১ শীতের শুরুতে কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়া সকালটা চক্রপুর রেলস্টেশনে থেমেছিল মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য। ছোট একটা প্ল্যাটফর্ম, দুই পাশে ধানখেত, মাঝখানে লালমাটির পথ—নেমেই অরিজিৎ বুঝে গিয়েছিল, এখানে সময় একটু ধীরে চলে। তার পায়ের কাছে গুটিগুটি করে হেঁটে যাওয়া কুকুরটা যেন তাকিয়ে বলছিল, “তুমি নতুন এসেছো, বুঝি?” সল্টলেক থেকে বেরিয়ে প্রায় ছ’ঘণ্টার সফর শেষে সে পৌঁছেছে এই প্রত্যন্ত গ্রামে, গবেষণার কাজে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতি বিভাগের অন্তর্গত একটি সাবজেক্ট — “লোকজ তন্ত্র এবং বাংলার গ্রামীণ সমাজে তার প্রভাব” — এর ওপর MPhil থিসিস করছে অরিজিৎ। বহু পড়াশোনার পর ও খোঁজ পেয়েছিল এই চক্রপুর গ্রামের, নদীর ধারে এক অচেনা নাম,…
-
-
ঋতুজিৎ বৰা অংশ ১: বননীৰ চিঠি গুৱাহাটী চিটাগাঁও ৰোডৰ দাঁতিত এখন পুৰণি জীপগাড়ী ৰৈ আছে। শীতল পুৱা, ডিচেম্বৰৰ কুঁৱলীয়ে পথবোৰ আগৰ দৰে ধৰি নাৰাখে। পানীত গৰম বাষ্প উঠিছে, আকাশটো ধোঁৱাধোঁৱালি। এইবোৰৰ মাজত গাড়ীখনৰ সন্মুখত উভতি আহিছে জয়ন্ত—পঁইচালী বয়সৰ, সূতীয়া জেকেট পিন্ধা, চুলি পাতল, চকুত এখন পাহাৰৰ দৰে দৃঢ়তা। তেওঁৰ হাতত এখন চিঠি। পাণ্ডুলিপিৰ দৰে লিখা চিঠিখন দুচকুৰ পাতল কপালখনত গৰম শ্বাস লয়। চিঠিখনত এখন নাম—”বননী”। নামটো বুকুৰ মাজৰ বহলতাত বাজে যেন এটি পুৰণি বাদ্যযন্ত্ৰৰ নীচু টোক। দীঘল চুপিচাপতা ভাঙি তেওঁ ওচৰৰ এখন চাহৰ দোকানত সোমাল—‘সঁচা চাহ’। দোকানখন পুৰণি, মাটিৰে তামাম, কাষত তিনিচাৰটা বেঞ্চি, চালত শুঁটিকাঠৰ চালনি। চাহৰ গোন্ধ, জিলিকা মাটিৰ…
-
আদ্রিজা লাহা পর্ব ১: সাদা শাড়ির ছায়া রেললাইনটা আজও আছে। ছড়িয়ে থাকা লোহালক্কড়ের শরীর, ঘাসে ঢাকা পড়ে গেছে বেশিরভাগ অংশ। নাম তার “লাইন নম্বর সাত”—তবে এখন কেউ আর নাম নেয় না। ষ্টেশনের পুরনো স্টাফরা বলেন, “ওটা তো ভূতের জায়গা।” নতুনরা হাসে, পুরনোরাও হাসে, তবে একটু ঠোঁট চেপে। কারণ একটাই—প্রতি বছর, নির্দিষ্ট দিনে, একটা সাদা শাড়ির মেয়ে সেখানে দেখা যায়। একই সময়, একই কায়ায়। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ঠিক দুপুর একটা কুড়ি। আর এই বছর, লাইব্রেরির গবেষক রুদ্রচরণ সরকার এসেছেন শহরটার ফেলে আসা ইতিহাস ঘাঁটতে। কলকাতা থেকে এসেছেন, একরকম সরকারি ফেলোশিপে। তার আগ্রহ ইতিহাসে নয়, সেই ইতিহাসের ‘গল্প’-এ। শোনেন, লেখেন, বিশ্লেষণ করেন, আর…
-
অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ১. মহুয়ার গন্ধে ডুবে মধ্যরাতের সোঁদা গন্ধটা যেন গায়ে লেগে আছে। মহুয়া গাছের তলায় দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল, আমি কোন শহরের বাসিন্দা ছিলাম না কোনোদিনই। লাল মাটির রাস্তা, অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া একটানা বাঁক, আর সেই বাঁকের ওপারে যেন অপেক্ষা করে আছে কোন অচেনা কিছু, এক রহস্য—জঙ্গলের রহস্য। আমি নেহাতই এক নগরপ্রেমী মানুষ। কলকাতার ট্র্যাফিক, অফিসের তাড়া, বইপত্র আর রাত্রির ঘুমহীনতা নিয়ে আমার জীবন। তবু বছর খানেক আগে এক বন্ধুর পাল্লায় পড়ে ঝাড়খণ্ডের দালমা পাহাড়ের ধার ঘেঁষে এক জঙ্গলসাফারিতে গেছিলাম, আর সেখানেই আমার জীবনের গল্পটা একটু বদলে যায়। সে রাতে আমরা ছিলাম “চিলমারি কটেজ” নামে এক ছিমছাম, কাঠের ঘরের মতো…
-
अनामिका जोशी 1 शाम की हवा में अजीब सी उदासी थी, जैसे दिन अपने पैरों के निशान समेट रहा हो। दिल्ली के हज़रत निज़ामुद्दीन स्टेशन पर मयंक एक बेंच पर बैठा था, अपने नीले डफल बैग के ऊपर कोहनी टिकाए, और दूसरी ओर एक किताब पकड़े—”Norwegian Wood”। कानों में ईयरफोन, लेकिन कोई गाना नहीं चल रहा था। बस, शोर से खुद को काटने की एक कोशिश थी। उसे ट्रेन पकड़नी थी—जयपुर जाने वाली इंटरसिटी। पहली नौकरी, पहली पोस्टिंग, और पहली बार दिल्ली छोड़ना। भीतर कुछ हल्का सा डर भी था और थोड़ा गर्व भी। आसपास लोग भागदौड़ कर रहे थे,…
