মৌসুমী চাকী জলপাইগুড়ির উত্তর প্রান্তে, টেলিপাড়া থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে একটা পুরনো চা-বাগানের পাশে দাঁড়িয়ে আছে সেই বাড়িটা। স্থানীয় লোকেরা একে বলে—”হানা বাড়ি”। লোকে সন্ধ্যার পর ওদিক মাড়ায় না। কেউ কেউ বলেছে, রাতের আঁধারে বাড়ির জানালা দিয়ে ধোঁয়ার মতো সাদা ছায়া উঁকি মারে, কেউ আবার বলেছে পুরনো ঘড়ির টিকটিক শব্দ রাত ৩টার পরেও শোনা যায়, যদিও ঘড়িটা নাকি বহু আগেই বন্ধ। বাড়িটায় এখন কেউ থাকে না। তবে প্রায় এক দশক আগে এখানে থাকতেন এক রহস্যময় মানুষ—অরিন্দম বসু। কলকাতা থেকে এসেছিলেন। শহুরে ভঙ্গি, অথচ চোখে ছিল কেমন অদ্ভুত বিষণ্ণতা। তিনি চা-বাগানের কাছে বাড়িটা কিনে বেশ কিছুকাল একা একা থেকেছিলেন। লোকমুখে…
-
-
অনির্বাণ দত্ত পর্ব ১: পথচলার শুরু — শ্রীখোলার সকাল পাহাড় মানেই যেন এক অনন্ত মুগ্ধতা। আর সেই মুগ্ধতা যদি হয় বাংলার বুকে — তাহলে তার আবেদনটা হয়ে ওঠে আরও গভীর, আরও আত্মিক। ঠিক তেমনই এক অনুভবের নাম শ্রীখোলা। দার্জিলিং জেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রাম, যেখানে একটানা কুয়াশার চাদরে লুকিয়ে থাকে সূর্য, পাইন গাছের ছায়া পড়ে পাথুরে পথের উপর, আর ছোট ছোট পাহাড়ি নদী যেন গুনগুনিয়ে গল্প বলে। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল আমার পথচলা — শিলিগুড়ির দিকে। সকাল সকাল ঘুম ভাঙল পাখির ডাক আর নদীর শব্দে। শ্রীখোলার হোমস্টের জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই দেখা গেল কুয়াশার চাদর ঢাকা চারপাশের সবুজ পাহাড়। ছোট একটা…
-
বিজয় ৰঞ্জন কলিতা নতুন নাম, নতুন বাৰ্তা ডিম্পীৰ দিনটো বেছ ব্যস্ততাতেই গ’ল। হিতেশে তলত ডেডলাইন দি থোৱা প্ৰজেক্টটো শেষ কৰি লগে লগে ওফিছৰ লিফ্টত সোমাল। আগৰ পৰাই তেওঁ মোবাইলখন silent ৰখাৰ অভ্যাস ৰাখে—এনে অলপ সময়ো নিজক দিব পাৰিবৰ বাবে। কিন্তু আজিৰ দিনটোত বাৰুকৈয়ে মানসিক ক্লান্তি আছিল। ইচ্ছা আছিল—একেজোপা চুপচাপতা, এখন কেতাপ, আৰু এজন মানুহ—যি ক’ব, “তুমি আছা, তাতেই দিনটো বৰ ভাল।” ঘৰত সোমাই ৰঙা চাফা, ধূসৰ পেণ্ট আৰু এখন কেপচুল থকাৰ দৰে বৰণৰ সুঁতি টপ পেলাই ড্ৰেছিং টেবুলৰ কাষলৈ গ’ল। কঁকালখন উঠাই বিছনালৈ পেলাই দিছে। ডিম্পী ফোনটো অন কৰিলে। চাৰিখন notification—ট্ৰেইনৰ টিকট, এখন meme, কাকৰবাইৰ নমস্কাৰ… আৰু এখন অচিনাকি নম্বৰৰ…
-
