকান যেন থেমে থাকে এক নিরব গানের সুরে। আজও এখানে এসে মিলিত হয় সেইসব প্রাণ, যাদের জীবনের একটা…
-
দেবজিত সাহা শহরের ব্যস্ততা আর অফিসের ধোঁয়াশার মধ্যে চারজন বন্ধু বহুদিন ধরেই ভাবছিলাম কোথাও একটু বেরিয়ে পড়া দরকার—যেখানে সময়ের গতি ধীর, যেখানে প্রতিটা সকাল নতুন, আর প্রতিটি সন্ধ্যা যেন এক অন্য অনুভব। বহু আলোচনার পরে ঠিক হল—বেনারস। না, কেউ আগে যায়নি। আমরা কেউই জানি না সেই গলির বাঁকগুলো, জানি না গঙ্গার ঘাটে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয়ের সেই রং কেমন, বা বিশ্বনাথ মন্দিরের গম্বুজ দেখে মনে হয় কী! যাত্রার দিন রাতে আমরা পৌঁছাই হাওড়া স্টেশনে। রাত তখন অনেকটাই গড়িয়েছে, প্ল্যাটফর্মে ট্রেন আসার অপেক্ষায় লোকজনের ছোটাছুটি। চারপাশে যেন এক অদ্ভুত উত্তেজনা—অর্ক ব্যাগ গোছাচ্ছে বারবার, সায়ন শেষ মুহূর্তে পাঁপড় আর চানাচুর কিনে ফেলেছে, আর দীপ্ত…