অমিয় দাসগুপ্ত 📜 অধ্যায় ১ বীরভূমের বুক চিরে যে সরু মেঠো পথগুলো কুড়ুলগাছ, শিমুলগাছের ছায়ায় মিশে গেছে শূন্যের অতলে, সেই পথে রাতের নিস্তব্ধতায় শুধু শোনা যায় দূরের শিয়ালের ডাক আর ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা সুর। সেদিনের রাত যেন আর পাঁচটা রাতের মতো নয়। পূর্ণিমার আলোয় ভিজে থাকা সেই রাত কেমন এক গা ছমছমে হাওয়ায় কেঁপে উঠছে বারবার। মহলপুরের সেই বিশাল প্রাসাদ—যার উঁচু মিনারগুলো আকাশ ছুঁয়েছে, যার সিংহদ্বারে দু’পাশে পাথরের বাঘ দাঁড়িয়ে আছে মাথা উঁচু করে, যার অন্দরমহলের অজস্র জানালা দিয়ে মৃদু বাতাস ঢুকে পড়ছে, সেই প্রাসাদের মধ্যে জ্বলছে শুধুমাত্র দুটি প্রদীপ। জমিদার অনন্ত নাথ রায় একাকী বসে আছেন দোতলার দক্ষিণ কোণের…
-
-
মোহর গঙ্গোপাধ্যায় এক হঠাৎ ভোরবেলা ঘুম ভাঙতেই মহুয়ার চোখে যেন ধূসর একটা পর্দা নামল—নিজের ঘরটা চেনা লাগল না। আলোটা ঠিক কীভাবে জানালার ভেতর দিয়ে ঢুকছে, কিংবা বিছানার পাশের বইগুলো এত এলোমেলো কেন, বুঝে উঠতে পারল না সে। নিজের শরীরটা যেন নিজের নয়, মুখের চামড়া অচেনা ঠেকছে, চুলের গন্ধ অন্যরকম, এমনকি ঘুম থেকে উঠে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যে মুখটা সে দেখল, তা যেন অচেনা কারও। ছিপছিপে, ঘাড়ের ডানদিকে ছোট একটা আঁচড়ের দাগ—যেটা তো তার থাকার কথা নয়! সেই মুখ তার দৃষ্টির দিকে ফিরেও তাকাল না, বরং এক অদ্ভুত নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে তাকিয়ে রইল। মহুয়া ব্যস্ত কর্মজীবনের মানুষ, ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে দৌড়ে বাঁচে—তবু…
-
Tushar Samanta 1 The leash still hung on the wooden peg behind the door—looped neatly, as if Bruno might return any moment and nose it with the soft thump of his tail. But the house knew better. It echoed differently now, like it, too, had fallen silent since Sukrit stopped speaking. The once-lively mornings, when Bruno’s barks woke up the sleepy sun and Sukrit raced him to the kitchen for treats, had been replaced by a strange stillness. The boy who used to talk to butterflies and name the clouds had now become a shadow in his own home. He…
-
கிருஷ்ணமூர்த்தி ராகவன் பகுதி 1 – சாமான்ய பெண்ணின் காலை அந்த காலை அவள் கண்களைத் திறந்ததும், பழைய லட்சுமி சடையின் நெருப்பு வாசனை, நெற்றி குங்குமம், கதவு வழியாக புகும் வெளிச்சம், எல்லாமே பழக்கம் போல இருந்தது. ஜெயசீதா—பள்ளி ஆசிரியையான அவள்—மலையெல்லாம் தூறிய மழையின் சத்தத்தில் விழித்தாள். கோபுரக்குடிசியில் இருக்கும் வீடு, இரும்பு கூரை, மேகக் கொட்டத்தில் பீடி போல நனைந்துவிடும். ஆனால் ஜெயசீதாவுக்கு அதுவும் ஒரு அழகான பாசம். பையன் கார்த்திக் இன்னும் தூங்கிக்கொண்டிருந்தான், தூக்கத்தில் சத்தம் கேட்கும் போதும், சரியாக ஒரு கணம் விழிக்கிறான், பிறகு மீண்டும் உறங்கிச் செல்கிறான். அவனது முகத்தில் படர்ந்திருந்த அமைதி, அவளுக்கு ஒரு காரணமில்லாத நிம்மதியாக இருந்தது. அவள் மெதுவாக எழுந்து சமையலறைக்குப் போனாள். சாயம் குழம்பும், தோசைக்கும் மாவும், வெந்தயக் கீரை மசியலும் அவள் நினைவில் ஓடின. எப்போதும் போல, இன்று காலையிலேயே பள்ளிக்குப் போனாக வேண்டியது. ஆனால் இன்று…
-
Soma Sen Chapter 1: The Ink That Blurs Souvik Khurana hated the sound of pens scratching against paper. To most people, it was nothing more than a background noise—a classroom lullaby of sorts—but to him, it was a cruel reminder of how far behind he always was. The letters on the page swam before his eyes, shifting, twisting, smudging themselves into shapes that looked like words but refused to be read. The old classroom in North Campus smelled of musty books, spilled coffee, and ambition. Dust danced in the afternoon light pouring in through the broken blinds of the Arts…