অনিরুদ্ধ পাল অধ্যায় ১: পুরনো মানচিত্রের ছায়া কলকাতার উত্তরে শ্যামবাজার অঞ্চলের এক পুরনো গলিতে দাঁড়িয়ে ছিল একটি জীর্ণ পোড়ো বাড়ি। গেটের উপরে অর্ধেক ভাঙা পাথরের ফলকে খোদাই করা অক্ষরগুলো প্রায় অস্পষ্ট — শুধু একটি লাইন চোখে পড়ত: “আর্কাইভ অফ টাইম – ১৮৭৪” অর্ণব রায়, কলকাতার এক যুব ইতিহাসবিদ, সম্প্রতি ব্রিটিশ আমলের কিছু হারিয়ে যাওয়া লাইব্রেরি নিয়ে গবেষণা করছিলেন। পুরনো নথি ঘাঁটতে ঘাঁটতে তিনি একটি মানচিত্রে এই গলির উল্লেখ পান — সেখানে লেখা, “লস্ট রিডিং চেম্বার – প্রবেশ নিষেধ”। তাঁর কৌতূহল জাগে। এমন একটি জায়গা কীভাবে এত বছর লোকচক্ষুর আড়ালে রয়ে গেল? একদিন সকালের দিকে তিনি সেই ঠিকানার খোঁজে রওনা দিলেন।…
-
Priyanka Boatbyl The Silent Rhythm The sun dipped low over Bhubaneswar, casting golden hues across the temple spires that rose like sentinels over the city. The air smelled faintly of jasmine and wet earth. In the courtyard of a quiet dance academy nestled behind the Lingaraj Temple, Ankita Ratha moved like flowing water, her body bending with grace, her fingers folding into mudras that told stories older than language. Odissi was her soul. From the age of five, Ankita had trained under the strictest gurus, shedding childhood whims for the discipline of abhinaya and tala. Now, at twenty-seven, she was…
-
মধুমিতা নন্দী পর্ব ১: মাটির ঘ্রাণে আঁকা স্বপ্ন কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির এক নিরিবিলি গলির মধ্যে অবস্থিত ‘রঙপট’—অনিন্দ্য ঘোষের ছোট্ট কিন্তু সুবিখ্যাত চিত্রশিল্প স্টুডিও। স্টুডিওর ভেতরটা যেন এক বিচিত্র জগৎ। দেয়ালে ক্যানভাসে আঁকা আধুনিক বিমূর্ত শিল্প, মেঝের কোণে রাখা ভারতীয় লোকশিল্পের নিদর্শন, আর চারপাশে বইয়ে ঠাসা তাক। প্রতি সকালে, একটি বড় কাপে কালো কফি হাতে নিয়ে অনিন্দ্য সেখানে কিছু সময় কাটান। সেই সময়টাই যেন তাঁর ভ্রমণপথের সূচনা। অনিন্দ্য ঘোষ—পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই বয়স, গায়ের রঙে রোদে পোড়া দাগ, চুলে পাক ধরেছে বেশ কিছুটা, কিন্তু চোখদুটোতে এখনও শিল্পের দীপ্তি। একজন একাডেমিক শিল্পী হলেও লোকশিল্পের প্রতি তার আকর্ষণ ছিল অনন্য। তিনি মনে করেন, শহরের…
-
அருபி சிறு கதவுகள், பெரிய சுவர் விழுந்திருந்த மழை இன்னும் நெளியவேயிருந்தது. நெளி கொண்ட வழியிலேயே இரங்கா கால்களை மெதுவாக எடுத்து வைத்துக் கொண்டு நடந்தாள். கால்களில் பட்ட நெளி மட்டும் இல்லாமல், சிந்தைகளிலும் ஒரு பசிச் சுமை. வானத்துக்குமேல் பாரம் சுமக்கிற மாதிரி இருந்தது அவளுக்கு. அவளது வீடு—தாழ்த்தப்பட்ட சமூகத்தின் எல்லையில், ஒரு ஓரத்தில் சாய்ந்துகிடந்த ஒரு குடிசை. வீட்டுக்கு ஒரு கதவுதான், அது கூட முழுக்க மூடாது. பக்கத்தில் கட்டப்பட்ட ஓர் இளம் நெருப்புக்கல்லில் அமர்ந்திருந்தாள் அவள் தாய், சரசம்மா. முகத்தில் கிழிந்த