-
Lekha Chatterjee Part 1: The First Sip of Silence It was a Tuesday morning wrapped in clouds, the kind where the sun hides not out of shyness but out of habit. Aanya padded barefoot across the wooden floor of her apartment, the chill of the early hour clinging to her skin. She liked these quiet stretches before the world pressed in with its emails and errands, before her phone began to buzz like a restless bee. She reached for the cupboard that held her teas. It was a ritual more than a craving now—a way to begin, to anchor the…
-
মেঘমল্লার দে পর্ব ১ : ভেজা চায়ের ঘ্রাণ কলেজ থেকে বেরিয়ে রোদ্দুরহীন আকাশটার দিকে তাকিয়ে ছিল অয়ন। না মেঘ, না রোদ, একটা ধূসর ধূ-ধূ দুপুর—যে দুপুরে না ফিরে যেতে ইচ্ছে করে, না এগোতে। মাথার ভেতর ঘুরছিল অসমাপ্ত প্রেজেন্টেশনের স্লাইড আর তপতী ম্যামের রাগী মুখ। একটা মেসেজ এল ফোনে— “Where are you?” প্রিয়া। গার্লফ্রেন্ড নয়, আবার বন্ধুও নয়। একটা স্ট্যাটাসের মতো কিছু, যেটা undefined। অয়ন উত্তর দিল না। শুধু ব্যাগটা কাঁধে তুলে রাস্তায় নেমে এল। আর তখনই বৃষ্টি পড়ল। হঠাৎ। নির্লজ্জ, নির্দয়, নির্ভুল। অয়ন পকেট থেকে ছাতাটা বার করল না। ইচ্ছে করেই। কেমন একটা শীতল জল এসে কপালের কোণ দিয়ে গড়িয়ে…
-
ঐন্দ্রিলা ঘোষ পর্ব ১ কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের পাশে পুরনো এক নাট্যমঞ্চ—‘অভিনয়তীর্থ’। কাঠের চেয়ারগুলো বেশিরভাগই চিড় খাওয়া, আলো আধারির খেলায় ঘরটা যেন কোনও এক অদৃশ্য গল্পের প্রেক্ষাগৃহ। সেখানেই প্রথম দেখা হয়েছিল তার সঙ্গে। ঋভু তখন সদ্য বাইশে পা দেওয়া, ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। নাটকে আগ্রহ ছিল, কিন্তু কখনও সিরিয়াস কিছু করেনি। বন্ধুদের সঙ্গে ফাঁস কাটানোর উদ্দেশ্যেই এসেছিল ওয়ার্কশপে। কিন্তু যেই মুহূর্তে মঞ্চে দাঁড়ালেন তিনি, সবাই যেন নিঃশব্দে থেমে গেল। সাদা কুর্তার ওপর হালকা নীল শাল, পায়ে হাওয়াই চটি, চোখে গাঢ় কাজল—এবং সেই চোখজোড়া, যেন অনেক জন্মের ক্লান্তি আর অভিমান নিয়ে জমে আছে। নাম বললেন নিজের মতো করে—“আমি ঈশানী সেন। নাট্যকার, নির্দেশক। আগামী…
-
Aisha Verma Part 1 The first time Neil saw Siya, she was hurling a half-eaten vada pav at a man twice her size in front of Andheri Station. It hit the man square in the chest, splattering red chutney like a bloodstain on his white shirt. A crowd had gathered, of course. Cameras were out. Someone was live-streaming. Neil had been passing by, DSLR in hand, mind elsewhere, when the chaos sucked him in like Mumbai traffic at peak hour. “Don’t touch me!” Siya yelled, her voice sharp as a glass shard. The man, red-faced, lunged at her, but Neil…
-
নবনীতা বসু পর্ব ১: “যে চিঠি লেখা হয়নি কখনও” কলকাতার গলিগুলো রাত বারোটার পর অন্যরকম হয়ে যায়। আলো কমে আসে, ট্রামলাইনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছায়াগুলো যেন একটু লম্বা হয়, আর পুরনো বাড়িগুলোর জানালায় সময় দাঁড়িয়ে থাকে। ঠিক যেমন দাঁড়িয়ে থাকে ৩৫, বেণীপুর লেনের পুরনো দোতলা বাড়িটা, যার একতলায় ভাড়া থাকে অনুরাধা। সদ্য চাকরি পেয়েছে, একটা ডিজাইনিং এজেন্সিতে ক্রিয়েটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট। কলেজ স্ট্রিট থেকে বেশি দূরে নয় এই ফ্ল্যাট, আর বাড়িটাও সস্তায় মিলে গেছে বলে না ভাবলেও চলে। বাড়ির ভেতর ঢুকতেই একটা পলকা গন্ধ এসে লাগে তার নাকে—পুরোনো কাপড়, একটু ভ্যাপসা, আর কোথাও ধুলো মাখা কাঠের। অনুরাধা যদিও গন্ধ নিয়ে খুব একটা…