-
अमूलिक त्रिपाठी 1 गाँव की आखिरी गली में खड़ा बांस का पेड़ अब बूढ़ा हो चला था। उसकी शाखाएँ जैसे समय के हाथों से झुक गई थीं, और पत्तियाँ… हर साल कम होती जा रही थीं। उसी पेड़ के नीचे आज भी वही पुराना पत्थर पड़ा था, जहाँ कभी शाम को सोनू, रमिया और बाकी दोस्त बैठा करते थे। अब ना वो शोर था, ना कहकहे, बस एक सन्नाटा था जो हर चीज़ में रिसता चला आया था। सोनू वहीं बैठा था, मोबाइल की स्क्रीन पर उँगलियाँ घुमा रहा था, लेकिन आँखें कहीं और थीं। कानों में हल्की आवाज़ में…
-
Aparna Basu অধ্যায় ১: স্বপ্নের বীজ শীতলডাঙ্গা গ্রামের সকালগুলো খুব বেশি বদলায় না, বছরের পর বছর ধরে একই ছন্দে বয়ে যায় এখানকার সময়। মাটির রাস্তা বেয়ে গরুর গাড়ির চাকা আঁকিবুঁকি কেটে চলে, ঝুপড়ি ঘরের চালার ফাঁক দিয়ে প্রথম রোদের আলো মাটির উঠোনে ছড়িয়ে পড়ে, আর বনে-পাহাড়ে শাল-পলাশের গন্ধ মিশে যায় হাওয়ার সাথে। সেই হাওয়াতে ভেসে আসে পাখিদের ডাক, যেটা প্রতিদিন ঘুম ভাঙায় গ্রামের মানুষদের। শীতলডাঙ্গার শেষপ্রান্তে, বাঁশঝাড়ের পাশে এক মাটির ঘর, খড়ের ছাউনি দেওয়া। সেই ঘরে থাকে মুক্তা, বারো বছরের কিশোরী মেয়ে, যার চোখে আছে বিশাল স্বপ্নের জগৎ, যদিও সেই স্বপ্ন এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। মায়ের ডাকেই তার সকাল শুরু…
-
হিমাংশু বৰা গাঁৱঁখনৰ গুজব সৰাইগাঁও। নামটো শুনিলেই যেন কাণৰ ভিতৰত ধ্বনি বাজে বাঁহী, ঢোল আৰু বিহুৰ গীতৰ। গাঁওখন বৰ ডাঙৰ নাছিল—মুঠে পাঁচখন পথ, এখন প্ৰাইমাৰী স্কুল, এখন দুখন দোকান থকা বজাৰ আৰু এঘৰীয়া মানুহৰ জীৱন। গাঁওখনৰ প্ৰতি কোণত যেন সময় থমকি ৰৈ আছে। সেই সময়ৰ ভিতৰতে অলেখ কাহিনী। কিন্তু আটাইতকৈ বিখ্যাত কাহিনী—বিহুৰ আগৰ নিশা। “বিহুৰ আগৰ নিশা ত ভূতৰ নিশা!”—এইটো আছিল সৰাইগাঁৱৰ আটাইতকৈ বেছি কোৱা বাক্য। গাঁওখনৰ প্ৰায় সকলো লোকে—বুঢ়া-আতাই, হালধীয়া পানী খোৱা জেঠা, চাওল বাটেৰে অহা কাকাই—সকলোয়ে ক’ব, “বিহুৰ আগৰ নিশা কোনোবাই বাহিৰ ওলাব নালাগে।” অজয় আহিছিল গুৱাহাটীৰ পৰা, হোষ্টেলৰ বন্ধ হোৱাৰ পাছত। মাতামহীৰ ঘৰ, গাঁৱৰ পশ্চিম পাৰত। ডাঙৰ…
-
প্রীতম ১ শিয়ালদহ স্টেশনের বিকেলের চেনা ব্যস্ততা। প্ল্যাটফর্ম নম্বর পাঁচে লোকাল ট্রেন এসে দাঁড়ালে যে শব্দটা ওঠে—লোকের হাঁটার, announcements-এর কণ্ঠস্বর, ভ্যাপসা গরমে বাতাসের কম্পন—সেইসব কৌশিকের কাছে নতুন কিছু নয়। গত ছয় মাস ধরে, রোজ এই সময়েই, সে দাঁড়ায় একই জায়গায়—একটা পুরনো চায়ের দোকানের পাশের হলুদ রঙের খুঁটির সামনে। তার রুটিন প্রায় যন্ত্রের মতো: অফিস থেকে বেরিয়ে ট্রাম ধরে স্টেশন, তারপর সেই নির্দিষ্ট কোচে উঠে বাড়ি ফেরা। কিন্তু আজ কৌশিকের মন একটু অস্থির। সে ঠিক জানে না কেন। হয়তো কারণ, গত তিন দিন ধরে সে যার মুখ খুঁজছিল, সেই মেয়েটিকে দেখতে পাচ্ছে না। মেয়েটির নাম জানে না কৌশিক। তারা কোনোদিন কথাও…
-
সৌমেন লাহা পর্ব ১: স্টেশনের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া শিয়ালদহ স্টেশনের বিকেলের ভিড়ে হঠাৎ এক চিৎকার কানে এলো—”রুচি! রুচি কোথায় গেলি?” লোকজন থমকে দাঁড়াল, কেউ মোবাইল বের করল, কেউ ঝুঁকে তাকাল, কিন্তু কারও চোখে কিছু ধরা পড়ল না। মেয়েটির নাম কৃশা সেন। সাংবাদিক। তার ছোট বোন রুচিরা সেন, প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী, হঠাৎ স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম নম্বর ৮ থেকে নিখোঁজ হয়ে গেল। কিছু বলার সুযোগই দিল না। দু’জনে একসাথে দাঁড়িয়ে ছিল, ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিল, আর সেই ফাঁকেই রুচি যেন বাতাসে মিলিয়ে গেল। পুলিশ রিপোর্ট করেও কোনও লাভ হয়নি। কৃশা জানত, পুলিশের হাতে এই কেস দিলে তা জমা থাকবে ফাইলে। তাই…