குறைவு போலவே, வாழ்க்கையின் மீது ஏற்கனவே சலிப்பு வந்திருந்தது. “இன்னைக்கு நம்மள பாத்துப் பள்ளிக்கூடத்துல யாரும் ஏன் பேசல?” இரங்கா கேட்டாள். பதிலாக ஒரு மருந்துக் குழம்பு போல அமைதி. பிறகு சரசம்மா மெதுவாக சொன்னாள், “நீ என்னதான் கெட்டிக்காரியா இருந்தாலும், நம்ம ரத்தத்தே ஒழிக்க முடியாது கண்ணே.” அந்த வார்த்தைகள் இரங்காவின் இரத்தத்தையே…
-
Aniket Chattopadhyay The smell of the river has always told stories. Standing at Babu Ghat as the sun dipped into the golden arms of the Hooghly, I—Aniket Chattopadhyay, a retired history professor—closed my eyes and heard the city breathe. I had spent over six decades in Kolkata, but today, I decided to write her biography—not with dates and footnotes, but with emotion. Because this city, like all great cities, is a living, breathing paradox. Chapter 1: Kalikata Before It Was Kolkata Long before trams clanged and Howrah Bridge stretched like a steel dragon, the land where Kolkata stands today was…
-
রাহুল দেব কলকাতার এক অফিসে প্রতিদিন আটটা থেকে আটটা কাজ করার রুটিনে বন্দি হয়ে গেছিলাম আমি—ঋষি সেন, বয়স তেইশ, সদ্য চাকরিতে ঢুকেছি। শহরের কোলাহল, ঘাম, ধুলো আর একঘেয়েমির মধ্যে হাঁসফাঁস করে কেবল একটা শব্দ মাথায় ঘুরছিল—‘পালিয়ে যাই।’ জুন মাসের এক রাতে, ঘরে বসে ইউটিউবে দেখে ফেললাম কেদারনাথ যাত্রার একটি ভিডিও। বরফে ঢাকা পাহাড়, মানুষের ভক্তি, আর এক অদ্ভুত একাকীত্ব—যা মনটাকে টানতে লাগল। পরদিনই অফিসে ছুটি নিয়ে ট্রেনের টিকিট কাটা হল—প্ল্যানটা সোজা— হাওড়া থেকে হরিদ্বার। সেখান থেকে রুদ্রপ্রয়াগ হয়ে গৌরীকুণ্ড, আর তারপর শুরু হবে সেই পৌরাণিক যাত্রা—পায়ে হেঁটে ১৬ কিমি। দুন এক্সপ্রেস। রাত ১১টা ৫৫-এ হাওড়া ছাড়ল। জানালার পাশে বসে গরম…
-
প্রিয়াংশু অধিকারী ১ দার্জিলিঙের পাহাড়ি হাওয়া সেই সকালে একটু বেশিই কাঁপুনি ধরাচ্ছিল। সূর্য উঠলেও তার আলো ছিল ফিকে, যেন কোনো অজানা অন্ধকারের আঁচ লেগে আছে আলোতেও। ম্যাল রোডের একদম শেষপ্রান্তে ‘হোটেল শেরপা ভিউ’। নামটা শোনার পর মনে হয়, জানালা খুললেই দেখা যাবে কাঞ্চনজঙ্ঘা। আর দেখা যেতও। কিন্তু আজ, হোটেলের ঘর নম্বর ২০৭-এর জানালায় চুপি চুপি নেমে এসেছে পুলিশি টেপ। সেখানে বিছানার চাদরে ছড়িয়ে আছে তাজা রক্ত। মৃত এক পুরুষ। মুখ থুবড়ে পড়া, চোখ দুটো খোলা, আর হাতে এক ফোঁটা কালি লেগে আছে। দীপেন রায়। বয়স পঞ্চান্ন। কলকাতার এক নামকরা পরিবহণ ব্যবসায়ী। প্রতিবছর এই সময়টা সে দার্জিলিঙে আসতেন একা, “চা আর…